Tuesday, September 18, 2018

18>শ্রী শংকরাচার্য্য (আদি শংকরাচার্য্য )

18>শ্রী শংকরাচার্য্য (আদি শংকরাচার্য্য )
                <---------আদ্যনাথ-------->( © )

জন্ম---৭৮৮ খ্রিস্টাব্দ- কালাডি, চের রাজ্য,
                          (অধুনা কেরল, ভারত)

মৃত্যু---৮২০ খ্রিস্টাব্দ- ৩২ বৎসর
              কেদার নাথ,পাল সাম্রাজ্য।
             (অধুনা উত্তরাখন্ড, ভারত)

শ্রী শংকরাচার্য্য(আদি শংকরাচার্য্য )
এর জীবনের কিছু সামান্য অতি মূল্য বান  তথ্য যা সংগ্রহ করতে পেরেছি তারই সংক্ষিপ্ত কিছু লিপি বদ্ধ করার চেষ্টা করেছি।

   
   
জগদ্ গুরু আদি শঙ্করাচার্য 
 ||   ওঁ তত্ সত্ ব্রহ্মার্পণমাস্তু ||
ব্রহ্ম সত্য জগন্মিথ্যা, জীবন ব্রহ্মৈব ন অপরঃ।।
জগদ্ গুরু আদি শঙ্করাচার্য 
• জন্ম:- ৭৮৮ খ্রিস্টাব্দ
• স্থান :- কালাডি, চের রাজ্য ( অধুনা কেরল)
• পিতা :- শিবগুরু
• মাতা :- আর্যাম্বা / দেবী বিশিষ্টা ( মত্যানুসারে)
নিঃসন্তান দম্পতি ত্রিশূরের বৃশভচল শিবমন্দিরে পুত্র প্রাপ্তির নিমিত্তে কামনা করেন ।
আদ্রা নক্ষত্রের বিশেষ তিথিতে সন্তানের জন্ম হয়।
সেই সন্তানই শঙ্কর নামে পরিচিত হয়।
 •বয়স ১ বছর:- দেবশিশু শঙ্কর সংস্কৃত ভাষায় কথা বলতে, লিখতে ও পড়তে সক্ষম হন।

• বয়স ৩ বছর:- ঈশ্বরের ইচ্ছায় শৈশবেই পিতার ছায়া অচিরেই চলে যায় শিশু শঙ্করের উপর থেকে। তারপর
 মা তাঁর উপনয়ন করান। এই সময় থেকেই বেদান্তের আধারে কলা ও বিজ্ঞান বিষয়ক পড়াশোনা শুরু করেন।
• বয়স ৮ বছর:- চারটি বেদ সম্পূর্ণরূপে আত্মস্থ ও কন্ঠস্থ করেন।
সন্ন্যাস:- সাত বছর থেকে সন্ন্যাস গ্রহণের ইচ্ছা ছিল, কিন্তু মা তাঁর একমাত্র সন্তানকে অনুমতি দেননি। এর ঠিক এক বছর পর একদিন বালক শঙ্কর পূর্ণা নদীতে স্নান করার সময় একটি কুমির শঙ্করের পা কামড়ে ধরে। শঙ্করের মা ও সেই সময়ে পূর্ণার তীরে উপস্থিত ছিলেন। ব্যথা ও বেদনায় আর্তনাদ বালক মাকে বলেন, মা যদি আপনি আমাকে এইসময় সন্ন্যাস গ্রহণের অনুমতি দেন তাহলে কুমির টি আমার পা ছেড়ে চলে যাবে। ছেলের প্রাণ বাঁচাতে মা ছেলেকে সন্ন্যাস গ্রহণের অনুমতি দেন। তারপর থেকে কোনোদিন পূর্ণা নদীতে কোনো কুমিরকে দেখা যায় নি।
গুরুর সন্ধানে:-
নর্মদা নদীতীরে ওঙ্কারেশ্বর তিনি গৌড়পাদের শিষ্য গোবিন্দ ভগবদপাদের কাছে গেলে দেবকার্য যোজনাতে জন্ম শঙ্করের বুদ্ধিমত্তা ও ভগবদ প্রেম তাঁকে আকৃষ্ট 
করে তুলছিলো এবং শঙ্করকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।
পরিব্রাজক শঙ্কর:- অদ্বৈত বেদান্ত প্রতিষ্ঠা করেন।

•।।বয়স ১৫ বছর:- কাশীতে শঙ্কর ।।•
কাশীতে সনন্দন নামের দক্ষিণ ভারতীয় যুবক প্রথম শঙ্করের শিষ্য হন। 
কাশীতে বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন করতে যাওয়ার সময় 
এক চন্ডালের দেখা হয়। সেই চন্ডালের সঙ্গে চারটি 
কুকুর ছিল। শঙ্করের শিষ্যরা চন্ডালকে পথ ছেড়ে দাঁড়াতে বললে, চন্ডাল উত্তর দেয়,"আপনি কি চান,
আমি আমার আত্মাকে সরাই না আমার রক্ত মাংসের শরীর টাকে সরাই?" 
শঙ্কর বুঝতে পারেন এই চন্ডাল স্বয়ং শিব এবং তার চারটি কুকুর আসলে চার বেদ। শঙ্কর তাঁকে প্রণাম করে পাঁচটি শ্লোক -- 'মণীষা পঞ্চকম' বন্দনা করেন। 

বদ্রীনাথে শঙ্কর:----/
বিখ্যাত উপনিষদের ভাষ্য ও গীতার ভাষ্য রচনা করেন।এই সময়ে ভজগোবিন্দম্ স্তোত্র রচনা করেন।

 প্রয়াগে:------
গুরুর আদেশ অনুযায়ী, মীমাংসা দার্শনিক কুমারিল ভট্টের সাথে বিতর্ক করতে চান। কিন্তু সেই সময়ে কুমারিল ভট্ট নিজের অমূলক কাজের জন্য জ্বলন্ত চিতায় নিজেকে সমাহিত করছিলেন। 
সুতরাং কুমারিল ভট্ট তাঁর শ্রেষ্ঠ শিষ্য মন্দন মিশ্রকে বিতর্কে আহ্বান জানাতে বলেন এবং বলেন মন্দনের জয়-পরাজয় ওনার জয়-পরাজয় বলে গণ্য করা হবে।
মন্দন মিশ্রের সঙ্গে-- বিখ্যাত বিতর্ক মিমাংসা:-
মহাসমতিতে (বর্তমান বিহারের সহরসা জেলার মহিষী নামক স্থানে):-
মন্দন মিশ্র বিতর্কে - কর্মকাণ্ড ও শঙ্কর  বিতর্কে - জ্ঞান কান্ড পক্ষপাতিত্ব করেন। বিচারক রূপে উপস্থিত ছিলেন মন্দন স্ত্রী উভয়া ভারতী (যিনি স্বয়ং মা সরস্বতীর অবতার)। একটানা ১৫ দিন ধরে বিতর্ক চলার পর মন্দন মিশ্র পরাজিত হলে উভয়া ভারতী শঙ্করকে বিতর্কে আহ্বান জানান এবং বিবাহশাস্ত্র বিষয়ক প্রশ্ন উত্থাপিত করলে তরুণ সন্ন্যাসী শঙ্কর ১৫ দিন সময় নিয়ে শারীরিকভাষ্যর(পরকায়া প্রবেশ) মাধ্যমে এক মৃত রাজার দেহে নিজের আত্মাকে প্রবেশ করিয়ে উভয়া ভারতীর প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যান। তারপর নিজের শরীরে প্রবেশ করে উভয়া ভারতীকে বিতর্কে পরাজয় করলে মন্দন মিশ্র শঙ্করের শিষ্য হন।  
মহারাষ্ট্রে ও শ্রীশৈলমে:-
কপালিক তান্ত্রিক শঙ্করকে বলি করতে উদ্যত হলে, শঙ্কর শিষ্য পদ্মপাদ ( পূর্বাশ্রম - সনন্দন) নরসিংহদেবের প্রার্থনা করে গুরুর। প্রাণ রক্ষা করেন। নরসিংহদেবের সাক্ষাৎ দর্শনে লক্ষী-নরসিংহ স্তোত্র রচনা করেন।
গোকর্ণে:-বাক্ শক্তিহীন বালক কে আশীর্বাদ করে বাক্ প্রদান করেন। শঙ্কর তাঁর নাম দেন হস্তামলক। যিনি পরবর্তীকালে শঙ্করের শিষ্য হন।
কাশ্মীরে:-তৎকালীন সমস্ত পন্ডিতদের বিতর্কে পরাজিত করে বেদান্তের অদ্বৈতবাদকে প্রতিষ্ঠা করেন এবং সর্বসম্মতিতে সারদাপীঠাচার্য মনোনীত হন। 
শঙ্কর হয়ে উঠলেন আচার্য্য শঙ্কর রূপে।
এরপর নেপাল---থেকে দক্ষিণ ভারত তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং বিদর্ভ যান, এই যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন মালয়লী রাজা সুধনভ।
পুনরায় গোকর্ণে আসলে শৈবপন্ডিত নীলাকান্তের  আহ্বানে বিতর্কে তাক পরাজিত করে অদ্বৈতবাদ স্থাপন করেন। এখান থেকে সৌরাষ্ট্র,দ্বারকা, উজ্জয়িনী,বাহলিকা হয়ে প্রাগজ্যোতিষপুর কামরূপে তান্ত্রিক নবগুপ্তের সম্মুখীন হন। সেখানেও যুক্তিও শাস্ত্রর মাধ্যমে অদ্বৈত বাদের মত স্থাপন করেন।
হিন্দুধর্মের ভিত্তি হিসেবে ভারতের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেন:- এই মঠের উদ্দেশ্য হিন্দুধর্মে পঞ্চ দেবতা ও পঞ্চ যজ্ঞের পালন ও সমাজে বেদান্ত প্রতিষ্ঠা
উত্তরে- জ্যোতির্মঠ (বদ্রীকাশ্রমের কাছে)- অর্থববেদ- তোটকাচার্য

পূর্বে- গোবর্ধন মঠ(পুরী,উড়িষ্যা)- ঋগ্বেদ - আচার্য পদ্মপাদ

পশ্চিমে- দ্বারকা মঠ( দ্বারকা, গুজরাট)- সামবেদ- হস্তামলকাচার্য

দক্ষিণে- শৃঙ্গেরী মঠ(কর্ণাটক)- যজুর্বেদ- সুরেশ্বরাচার্য

এই চারটি মঠের প্রত্যেক প্রধান প্রথম শঙ্করাচার্যের নামানুসারে শঙ্করাচার্য ("পন্ডিত শঙ্কর") উপাধি গ্রহণ করেন।

 এই চারটি মঠের বা আম্নায় এর নীচে আছে দশনামী সম্প্রদায় যার প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং আচার্য শঙ্কর।

মহাসমাধি:- ৮২০ খ্রিস্টাব্দ মাত্র ৩২ বছর বয়সে। দৈবিক যোজনাতে সমাধিস্থ হন।
স্থান:- কেদারনাথ , মতান্তরে রামেশ্বরম।
।।নমঃ শ্রী আদি শঙ্করায় নমঃ।।

------------------------

আদি শংকরাচার্য্য ভারতীয় দর্শনের অদ্বৈত বেদান্তের রূপকার।
তাঁর শিক্ষার মূল কথা ছিল জীব ও ব্রহ্মের একত্ব ।
এই সত্যকে তিনিই প্রথম প্রচার করেন।
শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব এহেন সত্যকে
আরও সহজ করে দিয়ে বলেছেন---
" জীবই শিব "

স্বামী বিবেকানন্দের মতে, "বেদান্ত দর্শনের সর্ব শ্রেষ্ট আচার্য্য হলেন আদি শংকরাচার্য্য। দৃঢ় যুক্তির উপর ভিত্তি করে তিনি বেদের সত্য কে জ্ঞান যোগের ব্যাখ্যার মধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আচার্য্য শংকরাচার্য্য হিন্দু ধর্ম পুন প্রতিষ্ঠা কারেন ও সুসংহত রূপ দেন।
স্বামিজি একথাও বলেছেন... আদি শংকরাচার্য্য জীব ও ব্রহ্মের একত্বের সমস্ত সংশয় দূর করে প্রমান করে দেখিয়েছেন যে তাঁর মত অতিষয় নির্ভুল ও সত্য। বেদ ও উপনিষদের এই সত্য কে তিনি সারাজীবন প্রচার করেছন তাঁর লেখা ও জীবন যাপনের মধ্য দিয়ে।"

