Friday, March 27, 2026

50>||গৌতম বুদ্ধ ::--

   50>||গৌতম বুদ্ধ ::--


গৌতম বুদ্ধের গৃহ ত্যাগ,:::---

সেদিন হঠাৎ মাঝরাতে সেই রাজকীয় প্রমোদকক্ষে এমন কী ঘটেছিল, যার জন্য তিনি সব ছেড়ে পালিয়েছিলেন? :---

আমাদের কাছে হয়তো এমনটা ভাবনার অতীত বা শুনতে কিছুটা অদ্ভুত  লাগলেও,--

 

বাস্তবে ঘটনাটি মানব মনস্তত্ত্বের এক চরম সত্যি! যা রাজপুত্র সিদ্ধার্থের সেই রাত্রির আসল ঘটনা যা গল্প মনে হলেও 

ঘটনাটি ঐতিহাসিক সত্যতার প্রমান রাখে।

আমরা ইতিহাসে জেনেছি যে সিদ্ধার্থের জন্মের পরই ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছিল— এই ছেলে বড় হয়ে হয় পুরো পৃথিবী শাসন করবে (চক্রবর্তী সম্রাট), আর না হয় সব ছেড়ে এক মহান সন্ন্যাসী হবেন।


 মন ভবিষ্যৎ বাণী তে রাজা শুদ্ধোধন অতিশয় ভীত হয়ে পরলেন  এবং ছেলের মন যাতে কোনোভাবেই বৈরাগ্যের দিকে না যায়, তার জন্য তিনি তৎপরতা অবলম্বন হেতু  সিদ্ধার্থের জন্য তৈরি করলেন তিনটি আলাদা বিলাসবহুল প্রাসাদ— গ্রীষ্মকালের জন্য 'সুরম্য', বর্ষার জন্য 'শুভ' এবং শীতকালের জন্য 'রম্য'।

শুধু তাই নয়, এই প্রাসাদগুলো ভরিয়ে দেওয়া হলো শত শত রূপসী নর্তকী, গায়িকা এবং সেবিকাদের দিয়ে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সিদ্ধার্থকে পার্থিব সুখ, মদ এবং রূপের নেশায় পাগল করে রাখাই ছিল এদের একমাত্র কাজ। প্রাসাদের বাইরে পৃথিবীটা কেমন, দুঃখ-কষ্ট কাকে বলে, তা সিদ্ধার্থের ধারণাতেই ছিল না।


কিন্তু বিধির বিধানকে খণ্ডাবে কেমন করে।

আর তাই রাজকুমারের বয়স তখন ২৯।

তখন একদিন তিনি লুকিয়ে প্রাসাদের বাইরে গিয়ে বার্ধক্য, রোগ আর মৃত্যু— এই রূঢ় বাস্তব গুলো দেখে ফেলেছেন। তার মনে তখন সৃষ্টি হলো এক বিশাল দ্বন্দ্ব।

এর পরে একদিন রাত্রি কালে রাজপ্রাসাদে এক বিশাল উৎসব চলছিল। শত শত সুন্দরী নারী তাদের রূপ, নাচ আর গান দিয়ে সিদ্ধার্থের মনোরঞ্জনের চেষ্টায় ব্যস্ত ছিল। 

কিন্তু সিদ্ধার্থের মন তখন অন্য কোথাও। একসময় ক্লান্ত হয়ে রাজকুমার ঘুমিয়ে পড়লেন। তাকে সঙ্গ দিতে আসা ওই শত শত সুন্দরী নারীও ক্লান্ত হয়ে সেই বিশাল ঘরের মেঝেতেই যত্রতত্র ঘুমিয়ে পড়ে।

মাঝরাতে হঠাৎ রাজকুমার সিদ্ধার্থের ঘুম ভেঙে যায়। আর চোখ খুলেই তিনি এমন এক দৃশ্য দেখলেন, যা তার শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত নামিয়ে দিল!

