Thursday, August 30, 2018

15>পুত্রহীন #নজরুল vs রবীন্দ্রনাথ


15>পুত্রহীন   #নজরুল vs রবীন্দ্রনাথপুত্রহীন

সুমিত_চট্টোপাধ্যায়

■■কে , নজরুল ? বোসো । কখন এলে ?
এই ত । স্তিমিত কন্ঠে বললেন নজরুল ।
তা গলাটা এরকম শোনাচ্ছে কেন ! রবীন্দ্রনাথ ঈষৎ বিস্মিত । নজরুল খুবই হুল্লোডবাজ রগুডে মানুষ । আজ তো গলা শোনাই যাচ্ছে না ! কি ব্যাপার , কারোর শরীর টরীর খারাপ নাকি !
আমার ছেলেটা কাল চলে গেল , গুরুদেব । ফুঁপিয়ে উঠলেন কাজী নজরুল ।
সে কী ! চমকে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ । ঊনসত্তর বছর বয়স তার । এখন কি শুধু খারাপ খবর পাওয়ার জন্যেই বেঁচে থাকা । রবীন্দ্রনাথ মাঝে মাঝেই একথা ভাবেন । চিকিৎসাশাস্ত্র একেবারেই অনুন্নত । বাঙালি পুরুষের গড় আয়ু মেরেকেটে চল্লিশ । নিজের অদ্ভুত ভালো স্বাস্হ্যের জন্য নিজেরই বিড়ম্বনা লাগে ।
খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন - কি হয়েছিল ?
বসন্ত । স্মল পক্স ।
কত বয়স হয়েছিল । তিন , না?
চার পূর্ণ হয়ে পাঁচ ।
আবার দীর্ঘক্ষণের নীরবতা । বাঙালির দুই প্রাণের কবি । শব্দের দুই জাদুকর । আজ দুজনেই নীরব ।
একটু পরে রবীন্দ্রনাথই আবার নীরবতা ভাঙলেন - তোমার ছেলেটি বড় ট্যালেন্টড ছিল শুনেছিলাম । কি যেন নাম রেখেছিলে ?
ভালো নাম অরিন্দম খালিদ । সবাই ডাকতাম বুলবুল বলে ।
হ্যাঁ , বুলবুল বুলবুল । নিজের মনেই দুবার নামটা আওডালেন রবীন্দ্রনাথ । শুনেছিলাম তার নাকি অদ্ভুত স্মৃতিশক্তি ।
 আপনি কি করে জানলেন ? অবাক চোখে তাকালেন নজরুল ইসলাম । কত ব্যস্ত মানুষ গুরুদেব । অথচ কত ছোট ছোট ব্যাপারের খবর রাখেন !
আরে না , সেরকম কিছু না । আমায় মুজফফর আহমেদ বলেছিল । গতবছর । জেলে যাবার আগে আমার সঙ্গে দেখা করেছিল  । তোমরা ত একসময় মেসে একই ঘরে থাকতে ?
হ্যাঁ । দশ বছর আগে কলেজস্ট্রীটে । বত্রিশ নম্বর ।
নজরুল আবারও একটু চুপ করে থেকে জিগ্যেস করলেন - তা কি বলছিল আহমেদ সাহেব ?
বলছিল তোমার ছেলে নাকি শ্রুতিধর ।
হ্যাঁ গুরুদেব । যখন ওর দেড় দু বছর বয়স তখন ওকে একটা ছবির বই দেখিয়ে  আমি পাখিদের ইংলিশ নাম বলেছিলাম । ব্যাটা সঙ্গে সঙ্গে মুখস্থ করে ফেলল ! করুণ হেসে বললেন নজরুল । অথচ তখন তো অক্ষরজ্ঞান হওয়া সম্ভব ছিল না !
বলো কী !