শ্রী শংকরাচার্য্যের  শিক্ষার মূল কথা ছিল জীব ও ব্রহ্মের একত্ব ।
তাঁর মতে ব্রহ্ম হলেন নির্গুণ।
এই মূল সত্য কে প্রচার করার জন্য তিনি সারা ভারতবর্ষ ভ্রমন করেন এবং সেই সময় কালের শ্রেষ্ঠ  দার্শনিকদের সঙ্গে আলোচনা ও বিতর্কে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের দার্শনিক মতটি প্রচার ও দৃঢ় তার সহিত প্রতিষ্ঠিত করেন।
তিনি হিন্দু সন্ন্যাসীদের দশনামী সম্প্রদায় সৃষ্টি করেন, যা হিন্দুদের বিভিন্ন মতের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করে।
                 ( সংগৃহিত )
 <----●অনাথ রায় চৌধুরী এবং●--->
     【--anrc-02/09/2018--】
     【-রাত্রি=:01:18:22 am=】
     【=কোলকাতা -56=】-----OK
=======================
=========================
   
   >|| আদি শঙ্কর ||
( 788--820 খ্রিষ্টাব্দ)
আদি শঙ্কর বা আদি শঙ্করাচার্য।
তদানীন্তন ভারতীয় দার্শনিক গনের
একজন শ্রেষ্ঠ ভারতীয় দার্শনিক।
বেদান্তের অদ্বৈত দর্শনের শাখাটিকে তিনি সুসংহত রূপ দেন এবং সুচারু রূপে প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করেন।
তাঁর মতে ব্রহ্ম হলেন নির্গুণ।
রাজা রবি বর্মা  ছিলেন আদি শঙ্করের শিষ্য।
আদি শঙ্করের জন্ম 788 খ্রিস্টাব্দে
কালাডি গ্রামে, চের রাজ্যে ( বর্তমানের ভারতের কেরল রাজ্যে )
মৃত্যু 820 খ্রিস্টাব্দে (বয়স 32 )
কেদারনাথ, পাল সাম্রাজ্যে,
(বর্তমানে ভারতের উত্তরা খন্ডে)
রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, স্বামী বিবেকানন্দ
উভয়েই তাঁর মত ও কর্মের প্রতি  প্রভাবান্বিত
ছিলেন।
আদি শঙ্করাচার্যের মূল উক্তি
"ব্রহ্ম সত্য জগন্মিথ্যা জীব ব্রহ্মৈব ন অপরঃ"
তিনি সমগ্র ভারতবর্ষ  পর্যটন করে অন্যান্য দার্শনিকদের সঙ্গে আলোচনা ও বিতর্কে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের দার্শনিক মতটি প্রচার করেন।
তিনি চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। এই মঠগুলি অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের ঐতিহাসিক বিকাশ, পুনর্জাগরণ ও প্রসারের জন্য বহুলাংশে দায়ী। শঙ্কর নিজে অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের প্রধান প্রবক্তা হিসেবে খ্যাত। এছাড়া তিনি হিন্দু সন্ন্যাসীদের দশনামী সম্প্রদায় ও হিন্দুদের পূজার সন্মত নামক পদ্ধতির প্রবর্তক।
সংস্কৃত ভাষায় লেখা আদি শঙ্করের রচনাবলির প্রধান লক্ষ্য ছিল অদ্বৈত তত্ত্বের প্রতিষ্ঠা। সেযুগে হিন্দু দর্শনের মীমাংসা শাখাটি অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার উপর জোর দিত এবং সন্ন্যাসের আদর্শকে উপহাস করত।
আদি শঙ্কর উপনিষদ্‌ ও ব্রহ্মসূত্র অবলম্বনে সন্ন্যাসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উপনিষদ্‌, ব্রহ্মসূত্র ও ভগবদ্গীতার ভাষ্যও রচনা করেন। এই সব বইতে তিনি তার প্রধান প্রতিপক্ষ মীমাংসা শাখার পাশাপাশি হিন্দু দর্শনের সাংখ্য শাখা ও বৌদ্ধ দর্শনের মতও খণ্ডন করেন।
প্রচলিত মত অনুসারে, শঙ্কর বিজয়ম নামক বইগুলিতে শঙ্করের জীবনকথা লেখা আছে। এই বইগুলি আসলে মহাকাব্যের আকারে পদ্যে লেখা ইতিহাস-সম্মত জীবনী ও প্রচলিত কিংবদন্তির মিশ্রণ।
এই জাতীয় কাব্যধারায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বই হল মাধব শঙ্কর বিজয়ম ।
চিদবিলাস শঙ্কর বিজয়ম।
ও কেরলীয় শঙ্কর বিজয়ম।
শঙ্কর এক রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবার নাম ছিল শিবগুরু ও মায়ের নাম আর্যাম্বা। তারা অধুনা কেরল রাজ্যের অন্তর্গত কালাডি গ্রামে বাস  করতেন। তাঁরা বহুদিন
নিঃসন্তান ছিলেন। তাই তারা ত্রিশূরের বৃষভচল শিবমন্দিরে পুত্রকামনা করে পূজা দেন। এরপর আর্দ্রা নক্ষত্রের বিশেষ তিথিতে শঙ্করের জন্ম হয়।
শঙ্করের শিশু কালেই তার বাবা মারা যান।
শঙ্কর ছেলেবেলা থেকেই খুব বিদ্বান ছিলেন। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি চারটি বেদ আয়ত্ত্ব করে নেন।
বাল্য কাল থেকেই শঙ্কর সন্ন্যাস গ্রহণের দিকে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু তার মা তাকে অনুমতি দিতে চাইছিলেন না। শেষে তিনি খুব আশ্চর্যজনকভাবে মায়ের অনুমতি পান।
কথিত আছে, একদিন তিনি পূর্ণা নদীতে স্নান করছিলেন। এমন সময় একটি কুমির তার পা কামড়ে ধরে। শঙ্করের মাও সেই সময় পূর্ণার তীরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি মা-কে বলেন, মা যদি সন্ন্যাস গ্রহণের অনুমতি দেন, তাহলে কুমিরটি তার পা ছেড়ে দেবে। ছেলের প্রাণ বাঁচাতে মা তাকে সন্ন্যাস গ্রহণের অনুমতি দিলেন। তার পর থেকে কোনোদিন পূর্ণা নদীতে কোনো কুমিরকে দেখা যায়নি।
শঙ্কর গৃহ ত্যাগ করে গুরুর খোঁজে বেরিয়ে পড়েন।শেষে নর্মদানদীর তীরে ওঙ্কারেশ্বরে তিনি
গোবিন্দ ভগবদপাদের দেখা পান।
গোবিন্দজী শঙ্করের পরিচয় জেনে খুব খুশি হন এবং শঙ্করকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।
গল্প কোথায় জানাজায়,
এর পরে শঙ্কর যখন কাশীতে আসেন। সেখানে সনন্দন নামে এক যুবকের সঙ্গে তার দেখা হয়ে যায়। এই যুবকটি দক্ষিণ ভারতের চোল রাজ্যের বাসিন্দা ছিল। সে-ই প্রথম শঙ্করের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। কথিত আছে, কাশীতে বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন করতে যাওয়ার সময় এক চণ্ডালের সঙ্গে শঙ্করের দেখা হয়ে যায়। সেই চণ্ডালের সঙ্গে চারটি কুকুর ছিল। শঙ্করের শিষ্যরা চণ্ডালকে পথ ছেড়ে দাঁড়াতে বললে, চণ্ডাল উত্তর দেয়, "আপনি কী চান, আমি আমার আত্মকে সরাই না এই রক্তমাংসের শরীরটাকে সরাই?" শঙ্কর বুঝতে পারেন যে, এই চণ্ডাল স্বয়ং শিব এবং তার চারটি কুকুর আসলে চার বেদ। শঙ্কর তাকে প্রণাম করে পাঁচটি শ্লোকে বন্দনা করেন। এই পাঁচটি শ্লোক "মণীষা পঞ্চকম্‌" নামে পরিচিত।
বদ্রীনাথে বসে তিনি তার বিখ্যাত  টীকা ভাষ্য ও দর্শনমূলক প্রবন্ধ রচনা করেন।
একবার শঙ্কর বিশেষ কিছু কারনে দিনের
পর দিন অধিক বিতর্ক বিতর্কের করার পর মন্দন মিশ্র পরাজয় স্বীকার করেন,
যেখানে মন্দন মিশ্রের সহধর্মিণী উভয়া ভারতী বিচারক হিসেবে কাজ করেন। উভয়া ভারতী তখন আদি শঙ্করকে 'বিজয়' সম্পূর্ণ করার জন্য তার সঙ্গে বিতর্কে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি আদি শঙ্করকে পুরুষ ও মহিলার মধ্যকার যৌন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করেন - যে বিষয়ে শঙ্করাচার্যের কোন জ্ঞান ছিল না, কারণ তিনি ছিলেন কুমার এবং সন্ন্যাসী। শ্রী শঙ্করাচার্য 15 দিনের "বিরতি" চান। লোককাহিনী অনুসারে তিনি "পর-কায়া প্রবেশের" শিল্প ব্যবহার করেন।
(এই বিশেষ শিল্পে  আত্মা এক  দেহ থেকে বার হয়ে  অন্যের দেহে প্রবেশ করে ,)
এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় শঙ্কর তার নিজের দেহ থেকে বের হন,এবং দেহটি  তিনি তার শিষ্যদের দেখাশোনা করার জন্য বলে তিনি নিজের আত্মকে দৈহিকভাবে একজন রাজার মৃতদেহে প্রবেশ করেন।
গল্পে আছে যে রাজার দুই স্ত্রীর নিকট তিনি "ভালবাসা শিল্পের" সকল জ্ঞান অর্জন করেন।
প্রেম, কাম, রতি ক্রিয়ার সকল ক্রিড়া কৌশল
ইত্যাদির প্রকৃত জ্ঞান দুচারু রূপে অর্জন করেন।
এদিকে রানীরা "পুনরুজ্জীবিত" রাজার সুতীক্ষ্ণ
মেধা ও প্রবল ভালবাসায় রোমাঞ্চিত হয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন যে তিনি তাদের পুরনো স্বামী ছিলেন না।
তখন রাণীরা বিশেষ কিছু অনুমান করেন।
এবং বুঝতে পারলেন যে মৃত রাজার শরীরে অন্য কোন বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন সাধক প্রবেশ করে তাঁদের এমন সুখ ও আনন্দ দিতে সক্ষম হয়েছেন।
যখন রানী সকলে  তাদের বিশেষ বিশ্বস্ত কাজের লোকদের  বললেন আসে পাশের সকল স্থান খুঁজে দেখতে কোন যুবক সাধুর প্রাণহীন দেহ
এবং যদি পাওয়া যায় তবে  তা শীঘ্র দাহ করতে।
যাতে করে রাজার দেহে প্রবেশ কারী সাধু আর ফিরে যেতে না পারে।
তাহলেই রানীরা বহুদিন এমন আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।
রানীর লোকেরা খুঁজে পেলেন শঙ্করের দেহ যে দেহ কজন সাধু পাহারা দিচ্ছিলেন।
রানীদের লোকেরা জোর করে শঙ্করাচার্যের প্রাণহীন দেহ চিতার উপর রেখে এতে আগুন দিতে যাওয়া মাত্রই শঙ্কর তার নিজের দেহে প্রবেশ করেন এবং পুনরায় জ্ঞান ফিরে পান।
এর পরে
পরিশেষে তিনি উভয়া ভারতীর সকল প্রশ্নের উত্তর দেন; এবং উভয়া ভারতী বিতর্কের পূর্ব-সম্মত নিয়মানুসারে মন্দন মিশ্রকে সুরেশ্বরাচার্য সন্ন্যাসী-নাম ধারণ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করার অনুমতি দেন।
আদি শঙ্কর তারপর তার শিষ্যদের সাথে নিয়ে মহারাষ্ট্র ও শ্রীশৈলম ভ্রমণ করেন।
 মাধবীয়া শঙ্করাবিজয়াম অনুসারে একদা শঙ্কর কপালিকা দ্বারা বলি হতে যাচ্ছিলেন, পদ্মপদাচার্যের প্রার্থনার উত্তরস্বরুপ ভগবান নরসিংহ শঙ্করকে রক্ষা করেন। ফলস্বরুপ আদি শঙ্কর লক্ষ্মী-নরসিংহ স্তোত্র রচনা করেন।
==================
তারপর তিনি গোকর্ণ, হরি-শঙ্করের মন্দির এবং কোল্লুড়ে মুকাম্বিকা মন্দির ভ্রমণ করেন। কোল্লুড়ে তিনি এক বালককে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন যে বালকটিকে তার পিতামাতা বাকশক্তিহীন বলে মনে করতেন। শঙ্কর তার নাম দেন হস্তামলকাচার্য ("বৈঁচি-জাতীয় ফল হাতে কেউ", অর্থাৎ যিনি নিজেকে পরিষ্কারভাবে উপলব্ধি করেছেন)। পরবর্তীতে তিনি সারদা পীঠ প্রতিষ্ঠা করতে শৃঙ্গেরী ভ্রমণ করেন এবং তোটকাচার্যকে তার শিষ্য বানান।
এরপর আদি শঙ্কর অদ্বৈত দর্শনের বিরোধিতা করা সকল দর্শন অস্বীকারের দ্বারা এর প্রচারের জন্য দিগ্বিজয় ভ্রমণ শুরু করেন। তিনি দক্ষিণ ভারত হতে কাশ্মীর অভিমুখে ভারতের সর্বত্র এবং নেপাল ভ্রমণ করেন এবং পথিমধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে দর্শন প্রচার করেন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও অন্যান্য পন্ডিত ও সন্ন্যাসীদের সাথে দর্শন বিষয়ে তর্ক করেন।
মাধবীয়া শঙ্করাবিজয়ম অণুসারে সারদা পীঠে মন্দিরে চারটি প্রধান দিক থেকে পন্ডিতদের জন্য চারটি দরজা ছিল।
এক এক দিকের দরজা সেই দিকের প্রতিনিধিত্বকারী পন্ডিতদের নির্দেশ করে।
দক্ষিণ দরজা (দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী) কখনই খোলা হয়নি যা নির্দেশ করত যে দক্ষিণ ভারত থেকে কোনো পন্ডিত সারদা পীঠে প্রবেশ করেনি।
আদি শঙ্কর সকল জ্ঞানের শাখা যেমন মীমাংসা, বেদান্ত এবং অন্যান্য হিন্দু দর্শনের শাখাসমূহে সকল পন্ডিতকে বিতর্কে পরাজিত করে আদি শঙ্কর দক্ষিণ দরজা খোলেন; তিনি সে মন্দিরের সর্বোৎকৃষ্ট জ্ঞানের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
তার জীবনের শেষদিকে আদি শঙ্কর হিমালয়ের কেদারনাথ-বদ্রীনাথে যান এবং বিদেহ মুক্তি ("মূর্তরুপ থেকে মুক্তি") লাভ করেন। কেদারনাথ মন্দিরের পিছনে আদি শঙ্করের প্রতি উৎসর্গীকৃত সমাধি মন্দির রয়েছে।
আদি শঙ্কর হিন্দু ধর্মের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করার জন্য চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করেন।
এগুলো দক্ষিণে কর্ণাটকের শৃঙ্গেরীতে, পশ্চিমে গুজরাটের দ্বারকায়, পূর্বে ওড়িশার পুরীতে এবং উত্তরে উত্তরখন্ডের জ্যোতির্মঠে (যশীমঠে)।
হিন্দু পরম্পরাগত মতবাদ বিবৃত করে যে তিনি এসব মঠের দায়িত্ব দেন তার চারজন শিষ্যকে যথাক্রমে: সুরেশ্বরাচার্য, হস্তামলকাচার্য, পদ্মপাদাচার্য এবং তোটকাচার্য। এ চারটি মঠের প্রত্যেক প্রধান প্রথম শঙ্করাচার্যের নামানুসারে শঙ্করাচার্য ("পন্ডিত শঙ্কর") উপাধি গ্রহণ করেন।
আদি শঙ্করাচার্য অদ্বৈতবাদী ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন । তিনি বলেন যে , ব্রহ্মই হল একমাত্র সত‍্য - এই জগৎ ব্রহ্মময় । তার মতে , " সঠিক বিদ‍্যা না থাকার ফলে মানুষ ব্রহ্মকে বুঝতে পারে না '' । আত্মাই হল ব্রহ্ম । এই ব্রহ্ম নির্গুণ এবং আনন্দময় । কিন্তু ব্রহ্ম আবার পারমার্থিক দৃষ্টিতে ব্রহ্ম হলেও ব‍্যবহারিক দৃষ্টিতে ঈশ্বর বলে প্রতিভাত হয় । অবিদ‍্যা ব্রহ্মের শক্তিবিশেষ যার ফলে জীব নিজেকে ব্রহ্মের থেকে ভিন্ন মনে করে । প্রকৃতপক্ষে , জীবাত্মা ও পরমাত্মা অভিন্ন ।
ভারতের  কেদারনাথ মন্দিরের পিছনে তাঁর সমাধি মন্দির আছে।
========== <--©-আদ্যনাথ-->=======

