Tuesday, July 4, 2017

11>দুইটি অসাধারন অজানা তথ্য Dr BC Roy + Mira Deb Barman


11>দুইটি অসাধারন অজানা তথ্য

(সংগ্রহ)

1>ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জীবনের সামান্য কিছু

যা বোধহয় অনেকেরি অজানা------

2>মীরা দেব বর্মন।শচীন দেববর্মণের সহধর্মিণী।

================================

1>ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জীবনের সামান্য কিছু

যা অনেকেরি অজানা------

আশা করি পড়ে ভাল লাগবে।

জানাজাবে কিছু বোধহয় অজানা তথ্য-----




ঠাকুমা আদর করে নাম রেখেছিলেন ভজন। মেধাবী ছেলেটা উচ্চশিক্ষার জন্য পাটনা থেকে চলে এলেন কোলকাতায়। ডাক্তারি পড়বার বিশেষ ইচ্ছে ছিলোনা তাঁর। তবুও শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ আর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, ফর্মের জন্য আবেদন করেছিলেন দু'জায়গাতেই। ডাক্তারির ফর্মটা আগে আসায় ওটাতেই আবেদন করলেন। পরে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ফর্ম এলেও আবেদন করা আর হয়ে ওঠেনা। চান্স পেয়ে ডাক্তারি পড়া শুরু করলেন তিনি। থাকতেন কলেজস্ট্রিট Y.M.C.A.-তে। অর্থাভাব প্রবল, জানতে পেরে মাস্টারমশায়রা তাকে অবসর সময়ে ধনী-রোগীদের বাড়িতে মেল-নার্স হবার সুযোগ করে দিলেন। তখন সেই কাজে রোগীর বাড়িতে বারো ঘণ্টায় পারিশ্রমিক আট টাকা।




যাই হোক পড়াশুনোর চাপ, আর্থিক অসঙ্গতি, কাজের চাপ, সবকিছু ঠিকঠাক সামলাতে না পেরে, কোলকাতা মেডিক্যাল কলেজের M.B. পরীক্ষায় ফেল করলেন তিনি। অবশ‍্য পরবর্তীকালে সেই তিনিই মাত্র ১২০০টাকা সম্বল করে বিলেত গিয়ে দু’বছরের মাথায় মেডিসিন ও সার্জারির চূড়ান্ত সম্মান M.R.C.P. এবং F.R.C.S. প্রায় একই সঙ্গে অর্জন করেছিলেন। ১৯১১ সালে ভজন যখন বিলেত থেকে কোলকাতায় ফিরলেন তাঁর কাছে মাত্র পাঁচ টাকা। প্র্যাকটিস জমাবার প্রথম পর্বে ডাক্তারির পাশাপাশি কোলকাতার রাস্তায় পার্ট-টাইম ট্যাক্সি চালাতেন ভজন। ঠিক সেই সময়েই তিনি প্রেমে পরলেন এক পরমাসুন্দরী যুবতীর, যাঁর বাবা আবার তখনকার দিনের এক বিরাট নামকরা ডাক্তার। নব্য ডাক্তারের নামডাক একটু আধটু হলেও পশার তেমন হয়নি তখনও। তবু বুকে সাহস জুগিয়ে যুবক সেই খ‍্যাতনামা ডাক্তারের কাছে গেলেন তাঁর মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব নিয়ে। বিয়ের প্রস্তাব শুনে সেই নামকরা ডাক্তার নব্য ডাক্তার কে ব‍্যঙ্গ করলেন খুব। জানিয়ে দিলেন, তাঁর মেয়ের দৈনিক প্রসাধনী আর আনুসাঙ্গিক খরচার পরিমান যুবকের মাসিক আয়ের থেকে বহুগুণ বেশি, তাই এই বিয়েতে তাঁর সম্মতি নেই। অপমানিত যুবক একবুক যন্ত্রণা নিয়ে ফিরে এলেন। নিজের পরিণতি না পাওয়া ভালোবাসার মর্যাদা দিতে বাকিজীবন অবিবাহিত ছিলেন তিনি।




পরবর্তীকালে সেই ভজন ডাক্তারের চিকিৎসা-খ্যাতি একদিন কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের প্রভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন ভজন। বিরাট মাপের ডাক্তার তো ছিলেনই তাঁর সাথে হয়ে ওঠেন এক বিরাট মাপের রাজনৈতিক নেতাও। প্রথমে তিনি কোলকাতা কংগ্রেস-এর সাধারণ সম্পাদক ও পরে কোলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৪২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত হন। ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থীরূপে আইনসভায় নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে গ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের 'মুখ্যমন্ত্রী'র দায়িত্বভার। যখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলেন তার আগের মাসেও ডাক্তারি থেকে তাঁর আয় ছিলো ৪২০০০টাকা অথচ, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে নিজেই নিজের মাইনে ঠিক করলেন মাত্র ১৪০০টাকা।