আমি ত কিছুদিন জমিরউদ্দিন খানের সঙ্গে সংগীতচর্চা করলাম । কি বলব গুরুদেব । যা গান শিখি , হরকত কব্জা করি ও ব্যাটাও সব গলায় বসিয়ে নেয় ! অবিকল । সেই ছেলে .... কেঁদে ফেললেন কাজী ।
রবীন্দ্রনাথ কিছু বললেন না । সন্তান হারানোর চেয়ে বড় শোক আর কি আছে । কেঁদে একটু হাল্কা হোক ।
বাডির কি খবর । আবার রবীন্দ্রনাথই নীরবতা ভাঙলেন । এমনিতে নীরবতা তার বড় প্রিয় । কিন্তু আজ যেন বড্ড অস্বস্তিকর লাগছে ।
সেইজন্যেই ত আপনার কাছে চলে এলাম । কাঁদতে । আমার বাডির দুজনই খুব চাপা । মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে । কিন্তু বাইরে প্রকাশ করছে না । আমি আর সেইখানে কি করে ..... । নজরুলের কথা অসমাপ্তই থেকে গেল । তারপর আবার বললেন - আমাকে আপনি শান্তিনিকেতনে নিয়ে চলুন । কলকাতা আমার আর ভাল লাগছে না ।
রবীন্দ্রনাথ মৃদু হাসলেন । তোমার মনে আছে নজরুল , আজ থেকে দশ বারো বছর আগে তুমি যখন সেনাবাহিনী ছেডে কলকাতা এলে তখন আমি তোমাকে শান্তিনিকেতন যাবার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম । বলেছিলাম তুমি আমাদের শরীরচর্চা শেখাবে আর প্রাণের খুসিতে গান গাইবে । তুমি রাজি হও নি ।
মনে আছে গুরুদেব ।
পরে কিন্তু আর বলি নি , তাই ত ?
না ।
কেন বলতো ?
আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন নিশ্চই । এ তো বোঝাই যায় । ধীর কন্ঠে জানালেন নজরুল ।
আরে , না রে পাগল । সেই জন্য নয় । রবীন্দ্রনাথ হেসে উঠলেন ।
সেই জন্যে না ? আমি ত ভাবতাম .....
না হে , না । তোমার গুরুদেবের মন অত সংকীর্ণ নয় । তাহলে ত তোমার আমার রিলেশানই কবে খারাপ হয়ে যেত । তাহলে কি আর তোমার লেখা 'বিদ্রোহী' কবিতা পড়ে তোমাকে সকলের সামনে ওরকম জাপ্টে ধরতে পারতাম ? আমি আর কখনো কি কোথাও ওরকম আবেগ প্রকাশ করেছি ?
তা ঠিক । আপনি আমার বড্ড প্রশংসা করেন । সবজায়গায় ।
করবো না ?  তুমি ত সরস্বতীর বরপুত্র । কি অপূর্ব তোমার লেখার হাত । তোমাকে ও কথা বললাম । তুমি রাজি হলে না । তারপরে আমি তোমার লেখা পড়েই বুঝেছিলাম তুমি অস্বাভাবিক প্রতিভাবান । শান্তিনিকেতনে গেলে তোমার ট্যালেন্ট একটা ছোট জায়গাতেই আবদ্ধ হয়ে থাকত । কলকাতায় না রইলে তোমাকে এত লোক চিনত না !
আপনি আমায় খুব ভালবাসেন গুরুদেব ।
বাসিই ত । তুমিও ত প্রথমদিকে খালি আমার গানই গাইতে । তুমি আর তোমার এক বন্ধু তো জুটি বেঁধে সারা বাংলায় আমার গানই গেয়ে বেড়াতে ।
গাইব না ! এবার নজরুল কথা বলে উঠলেন রবীন্দ্রনাথের সুরে । কি অপূর্ব গান । পরে ত আমিও গান লিখতে শুরু করলাম । কিন্তু আপনার মত লিখতে পারলাম কই ?
ও কথা বোলো না । আমাদের দুজনের স্টাইল তো আলাদা । কি চমৎকার শ্যামাসংগীত লেখো তুমি । আমি ত সেরকম কিছু লিখলামই না !
তাহলেও । আমার গান ত শুনেই বোঝা যায় কোন রাগরাগিনীর আশ্রয় করে সেগুলো গড়ে উঠেছে । আর আপনার ....। কি অদ্ভুতভাবে যে রাগগুলোকে মিলিয়ে নেন ।
তুমি ত প্রচুর গান লেখ । তোমার গানের সংখ্যা ত এখনই আমাকে ছাডিয়ে গেছে শুনতে পাই ।
আসলে গ্রামাফোন কোম্পানিতে চাকরি নেবার পর গানের অর্ডার এত বেডে গেছে । নজরুল সলজ্জ ভঙ্গিমায় বললেন । আর গান লেখা ছাড়া ত আমাদের কোন কাজই নেই । ওদিকে আপনি ? গান লিখছেন , বিদ্যালয় চালাচ্ছেন , জমিদারি দেখছেন , দেশবিদেশে বক্তৃতা দিচ্ছেন । উফফ্ । কি করে যে পারেন !