17> Lakshmibai THE Rani ofJhansi---–||


17>|-- Lakshmibai THE Rani of Jhansi---–||

( 19/11/1828 to 18/06/1858 )


Jhansi is in the north-central part of India

The state under Maratha Empire.

Lakshmibai the Rani ofJhansi

was an Indianqueen and warrior. And

was the queen of the princely state of Jhansi currently present in Jhansi district in Uttar Pradesh, India.


Birth name=Manikarnika Tambe or Manu.

Born=19 November 1828

Birthplace=Varanasi, India

Died=17/18 June 1858(aged 29)

Place of death=Kotah ki Serai, Gwalior, India

Father=Moropant Tambe

Mother=Bhagirathi Bai.

Manikarnika was born into a Maratha family at Varanasi.


Lakshmibai was one of the leading figures of the Indian Rebellion of 1857 and became a symbol of resistance to the British Raj East India Company in India.

She was married to Raja Gangadhar Rao Newalkar, the Maharaja of Jhansi, in 1842, and became the Rani of Jhansi.(She was married when she was 7 years old )

After her marriage Manikarnika became Lakshmibai, so named in honour of the goddess Lakshmi.

In 1851, Rani Lakshmibai had a son,

but the infant died at the age of about four months.

However the Raja could not recover from his bereavement on the lossফ of his child

And died on 21 November 1853. Then LKshmi Bai was eighteen .

On the day before the raja's death in November 1853, she adopted a son. His name was Anand, but was renamed Damodar, after their actual son. The raja wrote a letter to the British government of India requesting that his widow should be recognised as the ruler of Jhansi after his death during her lifetime. After the death of her husband the head of the British government of India, Lord Dalhousie, refused to allow her adopted son to become raja and Jhansi was then ruled by the British.

( The British East India Company, in its greed to annexe Indian Princely States, promulgated a rule known as the "Doctrine of Lapse".++++++++×********

After all the British in Jhansi had been killed by mutinous Indian troops in June 1857 the Rani took over the administration provisionally until the British returned. However she had to form an army to defeat the invading forces of Orchha and Datia and the British believed she had been responsible for the earlier British deaths.In March 1858, British forces led by Sir Hugh Rose came to Jhansi to take back the city from the Rani who now wanted independence. Jhansi was besieged and finally taken after strong resistance. Many of the people of the city were killed in the fighting and many more afterwards. The Rani escaped to Kalpi and jointly with the Maratha general Tantya Tope then seized Gwalior. In the battle of Kotah ki Serai in which their army was defeated Rani Lakshmibai was mortally wounded, 17th June 1858.

======

रानी लक्ष्मी बाई (जन्म: 19 नवम्बर 1835 – मृत्यु: 17 जून 1858)

लक्ष्मीबाई का बचपन का नाम मणिकर्णिका था परन्तु प्यार से सब उन्हें मनु कहकर पुकारते थे। मनु का जन्म वाराणसी जिले के भदैनी नामक नगर में 19 नवम्बर 1835 को हुआ था तथा उनकी माँ का नाम भागीरथीबाई तथा पिता का नाम मोरोपन्त तांबे था। मोरोपन्त एक मराठी थे और मराठा बाजीराव की सेवा में थे। माता भागीरथीबाई एक सुसंस्कृत, बुद्धिमान एवं धार्मिक महिला थीं। मनु ने बचपन में शास्त्रों की शिक्षा के साथ शस्त्रों की शिक्षा भी ली। सन् 1842 में उनका विवाह झाँसी के मराठा शासित राजा गंगाधर राव निम्बालकर के साथ हुआ और वे झाँसी की रानी बनीं। विवाह के बाद उनका नाम लक्ष्मीबाई रखा गया। 21 नवम्बर 1853 को राजा गंगाधर राव की मृत्यु हो गयी। झाँसी 1857 के संग्राम का एक प्रमुख केन्द्र बन गया जहाँ हिंसा भड़क उठी। रानी लक्ष्मीबाई ने झाँसी की सुरक्षा को सुदृढ़ करना शुरू कर दिया और एक स्वयंसेवक सेना का गठन प्रारम्भ किया। इस सेना में महिलाओं की भर्ती की गयी और उन्हें युद्ध का प्रशिक्षण दिया गया। साधारण जनता ने भी इस संग्राम में सहयोग दिया।

1857 के प्रथम भारतीय स्वतन्त्रता संग्राम की वीरांगना थीं जिन्होंने मात्र 23 वर्ष की आयु में ब्रिटिश साम्राज्य की सेना से संग्राम किया और रणक्षेत्र में वीरगति प्राप्त की किन्तु जीते जी अंग्रेजों को अपनी झाँसी पर कब्जा नहीं करने दिया।
=========================================

*महारानी लक्ष्मीबाई इतिहास*

पूरा नाम – राणी लक्ष्मीबाई गंगाधरराव.

जन्म – 19 नवम्बर, 1828.

जन्मस्थान – वाराणसी.

पिता – श्री. मोरोपन्त.

माता – भागीरथी

शिक्षा – मल्लविद्या, घुसडवारी और शत्रविद्याए सीखी.

विवाह – राजा गंगाधरराव के साथ.

लक्ष्मीबाई उर्फ़ झाँसी की रानी मराठा शासित राज्य झाँसी की रानी थी, जो उत्तर-मध्य भारत में स्थित है. रानी लक्ष्मीबाई 1857 के प्रथम भारतीय स्वतंत्रता संग्राम की वीरांगना थी जिन्होंने अल्पायु में ही ब्रिटिश साम्राज्य से संग्राम किया था.

लक्ष्मीबाई का जन्म वाराणसी जिले के भदैनी नमक नगर में 19 नवम्बर 1828 में हुआ था. उनके बचपन का नाम मणिकर्णिका था परन्तु प्यार से उसे मनु कहा जाता था. मनु की माँ का नाम भागीरथीबाई तथा पिता का नाम मोरोपंत तांबे था. मनु के माता-पिता महाराष्ट्र से झाँसी में आये थे. मनु जब सिर्फ चार वर्ष की थी तभी उनकी माँ की मृत्यु हो गयी थी. मोरोपंत एक मराठी थे और मराठा बाजीराव की सेवा में थे. मनु के माँ की मृत्यु के बाद घर में मनु की देखभाल के लिये कोई नही था इसलिये मनु के पिता उसे अपने साथ पेशवा के दरबार में ले गये, जहा चंचल एवं सुन्दर मनु ने सबका मन मोह लिया था. मनु ने बचपन में ही अपनी प्राथमिक शिक्षा घर से ही पूरी की थी और साथ ही मनु ने बचपन में शस्त्रों की शिक्षा भी ग्रहण की थी.