তাঁর চোদ্দো বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বকালে নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রভূত উন্নতি সম্ভব হয়েছিল। শিল্পসমৃদ্ধ বাংলা গড়তে তাঁর ত্রুটিহীন পরিকল্পনায় স্থাপিত হয়েছিলো 'দুর্গাপুর ইস্পাতনগরী', 'চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা' ইত্যাদি। বাসস্থানের জন্য তিনি তৈরি করলেন তাঁর প্রেমিকার নামে 'কল্যাণী উপনগরী', 'লেক টাউন', 'লবণহ্রদ নগর'। দুগ্ধ সরবরাহের জন্য গড়ে তুললেন 'হরিণঘাটা দুগ্ধপ্রকল্প'। শিক্ষিত বেকারদের বিপুল পরিমাণে কর্মনিয়োগের জন্য তৈরি করলেন 'কোলকাতা রাষ্ট্রীয় সংস্থা' আরও কত কী! এইসব কারণেই তাঁকে 'পশ্চিমবঙ্গের রূপকার' নামে অভিহিত করা হয়। ১৯৬১ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান 'ভারতরত্ন'-এ ভূষিত হন। মৃত্যুর পর তাঁর সম্মানে কলকাতার উপনগরী 'লবণহ্রদ'র নামকরণ করা হয় তাঁর নামে (বিধাননগর)। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন (১ জুলাই) সারা ভারতে পালিত হয় "চিকিৎসক দিবস" রূপে।




হ্যাঁ, একদম ঠিক ধরেছেন। এতক্ষণ যাঁর কথা বলছিলাম তিনি ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়, তাঁর সেই প্রেমিকার নাম কল্যাণী সরকার আর প্রেমিকার বাবার নাম ডঃ নীলরতন সরকার।

≠==============================

2>মীরা দেব বর্মন।শচীন দেববর্মণের সহধর্মিণী।




মীরা দেব বর্মন ছিলেন প্রকৃত অর্থেই আমাদের প্রিয় শচীন দেববর্মণের সহধর্মিণী ।অথচ তাঁকে আমরা কতটুকু জানি!




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শেষে ছুটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে । নাড়ির টান বলে কথা ! যখন ফিরছিলেন গ্রামের পুকুর পাড় দিয়ে, দেখলেন চোদ্দ পনেরো বছরের একটি মেয়ে পুকুর পাড়ে বসে কাঁদছে । জিজ্ঞেস করায় মেয়েটি বলল তার সবে বিয়ে হয়েছে, ভাইয়ের আসার কথা বাপের বাড়ি থেকে, নিয়ে যাওয়ার জন্য । সকাল থেকে অপেক্ষা ক'রে ক'রে খুব ক্লান্ত সে, অথচ ভাইয়ের দেখা নেই । বাড়ি ফিরেই সংবেদী হৃদয় নিঙড়ে বেরিয়ে এল -

'কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া

আমার ভাই ধনরে কইও নাইয়র নিত আইয়া '।




পণ্ডিত ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নেওয়ার পর কীর্তন ও ঠুমরির শিক্ষাপর্ব সঙ্গীতাচার্য ধীরেন্দ্রনাথ দেবের কাছে । রবীন্দ্রসঙ্গীত সহ আরো অনেক ধারাতেই মীরার অনায়াস স্বাচ্ছন্দ্য ছিল । স্বামী পুত্রের জনপ্রিয়তায় অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে মীরার নাম । "বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে, শোন গো দখিন হাওয়া, আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই" - শচীনকর্তার এইসব কালজয়ী গান সৃষ্টিই হত না যদিনা মীরার অমন একখানা গীতিকারের হাত থাকতো । গানের কথায় চিত্রকল্প আঁকা সহজ নয়, মীরা কি অনায়াসে তৈরী করেছেন এক একটি অসামান্য গান, যেমন -

"নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক

পায়েল খানি বাজে

মাদল বাজে সেই সঙ্গেতে

শ্যামা মেয়ে নাচে" --

কৃষ্ণকায়া এক রমনীর পা নিয়ে এমন গীতরচনা ক'জন করেছেন, জানা নেই ।

মীরা শেষ জীবন কাটিয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীনতায়, এক বৃদ্ধাশ্রমে । রাহুল যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন মীরা ছেলের কাছেই ছিলেন সান্তাক্রুজের বাড়িতে। পুত্রশোক তাঁকে শেষ করে দেয়। এই অবস্থায় তাঁর অসম্ভব জনপ্রিয় পুত্রবধু, আশা ভোঁসলে অতি সন্তর্পণে তাঁকে রেখে আসেন বৃদ্ধাশ্রমে । 2007 সালের পনেরোই অক্টোবর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ত্রিপুরা সরকার মীরি দেববর্মণকে কোন একটা সাম্মানিক পুরস্কার দিতে গেলে সান্তাক্রুজের বাড়িতে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায় না । বহুকষ্টে অনেক খুঁজে সেই বৃদ্ধাশ্রমে পাওয়া যায় অশীতিপর মীরাকে। এমনকি বৃদ্ধাশ্রমের মালিকও সেদিনই প্রথম জানতে পারেন যে তার বাড়িতে ধুঁকে ধুঁকে এতগুলো বছর কাটিয়ে দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গীতিকবিতার স্রষ্টা মীরা দেব বর্মন ।




( সংগৃহীত )

No comments:

Post a Comment