যে নারীদের একটু আগেও স্বর্গের অপ্সরা মনে হচ্ছিল, ঘুমের ঘোরে তাদের সেই মেকি সৌন্দর্যের মুখোশ খসে পড়েছে।


 অশ্বঘোষের লেখা বিখ্যাত মহাকাব্য 'বুদ্ধচরিত' (Buddhacarita, 5th Canto)-এর বর্ণনা অনুযায়ী— সিদ্ধার্থ দেখলেন, ওই সুন্দরীরা অত্যন্ত বিকট ভঙ্গিতে শুয়ে আছে। কারোর মুখ হা হয়ে আছে এবং সেখান থেকে লালা ঝরছে, কেউ বিকট শব্দে নাক ডাকছে, কারোর পোশাক অবিন্যস্ত, আবার কেউ ঘুমের ঘোরে দাঁত কিড়মিড় করছে।


এহেন ঘটনার প্রকৃত তত্ত্ব হলো  সিদ্ধার্থ  সেই রাতে নারীদের শারীরিক কদর্যতা দেখেননি, তিনি দেখেছিলেন মানুষের অস্তিত্বের নগ্ন বাস্তবতা (Reality of Impermanence)। 


তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, আমরা যে রূপ-যৌবনের মোহে পাগল হয়ে থাকি, তা আসলে ক্ষণস্থায়ী। ঘুমন্ত বা মৃত অবস্থায় এই শরীরের কোনো গরিমা নেই।

বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ 'নিদানকথা' অনুসারে, সিদ্ধার্থের চোখে ওই বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ মুহূর্তের মধ্যে একটা জ্যান্ত শ্মশান ঘাটে (Charnel ground) পরিণত

হয়ে ছিল ।


সেই ক্ষণে সিদ্বার্থ অনুভব করলেন যে তিনি যেন সারি সারি  শত শত  মৃতদেহের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন। এবং তিনি অনুভব করলেন, এই রূপ, যৌবন, রাজকীয় বিলাসিতা, — সবটাই একটা চরম ধোঁকা ও পাপের আঁধার।

এ-হেন অনুভবের পরে আর এক মুহূর্তও দেরি করলেন না তিনি। স্ত্রী যশোধরা আর শিশুপুত্র রাহুলকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে, সেই রাতেই ওই ঘুমন্ত নারীদের মাঝখান দিয়ে পা টিপে টিপে তিনি চিরকালের মত রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে যান। যাকে ইতিহাসে বলা হয় 'মহাভিনিষ্ক্রমণ' (The Great Renunciation)'মহাত্যাগ' বা 'মহান প্রস্থান।


শত শত নারীর রূপ যৌবন ভোগের বিলাসিতা বিশাল সাম্রাজ্য, অফুরন্ত ঐশ্বর্য,সর্বাধিক শক্তি শালী পূর্ন ক্ষমতার লোভ, প্রলোভন — কোনো কিছুই সেই রাতে তাকে আটকাতে পারেনি।

বৃহত্তর সত্যের খোঁজে পরিবার এবং রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সিদ্ধার্থ চলে গিয়েছিলেন জীবনে আসল সত্যের সন্ধানে।

মানুষের জরা,রোগ ,ভোগ ও মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষার উৎস সন্ধানে।

সেদিন যদি সিদ্ধার্থ সর্বস্ব ত্যাগ করে বেরিয়ে না যেতেন তবে হয়তো বৌদ্ধ ধর্মের সৃষ্টি হতো না।

আমরাও অমৃতের সন্ধান পেতাম না।

সেদিন সিদ্বর্থের সেই আত্ম ত্যাগের

কারনে মানুষ লাভ করেছে অমৃত ফলস্বরূপ জীবনে রোগ জ্বালা শোক মৃত্যুকে জয় করার পথ।

      (সংগ্রহীত)

      

======================

■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■