मई 1842 में 8 वर्ष की उम्र में उनका विवाह झाँसी के मराठा शासित राजा गंगाधर राव नेवालकर के साथ हुआ और वह झाँसी की रानी बनी. विवाह के बाद उनका नाम लक्ष्मीबाई रखा गया.1851 में रानी लक्ष्मीबाई ने एक पुत्र को जन्म दिया जिसका नाम दामोदर राव रखा गया था लेकिन चार महीने की आयु में ही उसकी मृत्यु हो गयी. बाद में महाराजा ने एक पुत्र को दत्तक ले लिया, जो गंगाधर राव के ही भाई का बेटा था, बाद में उस दत्तक लिए हुए बेटे का नाम बदलकर महाराजा की मृत्यु से पहले दामोदर राव रखा गया था. लेकीन ब्रिटिश राज को यह मंजूर नही था इसलिए उन्होंने दामोदर के खिलाफ मुकदमा दायर कर दिया, उस मुक़दमे में दोनों ही तरफ से बहोत बहस हुई लेकिन बाद में इसे ख़ारिज कर दिया गया. कंपनी शासन उनका राज्य हड़प लेना चाहता था. रानी लक्ष्मीबाई ने जितने दिन भी शासनसूत्र संभाला वो अत्याधिक सुझबुझ के साथ प्रजा के लिए कल्याण कार्य करती रही. इसलिए वो अपनी प्रजा की स्नेहभाजन बन गई थी. तत्पश्चात ब्रिटिश अधिकारियो ने राज्य का खजाना जब्त कर लिया और उनके पति के क़र्ज़ को रानी के सालाना खर्च में से काटने का फरमान जारी कर दिया गया. इसके परिणामस्वरूप रानी को झाँसी का किला छोड़ कर झाँसी के रानीमहल में जाना पड़ा. मार्च 1854 को रानी लक्ष्मीबाई को किले को छोड़ते समय 60000 रुपये और सालाना 5000 रुपये दिए जाने का आदेश दिया. लेकिन रानी लक्ष्मीबाई ने हिम्मत नही हरी और उन्होंने हर हाल में झाँसी राज्य की रक्षा करने का निश्चय किया. ब्रिटिश अधिकारी अधिकतर उन्हें झाँसी की रानी कहकर ही बुलाते थे.

घुड़सवारी करने में रानी लक्ष्मीबाई बचपन से ही निपुण थी. उनके पास बहोत से जाबाज़ घोड़े भी थे जिनमे उनके पसंदीदा सारंगी, पवन और बादल भी शामिल है. जिसमे परम्पराओ और इतिहास के अनुसार 1858 के समय किले से भागते समय बादल ने महत्वपूर्ण भूमिका निभाई थी. बाद में रानी महल, जिसमे रानी लक्ष्मीबाई रहती थी वह एक म्यूजियम में बदल गया था. जिसमे 9 से 12 वी शताब्दी की पुरानी पुरातात्विक चीजो का समावेश किया गया है.

उनकी जीवनी के अनुसार ऐसा दावा किया गया था की दामोदर राव उनकी सेना में ही एक था, और उसीने ग्वालियर का युद्ध लड़ा था, ग्वालियर के युद्ध में वह अपने सभी सैनिको के साथ वीरता से लड़ा था. जिसमेतात्या टोपे और रानी की संयुक्त सेनाओ ने ग्वालियर के विद्रोही सैनिको की मदद से ग्वालियर के एक किले पर कब्ज़ा कर लिया. 17 जुन 1858 को ग्वालियर के पास कोटा की सराय में ब्रिटिश सेना से लड़ते-लड़ते रानी लक्ष्मीबाई ने वीरगति प्राप्त की.

भारतीय वसुंधरा को गौरवान्वित करने वाली झाँसी की रानी एक आदर्श वीरांगना थी. सच्चा वीर कभी आपत्तियों से नही घबराता. उसका लक्ष्य हमेशा उदार और उच्च होता है. वह सदैव आत्मविश्वासी, स्वाभिमानी और धर्मनिष्ट होता है. और ऐसी ही वीरांगना झाँसी की रानी लक्ष्मीबाई थी.

=======================================

16>||SAVITRI BAI PHULE:----( 03/01/1831 to 10/03/1897 )


16>||SAVITRI BAI PHULE:----------------------

( 03/01/1831 to 10/03/1897 )
She was an Indian social reformat and poet.
She along with her husband JYOTIRAO PHULE, played and an important role inproving woman's right in India during British rule.
She founded the first Girl's School in PUNE run by native Indians ar BHIDE WADA in 1848.
She is the country's first woman Teacher.
At a time when grievances of woman could hardly be heard, she broke all the traditional stereotypes of the 19 th century to boost anew age of thinking in British colonised India.
Today is the Birthday of social reformer and educationist Savitribai Phule. She, along with her husband opened girls school in Pune in 1848. Very interestingly, she started the school with her close associate Fatema Seikh. The school was also a bold statement against communal and casteist thought process.

Phule started teaching when she was just 17! It was not easy that time. She also led a movement against the practise of shaving heads of the widows. Shaving of head was a traumatic experience for the widows, especially the ones who even did not cross their teens. Savitribai stood against this age old custom. She also opened a Center to take care of the rape pregnants who had nowhere to go. How unimaginable and inspiring, even for today! Her fight against cast discrimination and violence has inspired many generation after generations.

The Phule couple also organised marriages without a priest, without dowry, and at a minimum cost. What a revolutionary idea. How many of you reading this post will be ready to marry without a priest even today? She also practised what she preached. Her son's marriage was an inter-caste marriage. It seems unimaginable that she was in this land where even after 200 years people kill their own kids for inter-caste marriage!

Even her death is a saga of sacrifice. During a plague epidemic, she opened a shelter in which her adopted son was treating the patients while she took the role of the nurse. She caught plague while nursing plague victims and succumbed. What a humbling life, what an inspiring death!!!

What we learn from the lives of all these great people is that everything old is not gold. We need to test all the prevailing customs before accepting them. Fighting against so called tradition and culture is essential to take the society ahead.
||---ANRC-----03/01/2018:::--------------||
||============================||

Thursday, August 30, 2018

15>পুত্রহীন #নজরুল vs রবীন্দ্রনাথ


15>পুত্রহীন   #নজরুল vs রবীন্দ্রনাথপুত্রহীন

সুমিত_চট্টোপাধ্যায়

■■কে , নজরুল ? বোসো । কখন এলে ?
এই ত । স্তিমিত কন্ঠে বললেন নজরুল ।
তা গলাটা এরকম শোনাচ্ছে কেন ! রবীন্দ্রনাথ ঈষৎ বিস্মিত । নজরুল খুবই হুল্লোডবাজ রগুডে মানুষ । আজ তো গলা শোনাই যাচ্ছে না ! কি ব্যাপার , কারোর শরীর টরীর খারাপ নাকি !
আমার ছেলেটা কাল চলে গেল , গুরুদেব । ফুঁপিয়ে উঠলেন কাজী নজরুল ।
সে কী ! চমকে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ । ঊনসত্তর বছর বয়স তার । এখন কি শুধু খারাপ খবর পাওয়ার জন্যেই বেঁচে থাকা । রবীন্দ্রনাথ মাঝে মাঝেই একথা ভাবেন । চিকিৎসাশাস্ত্র একেবারেই অনুন্নত । বাঙালি পুরুষের গড় আয়ু মেরেকেটে চল্লিশ । নিজের অদ্ভুত ভালো স্বাস্হ্যের জন্য নিজেরই বিড়ম্বনা লাগে ।
খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন - কি হয়েছিল ?
বসন্ত । স্মল পক্স ।
কত বয়স হয়েছিল । তিন , না?
চার পূর্ণ হয়ে পাঁচ ।
আবার দীর্ঘক্ষণের নীরবতা । বাঙালির দুই প্রাণের কবি । শব্দের দুই জাদুকর । আজ দুজনেই নীরব ।
একটু পরে রবীন্দ্রনাথই আবার নীরবতা ভাঙলেন - তোমার ছেলেটি বড় ট্যালেন্টড ছিল শুনেছিলাম । কি যেন নাম রেখেছিলে ?
ভালো নাম অরিন্দম খালিদ । সবাই ডাকতাম বুলবুল বলে ।
হ্যাঁ , বুলবুল বুলবুল । নিজের মনেই দুবার নামটা আওডালেন রবীন্দ্রনাথ । শুনেছিলাম তার নাকি অদ্ভুত স্মৃতিশক্তি ।
 আপনি কি করে জানলেন ? অবাক চোখে তাকালেন নজরুল ইসলাম । কত ব্যস্ত মানুষ গুরুদেব । অথচ কত ছোট ছোট ব্যাপারের খবর রাখেন !
আরে না , সেরকম কিছু না । আমায় মুজফফর আহমেদ বলেছিল । গতবছর । জেলে যাবার আগে আমার সঙ্গে দেখা করেছিল  । তোমরা ত একসময় মেসে একই ঘরে থাকতে ?
হ্যাঁ । দশ বছর আগে কলেজস্ট্রীটে । বত্রিশ নম্বর ।
নজরুল আবারও একটু চুপ করে থেকে জিগ্যেস করলেন - তা কি বলছিল আহমেদ সাহেব ?
বলছিল তোমার ছেলে নাকি শ্রুতিধর ।
হ্যাঁ গুরুদেব । যখন ওর দেড় দু বছর বয়স তখন ওকে একটা ছবির বই দেখিয়ে  আমি পাখিদের ইংলিশ নাম বলেছিলাম । ব্যাটা সঙ্গে সঙ্গে মুখস্থ করে ফেলল ! করুণ হেসে বললেন নজরুল । অথচ তখন তো অক্ষরজ্ঞান হওয়া সম্ভব ছিল না !
বলো কী !
আমি ত কিছুদিন জমিরউদ্দিন খানের সঙ্গে সংগীতচর্চা করলাম । কি বলব গুরুদেব । যা গান শিখি , হরকত কব্জা করি ও ব্যাটাও সব গলায় বসিয়ে নেয় ! অবিকল । সেই ছেলে .... কেঁদে ফেললেন কাজী ।
রবীন্দ্রনাথ কিছু বললেন না । সন্তান হারানোর চেয়ে বড় শোক আর কি আছে । কেঁদে একটু হাল্কা হোক ।
বাডির কি খবর । আবার রবীন্দ্রনাথই নীরবতা ভাঙলেন । এমনিতে নীরবতা তার বড় প্রিয় । কিন্তু আজ যেন বড্ড অস্বস্তিকর লাগছে ।
সেইজন্যেই ত আপনার কাছে চলে এলাম । কাঁদতে । আমার বাডির দুজনই খুব চাপা । মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে । কিন্তু বাইরে প্রকাশ করছে না । আমি আর সেইখানে কি করে ..... । নজরুলের কথা অসমাপ্তই থেকে গেল । তারপর আবার বললেন - আমাকে আপনি শান্তিনিকেতনে নিয়ে চলুন । কলকাতা আমার আর ভাল লাগছে না ।
রবীন্দ্রনাথ মৃদু হাসলেন । তোমার মনে আছে নজরুল , আজ থেকে দশ বারো বছর আগে তুমি যখন সেনাবাহিনী ছেডে কলকাতা এলে তখন আমি তোমাকে শান্তিনিকেতন যাবার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম । বলেছিলাম তুমি আমাদের শরীরচর্চা শেখাবে আর প্রাণের খুসিতে গান গাইবে । তুমি রাজি হও নি ।
মনে আছে গুরুদেব ।
পরে কিন্তু আর বলি নি , তাই ত ?
না ।
কেন বলতো ?
আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন নিশ্চই । এ তো বোঝাই যায় । ধীর কন্ঠে জানালেন নজরুল ।
আরে , না রে পাগল । সেই জন্য নয় । রবীন্দ্রনাথ হেসে উঠলেন ।
সেই জন্যে না ? আমি ত ভাবতাম .....
না হে , না । তোমার গুরুদেবের মন অত সংকীর্ণ নয় । তাহলে ত তোমার আমার রিলেশানই কবে খারাপ হয়ে যেত । তাহলে কি আর তোমার লেখা 'বিদ্রোহী' কবিতা পড়ে তোমাকে সকলের সামনে ওরকম জাপ্টে ধরতে পারতাম ? আমি আর কখনো কি কোথাও ওরকম আবেগ প্রকাশ করেছি ?
তা ঠিক । আপনি আমার বড্ড প্রশংসা করেন । সবজায়গায় ।
করবো না ?  তুমি ত সরস্বতীর বরপুত্র । কি অপূর্ব তোমার লেখার হাত । তোমাকে ও কথা বললাম । তুমি রাজি হলে না । তারপরে আমি তোমার লেখা পড়েই বুঝেছিলাম তুমি অস্বাভাবিক প্রতিভাবান । শান্তিনিকেতনে গেলে তোমার ট্যালেন্ট একটা ছোট জায়গাতেই আবদ্ধ হয়ে থাকত । কলকাতায় না রইলে তোমাকে এত লোক চিনত না !
আপনি আমায় খুব ভালবাসেন গুরুদেব ।
বাসিই ত । তুমিও ত প্রথমদিকে খালি আমার গানই গাইতে । তুমি আর তোমার এক বন্ধু তো জুটি বেঁধে সারা বাংলায় আমার গানই গেয়ে বেড়াতে ।
গাইব না ! এবার নজরুল কথা বলে উঠলেন রবীন্দ্রনাথের সুরে । কি অপূর্ব গান । পরে ত আমিও গান লিখতে শুরু করলাম । কিন্তু আপনার মত লিখতে পারলাম কই ?
ও কথা বোলো না । আমাদের দুজনের স্টাইল তো আলাদা । কি চমৎকার শ্যামাসংগীত লেখো তুমি । আমি ত সেরকম কিছু লিখলামই না !
তাহলেও । আমার গান ত শুনেই বোঝা যায় কোন রাগরাগিনীর আশ্রয় করে সেগুলো গড়ে উঠেছে । আর আপনার ....। কি অদ্ভুতভাবে যে রাগগুলোকে মিলিয়ে নেন ।
তুমি ত প্রচুর গান লেখ । তোমার গানের সংখ্যা ত এখনই আমাকে ছাডিয়ে গেছে শুনতে পাই ।
আসলে গ্রামাফোন কোম্পানিতে চাকরি নেবার পর গানের অর্ডার এত বেডে গেছে । নজরুল সলজ্জ ভঙ্গিমায় বললেন । আর গান লেখা ছাড়া ত আমাদের কোন কাজই নেই । ওদিকে আপনি ? গান লিখছেন , বিদ্যালয় চালাচ্ছেন , জমিদারি দেখছেন , দেশবিদেশে বক্তৃতা দিচ্ছেন । উফফ্ । কি করে যে পারেন !
ও হয়ে যায় । প্রকৃতিগত ভাবেই আমি খুব স্বাস্হ্যবান । সামান্য অর্শ ছাড়া আমার আর কোন সমস্যাই নেই ।
এরকমই থাকুন গুরুদেব । নজরুল কাতরভাবে প্রার্থনা করলেন ।
কথায় বাঁধা পড়ল । কবিগুরুর বউমা প্রতিমাদেবী এসে জিগ্যেস করলেন , বাবা, আপনি কিছু খাবেন ?
তুমি কিছু খাবে নাকি , নজরুল ?
কে আমি ? না , গুরুদেব । নজরুল অসম্মতি জানালেন ।
আমিও এখন কিছু খাব না , বউমা ।
আপনি এখন খুবই কম খান । মৃদু অনুযোগ জানিয়ে প্রতিমা চলে গেলেন ।
খুব কম খান কেন , গুরুদেব ?
না গো বয়স হয়েছে । আমার বাবা বলতেন বেশী যদি খেয়ে চাও, তো কম কম খাও ।
তা সত্যি ।
আরেকজনও ছিল বুঝলে ? সেও আমার গান গাইত । আর খেতে বড় ভালবাসত ।
কে গুরুদেব ?
কে আবার । বিবেকানন্দ । আমি বলতাম নরেনবাবু । আমরা ত প্রায় সমবয়সী । আমি এক দেড় বছরের বড় ।
নজরুল একটু অবাক হলেন । তার কেন জানি ধারণা ছিল রবীন্দ্রনাথ আর বিবেকানন্দের পারস্পরিক সম্পর্ক সেরকম ভাল ছিল না ।
কি ভাবছ ? রবীন্দ্রনাথ যেন মনের কথা পড়তে পারলেন । তুমি জানতে আমাদের আদায় কাঁচকলায় , তাই ত ?
নজরুল আর কি বলবেন । অস্বস্তির হাসি হাসলেন ।
লোকে এসব বলে বেড়ায় । কেউ কিছু জানে না , জানার চেষ্টা করে না ।
বিবেকানন্দ আপনার গান গাইতেন ?
তবে শোন । তখন আমার বয়স বিশ । রাজনারায়ন বসুর মেয়ের বিয়ে । আমাকে জ্যোতিদাদার মাধ্যমে খবর পাঠালেন গান গাইতে হবে । বাল্মিকী প্রতিভা বেরিয়ে গেছে । একটু আধটু নামও হয়েছে । তবে অত লোকের মধ্যে একা গাইব ! একটু টেনশন হচ্ছিল । এইসময় হঠাৎ নরেনবাবুর সঙ্গে দেখা । আমাদের বাডিতে প্রায়ই আসত । আমার ভাইপোর বন্ধু ছিল । ব্যাস্ । ওঁকে চেপে ধরলাম ।
তারপর ?
বেশ কিছুদিন রিহার্সাল করলাম । তিন খানা গান । আমার লেখা । নরেনবাবু গাইল , পাখোয়াজ বাজাল । আমি অরগান বাজালাম ।
সে কি । আপনি গাইলেন না ?
ঐ । গলা মেলালাম। নরেনবাবুর গলার সঙ্গে আমি পারি নাকি ? কি জোরাল ওজস্বী গলা ছিল ।
নজরুল চুপ করে রইলেন ।
তারপর ত সারা কলকাতায় আমার গান গাইতে লাগল । রেগুলার তাডা । গান লিখুন , আরো গান লিখুন । আমার গান তো রামকৃষ্ণদেবকেও শুনিয়েছিল । তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা ।
আচ্ছা , আপনি রামকৃষ্ণকে গান শোনান নি ?
শোনাই নি , মানে ! বছরখানেক পরেই ত শোনালাম । কাশীমিত্রের বাগানবাডিতে । কি খুসি যে হলেন । বড় মধুর স্বভাবের ছিলেন । রবীন্দ্রনাথ একটু যেন অন্যমনস্ক ।
তারপর কি হল ?
তারপর ত রামকৃষ্ণদেব মারা গেলেন । নরেনবাবুও ভ্যানিশ । প্রায় দশ বছর পর হঠাৎ উদয় -বিবেকানন্দ হয়ে । বিশ্বজোডা নাম । কলকাতায় সম্বর্ধনা দেওয়া হল । আমিও মন্চে ছিলাম । চিনতে পারলো । বেশ কথাও হল ।
আপনি ছিলেন ? নজরুল বিস্মিত । কোথায় যেন শুনেছিলেন বিবেকানন্দের নামডাক হবার পর রবীন্দ্রনাথ অস্বাভাবিক চুপচাপ ছিলেন । সেরকম কোথাও কিছু লেখেন নি ওনার সম্পর্কে ।
ছিলাম ত । কী নায়কোচিত জীবন । যেন নভেল । আমার একটা উপন্যাসে তো ওর ভালো রকম প্রভাব আছে ।
কোনটা গুরুদেব ?
কেন , গোরা ।
ও তাই বুঝি । সত্যি , আগে খেয়াল করি নি। অনেক মিল আছে ।
আর বিবেকানন্দের আরেক অনুষ্ঠানের ত আমিই ছিলাম প্রধান উদ্যোক্তা । তবে তাতে উনি ছিলেন না ।
কবে , গুরুদেব ?
কবে আর । ওনার স্মরণসভায় । যেবার আমার স্ত্রী মৃণালিনী চলে গেল , সেবছরই ত নরেনবাবুও.... । কী লোক । যেমন সাহস , তেমন অপূর্ব চিন্তাধারা , আর তেমনি বক্তৃতা দেবার ক্ষমতা । আমার বাবাও তো ওঁকে খুব ভালবাসতেন । নরেনবাবু ত খুব খেতে পারত । বাবা ওকে সামনে বসিয়ে খাওয়াতেন । আর ওর কথা শুনতেন । বলতেন ছেলেটির কথায় যেন জাদু আছে  । তোমরা ত ওনার কথা বা বক্তৃতা শোনোনি , না ?
কি করে শুনবো , গুরুদেব । ঊনিশশ দুই সালেই আমার বয়স ত মাত্র তিন ।
মাত্র ? ও বাবা । তুমি ত তারমানে আমার ছোটছেলে শমী-র চেয়েও ছোট ।
নজরুল আবারও সলজ্জ হাসলেন ।
শমীও খুব প্রতিভাবান ছিল জান তো । আমাকে সবাই বলত ও নাকি আমার কার্বন কপি । তা সেও ত চলে গেল । মাত্র এগার বছর বয়স ছিল ।
কি হয়েছিল , গুরুদেব । নজরুল জিজ্ঞাসা করলেন ।
কলেরা । মুঙ্গের গেছিল । বন্ধুর বাডি । সেখানেই ।
নজরুল চুপ করে রইলেন ।
যেদিন শমী চলে গেল ...... রবীন্দ্রনাথ বলে চললেন । রাতের বেলা দেখি সারা পৃথিবী যেন চাঁদের আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে । দেখি প্রকৃতি যেমনিভাবে চলে ঠিক তেমনভাবেই চলছে । কোথাও কোনো ব্যতিক্রম নেই । আমার এই শোকেরদিনে যেন কারোর কিছু আসে যায় না । একটা ভারি অদ্ভুত অনুভুতি হল , জানলে !
নজরুল বড় বড় চোখ মেলে রবীন্দ্রনাথের দিকে চাইলেন ।
মনে হল - ব্রম্ভান্ডের সৃষ্টিকর্তার এটাই ইচ্ছা । মৃত্যু আসবেই , হয়ত অকালেই আসবে । শোকতাপ থাকবে । যেমন আনন্দও আছে । কিন্তু কাজ থামালে চলবে না । আমাদের আরব্দ্ধ কাজ আমাদের করে যেতেই হবে । আর এইটেই হল মহাবিশ্বের পরম সত্য ।

( কথোপকথন কাল্পনিক । কিন্তু ঘটনা সবই সত্য ।
 তথ্যসূত্র : কাজী নজরুল - মুজফফরআহমেদ / কবি ও সন্ন্যাসী - অমিতাভ চৌধুরী / রবিজীবনী - প্রশান্তকুমার পাল )

Thursday, August 9, 2018

14>দাদাঠাকুর::-- শরৎ চন্দ্র পণ্ডিত

14>দাদাঠাকুর::--শরচ্চন্দ্র পণ্ডিত
      ( শরৎ চন্দ্র পণ্ডিত )

কৌতুক, বিদ্রুপাত্মক সহিত্য-রচয়িতা,
কবি, সামাজিক সমালোচক, গীতিকার
শরৎ চন্দ্র পণ্ডিত
(AD  27 April 1881 - 1968) //
(BS 13ই বৈশাখ 1288--13বৈশাখ1375)





(জন্মঃ ১২৮৮বঙ্গাব্দ, 
মৃত্যুঃ ১৩৭৫ বঙ্গাব্দ/1880 -–1968)


' দাদাঠাকুর ' (প্রকাশক - মিত্র ও ঘোষ পাব্লিশার্স,
 ১০ শ্যামাচরণ দে স্ট্রীট, কলকাতা ৭০০ ০৭৩) -
  
বিশদভাবে দাদাঠাকুরকে 
জানতে হলে, যিনি মূর্ত্ত হয়ে উঠেছেন 
নলিনীবাবুর কলমে, এই বইটি অবশ্য পাঠ্য৷

যাকে আশ্রয় করে  সামান্য একটু লিখতে  
চেষ্টা করেছি।

বাংলা সাহিত্যের পাঠক সমাজে
দাদাঠাকুরনামেই পরিচিত,
তিনিও ছিলেন একজন বাঙালি কথাশিল্পী
ও সাংবাদিক৷ যিনি মুখে মুখে ছড়া,
হেঁয়ালী ও হাস্য কৌতুক রচনা করতেন।
তাঁর রচিত নানান হাসির গল্প
বাঙলা সাহিত্যের অমর কীর্তি৷
তার প্রকাশিত বিখ্যাত গ্রন্থ বোতল পুরাণ।

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা::--

তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বীরভূম
জেলায়।
তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুর
মহকুমার দফরপুর গ্রামে
বাস করতেন।
দরিদ্র পরিবারের সন্তান শরৎচন্দ্র
এন্ট্রান্স পাশ করে বর্ধমান
রাজ কলেজে এফ.এ. ক্লাসে ভর্তি হন
কিন্তু আর্থিক কারনে পড়া
সম্পুর্ন করতে পারেননি।
সাংবাদিকতা ও সাহিত্যসম্পাদনা
জঙ্গীপুরে তিনি অত্যন্ত সাধারণ
জীবন যাপন করতেন
কিন্তু অত্যন্ত তেজস্বী
মানুষ ছিলেন।
চারিত্রিক দৃঢ়তায় ছিলেন আধুনিক
কালের বিদ্যাসাগর।



পন্ডিত প্রেস নামে একটি হস্তচালিত
ছাপাখানা স্থাপন করেন তিনি।

কলকাতা থেকে ২৫০কি.মি. দুরের 
রঘুনাথগঞ্জ শহর থেকে প্রকাশ
করেছেন ‘জঙ্গিপুর সংবাদ’ পত্রিকা।
প্রকাশ করেছেন ‘বোতল পুরাণ’,
‘বিদূষক’ নামের পুস্তিকা
বোতলের আকারে পত্রিকাও।
দাদাঠাকুর ছিলেন স্বভাব কবি
এবং তীক্ষ্ণধী, সমাজ সচেতন
লেখক।

এক সাহেবের কাছ থেকে
22 বছর বয়সে মাত্র 46 টাকায়
পুরোনো প্রেস কিনে নিজেই
পত্রিকা ছাপতেন-"বিদূশক"।
সেটা শহরে নিজেই গান গেয়ে ফিরি
করে বেরাতেন।
আর এই ভাবেই তিনি সংসার
চালাতেন এবং সেবা কার্য
চালিয়ে যেতেন।

  বলতেন-“আমার ছাপাখানার
আমি প্রোপ্রাইটার, আমি কম্পোজিটর,
আমি প্রুফ-রিডার, আমিই ইঙ্কম্যান।
কেবল প্রেস-ম্যান আমি নই-সেটা
ম্যান নয়, উওম্যান।
অর্থাৎ আমার অর্ধাঙ্গিনী।
ছাপানোর কাজে ব্রাহ্মণী আমায়
সাহায্য করেন।”
চেক –দাখিলা, নিমন্ত্রণ পত্র, প্রীতি উপহার,
বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ইত্যাদি ছাপিয়ে
যা পান তাতেই সংসার চলে
কোন রকমে।
তারই মধ্যে বিপদে-আপদে
লোকজনকে সাহায্য করেন।

তাঁর  একক প্রচেষ্টায় জঙ্গীপুর সংবাদ
নামে একটি সংবাদপত্র প্রকাশ
করতে ছিলেন।
এমনকি বিক্রেতাও ছিলেন।

এই পত্রিকা বাংলার বলিষ্ঠ মফস্বল
সাংবাদিকতার প্রথম উদাহরণ।
ঘুমাইলে চোখে দেখি না! বলেছেন:
 ব্রিটিশদের শাসনের প্রতিবাদে  ।

 সমস্ত কিছুই একা হাতে কর‍তেন।
এছাড়া তার প্রকাশিত বিদুষক
পত্রিকায় বেরতো তাঁর নিজের
রচিত নানা হাসির গল্প
ও হাস্য কৌতুক।
বিদূষক পত্রিকা রসিকজনের
দৃষ্টি আকর্ষন করে।
দাদাঠাকুর নিজে কলকাতার
রাস্তায় রাস্তায় গিয়ে বিক্রি
করতেন এই পত্রিকা।
প্রাক স্বাধীনতার সময় কলকাতার
রাস্তায় গান গেয়ে বোতল পুরান
পুস্তিকাটি ফেরি করতে গেলে
ব্রিটিশ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার
করতে আসে,
তাঁদের জন্য তৎক্ষণাৎ বানিয়ে
ইংরেজিতে গান ধরলেন তিনি।
শ্বেতাঙ্গ পুলিশ খালি গা ও খালি
পায়ের এমন এক হকারকে
ইংরেজিতে গান গাইতে দেখে
হতবাক হয়ে যায় এবং শুধু উৎসাহ
জোগাতেই আট কপি কিনে নেয়।


তার কাব্যপ্রতিভা, রসবোধ
ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ছিল সহজাত।
সিনেমাতে দেখি নেতাজী
সুভাষচন্দ্র বোস তৎকালিন কলকাতা
পৌরসভার মেয়র পথে তাঁকে অপদস্ত
হতে দেখে গাড়ি থেকে নেমে প্রণাম করে।


দাদাঠাকুরের “জঙ্গীপুর সংবাদ”-এ
নিজের আঁকা ছবি সহ সংবাদ
পরিবেশিত হত।
থাকতো কবিতাও-বুদ্ধিদীপ্ত
ও সরস- কখনও বিদ্রুপাত্বক।

 অন্যায়, অসদাচরণ, নিপীড়ন
দেখলেই যেন ঝলসে উঠতো লেখনী।
সমাজে, রাষ্ট্রে, ধর্মে-যেখানেই কোনরূপ
ব্যাধির লক্ষণ দেখেছেন, সেখানেই
তাঁর যষ্টিমধুর মুষ্টিযোগ ব্যবহার করেছেন।
“জঙ্গীপুর সংবাদ”-এর পর দাদাঠাকুর
বার করলেন সাপ্তাহিক ‘বিদূষক’
আর ‘বোতল পুরাণ’ – বোতলের আকারে
কালো রঙের মোটা কাগজে লাল রঙের
কালিতে লেখা কবিতা-মাতালদের উদ্দেশ্যে।
 নিজেই কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্রী
করতেন, অনেক সময় গান করে।
যেমন,--------
আমার বোতল নিবি কে রে?
এই বোতলে নেশাখোরের
নেশা যাবে ছেড়ে।
বোতল নিবি কে রে?

দাদাঠাকুরের
আরেকটা 'নাইস্‌ রাইম্‌'
হিউমার স্যাটায়ার উইট্‌
আর ইন মাই পাবলিকেশন।
জেন্টলম্যান টেক দি বটল্‌
ফর ইয়োর রিলাক্‌সেশন।
ইট্‌ ইজ্‌ আ নাইস্‌ রাইম্‌
দেয়ার ইজ্‌ নো ভাইস্‌ ক্রাইম
য়্যাট ইয়োর লিজার টাইম্‌
রীড ইট ফর রিক্রিয়েশন।।

হিন্দি ও ইংরেজিতেও কাব্য
লিখেছেন তিনি।
তার ব্যাঙ্গাত্বক কবিতাগুলি ছিল
সমাজের অত্যাচারী কুপ্রথার বিরুদ্ধে
জলন্ত প্রতিবাদ স্বরূপ।
স্বয়ং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু
তাকে শ্রদ্ধা করতেন।

চলচ্চিত্রসম্পাদনা:::--

তাঁর জীবন নিয়ে ৬০ এর দশকে
একটি ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে
দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্র পন্ডিতের
জীবিতকালে।
নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন
ছবি বিশ্বাস।
এছাড়া অন্যান্য শিল্পীরা হলেন
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জী,
সুলতা চৌধুরী ও তরুণ কুমার।
এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যে
ছবি বিশ্বাস জাতীয় পুরষ্কার লাভ করেন।

সিনেমাতে দেখি নেতাজী সুভাষচন্দ্র   
বোস তৎকালিন কলকাতা পৌরসভার
মেয়র পথে তাঁকে অপদস্ত হতে দেখে
গাড়ি থেকে নেমে প্রণাম করে।

 তিনিই বোধহয়  বাংলার শেষ কবিয়াল।
দাদাঠাকুর ইংরেজ ভক্ত ছিলেন না।
যেখানেই শাসকের অত্যাচার
ও নীতিহীনতা দেখেছেন, সেখানেই
তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক লেখনীর মাধ্যমে
আঘাত হেনেছেন।

নিজেকে জাহির করেননি কোনও দিন।
স্বদেশি আন্দোলন ও স্বদেশিয়ানার
ব্যাপারে দাদাঠাকুরের আবেগ
কোনও অংশেই কারও থেকে
কম ছিল না।
বিপ্লবীদলের লোক
নলিনীকান্ত সরকারকে তাঁর বাড়িতে
যথা সময়ে আশ্রয় দেন
এবং সর্বোতভাবে সাহায্য করেন।
কাজি নজরুল ইসলামের ‘ধূমকেতু’
পত্রিকাতে পাঠান শুভেচ্ছা-“
"ধূমকেতুর প্রতি বিষহীন
ঢোড়ার অযাচিত আশীর্বাদ"।”
দাদাঠাকুর ছিলেন '‘একাই একশো'’-
নলিনীকান্ত সরকার লিখেছেন,
"“দাদাঠাকুর একটি চরিত্র এবং
আমাদের মনেহয় বাংলাদেশের
একমাত্র চরিত্র"।
দাদাঠাকুরই মনেহয় ঈশ্বরচন্দ্র
গুপ্তের সুযোগ্য উত্তরসূরি
এবং শেষ কবিয়াল।

 দাদাঠাকুরের চেষ্টাতেই এক তেলেভাজা
বিক্রেতা পৌরসভার সভাপতি হন।
চরিত্রটি করেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়।
দাদাঠাকুর কথা দিলে যে করে হোক
তা পালন করতেন।
একবার প্রবল বৃষ্টিতে রেললাইন বন্ধ,
তিনি একগলা জলে ডুবে মাথার
উপর প্রশ্নপত্র নিয়ে কোন এক স্কুলের
পরিক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হন। যা দেখে
শিক্ষকরা বিস্মিত হন।

মদ্যপ জমিদারপুত্র প্রেমের জন্য
স্বদেশী হয়ে প্রাণত্যাগ করলে
দাদাঠাকুরের চোখে জল আসে।
যা দেখে নলিনীকান্ত ব্যঙ্গ করে বলেন,
 "“বিদূশকও তাহলে কাঁদে!"”
তাতে দাদাঠাকুর যা বলেন তা অনেকটা
এমন-“ 'সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে
ঈশ্বর নির্বিকার, তাই বিদূশকও নির্বিকার
হয়ে হাসি-ঠাট্টা করে।
কিন্তু প্রকৃত বীরের মৃত্যুতে ঈশ্বরও কষ্ট পান,
কাতর হন, তাই সেই বীরকে বিদূশক
কি করে উপেক্ষা করেন!
যে বীরের জন্য ঈশ্বর কাঁদেন,
তার মৃত্যুতে তাই বিদূশকের চোখেও
জল আসে।'

তার একমাত্র পুত্র খুব অসুস্থ,
শেষে মৃত্যুও হয়- সেদিনও দাদাঠাকুর
কর্মব্যস্ত।
তা দেখে নলিনীকান্ত বিরক্ত ও মর্মাহত।
কিন্তু দাদাঠাকুর বলেন, ‘"তিনি যে বিদূশক!’"

তার অবস্থা দেখে কোন এক রাজা
তাকে সাহায্য করতে চান।
সুরসিক দাদাঠাকুর তাকে বলেন,
“"ছোটবেলা থেকে আপনার
দান-ধ্যানের গল্প শুনেছি, মু্গ্ধ হয়েছি,
মনে মনে ঠিক করেছি এমন রাজাই হব।
কিন্তু তারই অনুগ্রহে হতে পারব না"।”
তার কথা শুনে রাজামশাইও তার
মনের কথা বুঝে জান।

দাদাঠাকুরকে তাঁর পরিচিত একজন
জিঞ্জাসা করলেন,
" আপনি রবিঠাকুরকে দেখেছেন ?"
দাদাঠাকুর উত্তরে বল্লেন,
"না দেখিনি, তবে দেখা হলে বলতুম
আপনি যেমন ঠাকুর, আমিও
তেমন পন্ডিত ।"

শরত্চন্দ্র পন্ডিত ওরফে দাদাঠাকুরকে
এক কৌতুহলী ব্যক্তি মজা করে জিঞ্জাসা
করলেন, " দাদাঠাকুর আপনার উপাধিটা
পন্ডিত হল কি করে?"
উত্তরে দাদাঠাকুর বল্লেন,
"হবে নাই বা কেন? বস্তু যখন খন্ড খন্ড হয়
তখন তাকে বলি খন্ডিত।
আমি যেখানেই যাই সব কাজ করি পন্ড,
তাই আমি পন্ডিত। "

একবার নলিনী সরকারের বাড়িতে এসে
দাদাঠাকুর বল্লেন," বুঝলে হে নলিনী
তোমাদের এই শহর কলকাতা
বড় অদ্ভুত।"
নলিনীকান্ত বল্লেন,
"কেন এই শহরের হলটা কি?"
দাদাঠাকুর বল্লেন,"হবে আবার কি?
রোজ যা হচ্ছে! পাঁজিতে লেখা বছরে
একদিন রাস, একদিন ঝুলন।
কিন্তু এই শহর কলকাতায় নিত্য রাস,
নিত্য ঝুলন। "
নলিনীকান্ত -
" কোথায় দেখলেন নিত্য রাস
আর নিত্য ঝুলন?"
দাদাঠাকুর - " কেন তোমাদের
ট্রামে বাসে যেমন রাস তেমন ঝুলন।"

হাতিবাগানের মোড়ে দাদাঠাকুর
বিদূষক কাগজ বিক্রি করতেন।
একদিন তাঁর পরিচিত একজন
তাঁকে নিয়ে এল আর্ট থিয়েটারের
ম্যানেজার অপরেশ মুখোপাধ্যায়ের
ঘরে।
সে ঘরে আড্ডা দিতেন অপরেশ বাবু,
জীবন বাবু, তিনকড়ি চক্রবর্তী,
প্রবোধ গুহ, দানী বাবু প্রভৃতি ।
দাদাঠাকুরকে দেখে দানী বাবু
হাত তুলে নমস্কার করে বল্লেন,
"আজকাল আর চোখে ভাল দেখি না।
আমার প্রনাম নেবেন। "
দাদাঠাকুর দানী বাবুর পাশে বসে
গল্প জুড়ে দিলেন।
তাই দেখে তিনকড়ি বাবু বল্লেন,
" পন্ডিত মশাই, আমাদের দিকেও
একটু কৃপাদৃষ্টি নিক্ষেপ করুন।"
দাদাঠাকুর হাসতে হাসতে উত্তর
দিলেন,"গরীব ব্রাহ্মণে দানী দেখলেই
তাঁর কাছে যাই।
আপনার ও তিনটি মাত্র কড়ি
একমাত্র বামুনের হুঁকায় লাগানো
ছাড়া আর কোনো কাজে লাগে না।"

একবার নলিনীকান্ত সরকারের
বাড়ি দাদাঠাকুর এসেছেন, তাঁর মেয়ের
জন্মদিনে। ছানার ডালনা
পরিবেশন করা হচ্ছে।
নলিনীকান্ত একটু রসিকতা করলেন -
" দাদা একটু গরুর ছানার ডালনা দিই?"
সঙ্গে সঙ্গে দাদাঠাকুর বল্লেন,
" দে ভাই , গরুর ছানার `অকেশনেই`
তো এসেছি।"

দাদাঠাকুর আর নলিনীকান্ত সরকার
একদিন পাশাপাশি ঘুমোচ্ছেন।
হঠাত্ গভীর রাতে নলিনীকান্তকে
দাদাঠাকুর বল্লেন," ওরে নলিনী,
একটা বড় জিনিষ আবিষ্কার করেছি।
নলিনী পন্ডিতের (সাহিত্যিক ও সাহিত্য
পরিষদের চির সদস্য) সব সম্পত্তি
তোর আর আমার।"
ঘুম ভাঙ্গা চোখে নলিনীকান্ত-
 "কি করে হবে?"
দাদাঠাকুর -" কেন তুই নলিনী আর
আমি পন্ডিত| দুজনে মিলে
নলিনী পন্ডিত।"

বহরমপুর পৌরসভায় ভোট হবে ।
লড়াই দুজন সদস্যের মাঝে ।
একজন রমনীমোহন,
অন্যজন নীলমণি ভট্টাচার্য্য ।
দুজনেই দাদাঠাকুরের সুপরিচিত ।
ভোটের আগে দাদাঠাকুর বল্লেন,
" রমনীর জয় হবে আর নীলমণি
হেরে যাবে ।"
ভোটের ফল বের হলে দেখা গেল
দাদাঠাকুরের কথাই মিলে গেছে ।
সবাই তখন তাকে বল্লে,
"এমনটা যে হবে সেকথা আপনি
আগে থেকে জানলেন কিভাবে ?"
দাদাঠাকুর বল্লেন,
"এ তো খুব সহজ,
রমনীর (Raw Money-র) সাথে
নীলমণি (Nil Money) পারবে কেমন করে ?"

*একদিন এক ধনীর বাড়ি নিমন্ত্রণ খেয়ে
পরদিন ছাপাখানায় এসে একটা ঢেঁকুর
তুলে নলিনীকান্ত সরকারকে বল্লেন,
"একটু তামাক সাজ, শরীরটা
আজ ভালো নেই"।
নলিনীকান্ত জিঞ্জাসা করলেন,
" কেন আবার কি হল?"
দাদাঠাকুর বল্লেন," কালকের ঐ ব্রাহ্মণ
ভোজনের জের, সারা রাত্রি
পেট্রিয়ট হয়ে বিছানায় ছটফট করেছি । "
নলিনীকান্ত - "পেট্রিয়ট হয়ে ,
সে আবার কি ?"
দাদাঠাকুর -"পেটের মধ্যে রায়ট বাধলে
লোকে পেট্রিয়ট হয় ।
আর বলিস কেন, পোলাও, লুচি ,মাছ, মাংস ,
মন্ডা-মিঠাই সব পেটের মধ্যে ঢুকে পড়ায়,
সেই সব অপরিচিতদের দেখে ,
যারা স্থায়ী বাসিন্দা, ডাল-ভাত, শাক-চচ্চড়ি
একত্রে উচৈঃস্বরে who are you,who are you?
করে রায়ট বাধিয়ে দিল ।
সারা রাত্রি পেটের মধ্যে ভারি অশান্তি ।
তোর কাছে যখন এলুম তখনও
who are you?(ঢেঁকুর) বলে একবার হাঁক ছাড়লে ।"


 "দাদাঠকুর" সম্পর্কে
রবীন্দ্রনাথের একটি  কবিতা--------

এই একলা মোদের হাজার মানুষ দাদাঠাকুর
এই একলা মোদের হাজার মানুষ দাদাঠাকুর,
এই আমাদের মজার মানুষ দাদাঠাকুর ।।
এই তো নানা কাজে, এই তো নানা সাজে,
এই আমাদের খেলার মানুষ দাদাঠাকুর ।
সব মিলনে মেলার মানুষ দাদাঠাকুর ।।
এই তো হাসির দলে, এই তো চোখের জলে,
এই তো সকল ক্ষণের মানুষ দাদাঠকুর ।
এই তো ঘরে ঘরে, এই তো বাহির করে
এই আমাদের কোণের মানুষ দাদাঠাকুর ।
এই আমাদের মনের মানুষ দাদাঠকুর ।।

 =======


 দাদাঠাকুর গেয়েছেন ------

দে মা আমায় রাজা করি
আর কাঙ্গাল হয়ে থাকতে না পারি
রাজাই যদি করিস মা গো
দিসনা যেন জমিদারী
ও খাজনা আদায় ভীষম লেঠা
কেমনে করব কালেক্তারি
পাওনাদারে পাওনাদারে আছে
যে আমার জীবন ভরি
আমায় রাজা করার আগে
পাঠাস তাদের যমের বাড়ি
দন্ত লন্ত হলো গো মা
কেমনে চিবই কলাই মুড়ি
এখন হালুয়া ভিন্ন দিন চলেনা
বরং রাবড়ি হলে খেতে পারি
বুঝিনা মা তোর জারিজুরি
টাকা দিতে আ-কার ভুলে
টাক দিলি মা কপাল জুরি
দে মা আমায় রাজা করি.....
দাদা ঠাকুর শরত পন্ডিত

দাদা ঠাকুর মতন ব্যক্তিত্ত্ব পৃথিবীতে
বিরল।
এক স্বাধীন, কর্ত্তব্য-পরায়ণ,
সংবেদনশীল মন৷ এ যুগে যা হারিয়ে
যাচ্ছে৷ এই রকম একজনের কথা
ভবিষ্যত্‍ প্রজন্মকে না জানানোটা অপরাধ৷
এই বিশাল মাপের মানুষটির
জীবন-আলেখ্য উপহার
দিয়েছিলেন ১৩৬৯ বঙ্গাব্দে স্বনামধন্য
বিপ্লবী-স্বনামধন্য ব্যক্তি নলিনীকান্ত সরকার৷
নলিনীবাবুর বইটির নাম হলো
"  দাদাঠাকুর"

 দাদা ঠাকুর নিজেকে 'বিদূশক' বলতেন 
তাই মজার চরিত্র ছিলেন, তবে তার হাসির
পিছনে যে অনেক কষ্ট, অনেক
যন্ত্রণা ছিল তা বুঝতে অসুবিধা হয় না
....মানুষটি ৮৭বছর বেঁচে ছিলেন।

..."১টাক দিলি মা কপাল জুরি
দে মা আমায় রাজা করি।"

দাদাঠাকুরের জীবনদর্শন ছিল অপূর্ব।
 দাদাঠাকুর স্ত্রীকে এমন শিক্ষা দিয়েছেন
যাতে কারো কাছে কিছু না চাইতে হয়-
এমন কি ভগবানের কাছেও নয়।
বলেছেন- "“না চাইতে যিনি এত দিয়েছেন,
কি করে খেতে হবে তাও শিখিয়েছেন,
এরপরে আর চেয়ে কি পাব?”"

'‘দেহি'’ শব্দটি বলতে হবে বলে
সরস্বতী পূজা করতেন না।

 প্রত্যুপন্নমতিত্ব আর রঙ্গরসিকতা
ছিল সহজাত-যা তাঁকে আজ ও অমর
এবং অপ্রতিদ্বন্দী করে রেখেছে।

অর্থ-সম্পদে তিনি ছিলেন দরিদ্র,
অন্তরের বিপুল ঐশ্বর্য্যে ছিলেন বিত্তশালী।
ধনী ব্যক্তিদের কাছে মাথা নোয়াননি
কখনও।
বরং ধনী ও উচ্চপদাসীন ব্যক্তিরা
তাঁর সঙ্গ কামনা করতেন।

মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর
মহকুমার দফরপুর গ্রাম।
মহামারী রূপে দেখা দিয়েছে
ওলাউঠা রোগ। ভগবানের
কৃপালাভের উদ্দেশ্যে
গ্রামবাসীরা বেড়িয়েছেন
সংকীর্তন দল নিয়েঃ------

‘ভাই, হরি বল্‌, দুই বাহু তুলে
শমন –দমন যাতে হবে রে!
রাজার যে রাজ্যপাট
যেন নাটুয়ার নাট, ভাই রে,
দেখিতে খিতে কছু নাই রে!
ভাই, হরি বল্‌, দুই বাহু তুল।...’

পিছন থেকে ধ্বনিত হলো,
“একটা বমি, দুটো দাস্ত
করতে নারবে বরদাস্ত, ভাই রে!
দেখিতে দেখিতে নাড়ি নাই রে!
ভাই, হরি বল্‌, দুই বাহু তুলে...”

দলের নজর পিছনে পড়তেই
 সেই নবীন কবি-গায়কের
ঊর্ধশ্বাসে পলায়ন!

এই কবি-গায়ক হলেন –‘দাদাঠাকুর’
- শ্রী শরৎচন্দ্র পন্ডিত,
যাঁর বিধিদত্ত সম্পদ হাস্যরস-
-প্রকাশ পেয়েছে কবিতা
ও গানের মধ্য দিয়ে।
সঙ্গে ছিল প্রচন্ড তীক্ষ্ণবুদ্ধি।
কৈশোর থেকেই প্রতিভার স্ফুরণ।
পড়াশুনো এফ.এ পর্যন্ত।
প্রবেশিকা করেছিলেন জঙ্গীপুর
হাইস্কুল থেকে, বর্ধমান রাজ কলেজ
থেকে এফ.এ।
রঘুনাথগঞ্জে সস্ত্রীক থাকতেন,
চালাতেন জঞ্জীপুর প্রেস।
: এই একলা মোদের হাজার
মানুষ দাদাঠাকুর ...


 শোনাযায় ------
একবার মেয়েদের উপর অত্যাচার শুরু
হলে তিনি নিজের খরচে কামারকে
দিয়ে ছোড়া বানান ও বাড়ি বাড়ি
মেয়েদের বিতরণ করেন।

দাদাঠাকুরের অসাধারণ কবি 
প্রতিভা ছিল।
রসনাগ্রে সরস্বতী যেন সর্বক্ষণ
বিরাজ করতেন।
যে কোনও বিষয়ে তিনি
বাংলা, হিন্দী ও ইংরাজী ভাষায়
কবিতা বা গান মুখে মুখে
বলে যেতেন,
সাথী শ্রী নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়
 লিখে নিতেন।
দাদাঠাকুরের কাব্যপ্রতিভায় বিস্মিত
হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, প্রশস্তি জ্ঞাপন
করেছেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, মুগ্ধ হয়েছেন
রসরাজ অমৃতলাল বসু,
চমৎকৃত হয়েছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।


রামকুমার চট্টোপাধ্যায় তখন সবে
নাম-টাম করতে আরম্ভ করেছেন।
রেডিওয় প্রোগ্রাম ছিল গানের।
গান করে বেরিয়েই, দেখেন
শরৎ চন্দ্র পন্ডিত (দাদাঠাকুর)
রেডিও স্টেশনে ঢুকছেন।
দাদাঠাকুর রামকুমারকে দেখে
জিজ্ঞেস করলেন,
"তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না!"
রামকুমার জবাব দিলেন, '
আজ্ঞে, আমি গাই'।
দাদাঠাকুরের প্রশ্ন,
"অ, তা কত সের দুধ দাও?'
দাদাঠাকুরের রেডিওর প্রোগ্রাম
শেষ হবার মুখে , পরের প্রোগ্রাম
বাংলা খবর।
দাদাঠাকুর আজকের মতন
এই বলাতেই কাঁচের ওদিক থেকে
প্রোগ্রাম শিডিউলার গোছের কেউ হাত
নাড়িয়ে দাদাঠাকুরকে জানালেন নিউজ
রিডারের তৈরী হতে আরো মিনিট
খানেক দেরী আছে।
দাদাঠাকুর এক ঝলকে সেটা বুঝে
নিয়েই বলতে থাকলেন -
এর পরে হবেই সংবাদ।
তোমরা সবাই জানো কি সংবাদকে
ইংরিজিতে NEWS কেন বলা হয় ?
কারণ North , East, West আর South
প্রতিটি দিক থেকে লোকজনের আর
দেশদশের খবর পরিবেশন করা
হয় সংবাদে !

দাদাঠাকুর বড়লোক সম্বন্ধে বলেছিলেন
-"ওরা তো কর্ত্তা নয়, কারকও নয়,
ওদের ডেফিনেশন হচ্ছে – বড়লোক
ইজ য়্যান অব্‌জেক্টিভ কেস,
গভর্নড বাই দি প্রিপোজিশন ড্রাইভার।"
ড্রাইভার 'প্রিপোজিশন' কি করে হলো–
এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন,-
"বড়লোকরা তো গাড়ীর পিছনের সীটে
বসে থাকে,
ড্রাইভারের পোজিশনই তো আগে।
তাই ড্রাইভার হলেন 'প্রিপোজিশন'।"


দাদাঠাকুর ভোট প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে লেখেন-
ভোট দিয়ে যা-
আয় ভোটার আয়।
মাছ কুটলে মুড়ো দিব,
গাই বিয়োলে দুধ দিব,
দুধ খেতে বাটি দিব,
সুদ দিলে টাকা দিব,
চাল দিলে ভাত দিব,
মিটিং-এ যাব না, অবসর পাব না,
কোনো কাজে লাগবো না,
যাদুর কপালে আমার ভোট দিয়ে যা।।

দাদাঠাকুরের বিখ্যাত কীর্ত্তনের প্যারডি-
প্রভাত হইল ভূবন গাহিল
টাকা টাকা টাকা বলে
ঝাঁকে ঝাঁকে ঝাঁকে থাকে থাকে থাকে
চলেছে কেরাণী কুলি।
এ জগতে ভাই টাকাই শ্রেষ্ঠ
টাকাই পেতে সবে সচেষ্ট
ধনিরা খুলেছে আয়রণ চেষ্ট
ভিখারী খুলেছে ঝুলি।
রৌপ্যচক্রাকার তুমি ভগবান
গোলকে ভূলোকে তব জয়গান
টাকায় টাকা বাড়ে সুদ চক্রহারে
আনে দু আনি সিকি আধুলী।।


.দাদাঠাকুর---------
“আমার নাম শ্রী শরৎচন্দ্র পণ্ডিত।
 ১২৫ ঘর নিরক্ষর চাষী অব্রাহ্মণ;
আমাকে কেহ বাবাঠাকুর কেহ
কাকাঠাকুর–অর্থাৎ যার যা সম্পর্ক
মানায় তাই বলে ডাকত, তবে
“দাদাঠাকুর” বলে ডাকার লোক
সংখ্যা খুব বেশী–তাই আমাদের পল্লীতে
দাদাঠাকুর বলতে আমাকেই বুঝায়।
এমন কি কলকাতার মত শহরেও
আমার এই নাম জারী হয়েছে।”
— শ্রী শরৎচন্দ্র পণ্ডিত।


সমাজপতিদের অনাচারের বিরুদ্ধে
কলম ধরে তিনি লিখেছিলেন:-
সমাজ সমাজ শুনে শুনে কানটা হলো ভোঁতা
খুঁজে কিন্তু পাই না দেশে সমাজ আছে কোথা!
এই লেখাটার শিরোনাম ছিল:-
সমাজনেতার ভ্যালু= জিরো
ইংরেজী, সংস্কৃত, বাংলা আর হিন্দিতে তাঁর 
অগাধ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনচেতা
দাদাঠাকুর কোনোদিন চাকরীর
দিকে পা বাড়াতে চান নি।

“পণ্ডিত প্রেস” থেকে বেরুত
“জঙ্গীপুর সংবাদ”।
এই পত্রিকার প্রধান আয়ের উৎস ছিল-
মুন্সেফ আদালতের বিজ্ঞাপন।
 কিন্তু তিনি সরকারকে আক্রমণ করতে
 ছাড়েন নি!
মহুকুমা হাকিমের এক অন্যায়ের
বিরুদ্ধে লিখেছিলেন:-
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই
হাকিমে মুনসেফে কেসতুতো ভাই.|


একবার তাঁর প্রতিবেশী কার্ত্তিক
চানাচুরওয়ালার ত্রৈমাসিক পুরকর বেড়ে
দ্বিগুণ হয়ে গেল।
দাদাঠাকুর কার্তিকের হয়ে দরখাস্ত দিলেন।
কোনো কাজই হলো না।
বরং ছয় আনা(।৵০) থেকে বেড়ে দেড়
টাকা (১।।০) হয়ে গেল।
সুযোগ ধরা দিল যেচে এসে ।
পুরসভার চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে
একটি পদ খালি হলে, পৌরসভাতে
উপনির্বাচনের ঘোষণা হল।
দাদা ঠাকুর কার্তিককে সেই নির্বাচনে
দাঁড় করিয়ে দিলেন।
ছড়া ছাপা হল “জঙ্গীপুর সংবাদ”এ:-

ভোট দিয়ে যা---আয় ভোটার আয়
সুদ দিলে টাকা দিবো ফি দিলে উকিল হব
চাল দিলে ভাত দেব মিটিংএ যাব না
অবসর পাব না কোনো কাজে লাগবো না
যাদুর কপালে আমার  ভোট দিয়ে যা!
কার্ত্তিক জিতল।
কিন্তু অভিজাত পুরপিতাদের
আর জাত- কুল- মান বলে কিছুই
থাকল না!
ছ্যা ছ্যা! একটা চানাচুরওয়ালার কাছে হার!!!
তারা প্রেসিডেন্সী কমিশনারের কাছে
গিয়ে একযোগে পদত্যাগ করবেন
বলে হুমকি দিলেন।
আবার দাদাঠাকুর নামলেন আসরে।
প্রেসিডেন্সী কমিশনারকে কোলকাতায়
গিয়ে বুঝিয়ে বলাতে, আসল ব্যাপারটা
বুঝে কমিশনার সাহেব, ক্যালকাটা
গেজেটে কার্ত্তিকের নাম বের
করে দিলেন।
মহুকুমা হাকিম পরে একদিন গেজেটের
কপি নিয়ে স্বয়ং কার্তিকের হাতে দিয়ে
অভিনন্দন জানালেন আর মহুকুমা
আদালতের স্থানীয় ছোটখাটো মামলার
তদন্তের ভার কার্ত্তিকের ওপর সঁপে দিলেন।
অভিজাত পুরপিতাদের
জাত- কুল- মান, সব চুপসে গেল।


  PALINDROME---------
ইংরেজি ভাষাতে যে প্যালিনড্রোম
বা উভমুখী শব্দ আছে সেরকম
বাংলায় শব্দ সৃষ্টি করেছেন,দাদাঠাকুর |

"দাদাঠাকুর (শরৎচন্দ্র পণ্ডিত)
প্যালিনড্রোমের প্রতি বিশেষ
আকৃষ্ট ছিলেন।
তাঁর ‘বিদুষক’ পত্রিকায় তিনি বহু
প্যালিনড্রোম সৃষ্টি করে বাংলাভাষায়
প্যালিনড্রোমকে সমৃদ্ধ করেছেন।
কাক কাঁদে কাঁক কা,
চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে,
তাল বনে নেব লতা -এইসব দাদাঠাকুর
সৃষ্ট অমর প্যালিনড্রোম।
তাঁর সৃষ্ট ‘কীর্তন মঞ্চ পরে পঞ্চম নর্তকী’
সম্ভবত বাংলাভাষায় সর্বাধিক জটিল
ও সর্বাধিক শব্দ সমন্বিত প্যালিনড্রোম। "

 ইংরেজীতে  “ প্যালিনড্রোম” বা বাংলায়
উভমুখী শব্দ  বলে একটা কথা আছে।
সোজা বা উল্টো, যে দিক থেকেই
পড়া যাক না কেন, ব্যাপারটা
একই থাকবে।
নবীন, কনক, নন্দন, দেবী দে এবং মহিম—
এই পাঁচটি উল্লেখ করা নামের মধ্যে
বৈশিষ্ট্য কী?
প্রত্যেকটি তিন অক্ষরের ঠিকই, কিন্তু!
প্রত্যেকটি নামই উভমুখী অর্থাৎ
সামনে ও পিছন থেকে উচ্চারণ হবে
একই।
এই ধরনের উভমুখী শব্দ বা বাক্যকে
বলা হয়ে থাকে প্যালিনড্রোম
(Palindrome)। গ্রিক শব্দ ‘
প্যালিনড্রোমাস’ নামক শব্দ থেকে
প্যালিনড্রোম কথাটা এসেছে।
‘প্যালিনড্রোমাস’ নামক শব্দের
অর্থ হল উভমুখী বা বিপরীতমুখী।
পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক ভাষাতেই
এই ধরনের শব্দ বা বাক্য পাওয়া যাবে।


"বাংলায় নামের ক্ষেত্রেও
প্যালিনড্রোম শব্দের দেখা পাওয়া যায়
যেগুলো কিছুটা লম্বা।
সুবললাল বসু, রমাকান্ত কামার,
সদানন দাস, রায়মণি ময়রা,
নিধুরাম রাধুনি, হারান রাহা
প্রভৃতি।
এ ছাড়াও বিভিন্ন অর্থবহ প্যালিনড্রোম
শব্দ বা বাক্য রয়েছে, যেমন—
মরম, মলম, দরদ, জলজ, বনমানব,
নবজীবন, সহিস, কালিকা, সরেস,
তফাত, বাহবা, সন্ন্যাস, সন্ত্রাস, নরুন,
বই চাইব, নাম লেখালেম না,
বিকল্প কবি, তুমি কি মিতু, ঘুরবে রঘু,
মার কথা থাক রমা!"


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন:-
কোনদিন এত বুড়ো হবো নাকো আমি ।
হাসি তামাশারে যবে কবো ছ্যাবলামি ।।

দাদাঠাকুর কোনদিন ছ্যাবলামি করেন নি,
হাসি তামাশার মধ্যে দিয়ে  সমাজের
উপকার করেছেন !
আজ দাদা ঠাকুরকে  জানাই আমার
 সশ্রদ্ধ প্রণাম !
আর ঈশ্বরকে জানাই আমার আর্জি
এমন দাদাঠাকুরের মতন সন্তান
আরকি জন্মাবেনা  বাংলায়।



========================================================