ও হয়ে যায় । প্রকৃতিগত ভাবেই আমি খুব স্বাস্হ্যবান । সামান্য অর্শ ছাড়া আমার আর কোন সমস্যাই নেই ।
এরকমই থাকুন গুরুদেব । নজরুল কাতরভাবে প্রার্থনা করলেন ।
কথায় বাঁধা পড়ল । কবিগুরুর বউমা প্রতিমাদেবী এসে জিগ্যেস করলেন , বাবা, আপনি কিছু খাবেন ?
তুমি কিছু খাবে নাকি , নজরুল ?
কে আমি ? না , গুরুদেব । নজরুল অসম্মতি জানালেন ।
আমিও এখন কিছু খাব না , বউমা ।
আপনি এখন খুবই কম খান । মৃদু অনুযোগ জানিয়ে প্রতিমা চলে গেলেন ।
খুব কম খান কেন , গুরুদেব ?
না গো বয়স হয়েছে । আমার বাবা বলতেন বেশী যদি খেয়ে চাও, তো কম কম খাও ।
তা সত্যি ।
আরেকজনও ছিল বুঝলে ? সেও আমার গান গাইত । আর খেতে বড় ভালবাসত ।
কে গুরুদেব ?
কে আবার । বিবেকানন্দ । আমি বলতাম নরেনবাবু । আমরা ত প্রায় সমবয়সী । আমি এক দেড় বছরের বড় ।
নজরুল একটু অবাক হলেন । তার কেন জানি ধারণা ছিল রবীন্দ্রনাথ আর বিবেকানন্দের পারস্পরিক সম্পর্ক সেরকম ভাল ছিল না ।
কি ভাবছ ? রবীন্দ্রনাথ যেন মনের কথা পড়তে পারলেন । তুমি জানতে আমাদের আদায় কাঁচকলায় , তাই ত ?
নজরুল আর কি বলবেন । অস্বস্তির হাসি হাসলেন ।
লোকে এসব বলে বেড়ায় । কেউ কিছু জানে না , জানার চেষ্টা করে না ।
বিবেকানন্দ আপনার গান গাইতেন ?
তবে শোন । তখন আমার বয়স বিশ । রাজনারায়ন বসুর মেয়ের বিয়ে । আমাকে জ্যোতিদাদার মাধ্যমে খবর পাঠালেন গান গাইতে হবে । বাল্মিকী প্রতিভা বেরিয়ে গেছে । একটু আধটু নামও হয়েছে । তবে অত লোকের মধ্যে একা গাইব ! একটু টেনশন হচ্ছিল । এইসময় হঠাৎ নরেনবাবুর সঙ্গে দেখা । আমাদের বাডিতে প্রায়ই আসত । আমার ভাইপোর বন্ধু ছিল । ব্যাস্ । ওঁকে চেপে ধরলাম ।
তারপর ?
বেশ কিছুদিন রিহার্সাল করলাম । তিন খানা গান । আমার লেখা । নরেনবাবু গাইল , পাখোয়াজ বাজাল । আমি অরগান বাজালাম ।
সে কি । আপনি গাইলেন না ?
ঐ । গলা মেলালাম। নরেনবাবুর গলার সঙ্গে আমি পারি নাকি ? কি জোরাল ওজস্বী গলা ছিল ।
নজরুল চুপ করে রইলেন ।
তারপর ত সারা কলকাতায় আমার গান গাইতে লাগল । রেগুলার তাডা । গান লিখুন , আরো গান লিখুন । আমার গান তো রামকৃষ্ণদেবকেও শুনিয়েছিল । তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা ।
আচ্ছা , আপনি রামকৃষ্ণকে গান শোনান নি ?
শোনাই নি , মানে ! বছরখানেক পরেই ত শোনালাম । কাশীমিত্রের বাগানবাডিতে । কি খুসি যে হলেন । বড় মধুর স্বভাবের ছিলেন । রবীন্দ্রনাথ একটু যেন অন্যমনস্ক ।
তারপর কি হল ?
তারপর ত রামকৃষ্ণদেব মারা গেলেন । নরেনবাবুও ভ্যানিশ । প্রায় দশ বছর পর হঠাৎ উদয় -বিবেকানন্দ হয়ে । বিশ্বজোডা নাম । কলকাতায় সম্বর্ধনা দেওয়া হল । আমিও মন্চে ছিলাম । চিনতে পারলো । বেশ কথাও হল ।
আপনি ছিলেন ? নজরুল বিস্মিত । কোথায় যেন শুনেছিলেন বিবেকানন্দের নামডাক হবার পর রবীন্দ্রনাথ অস্বাভাবিক চুপচাপ ছিলেন । সেরকম কোথাও কিছু লেখেন নি ওনার সম্পর্কে ।
ছিলাম ত । কী নায়কোচিত জীবন । যেন নভেল । আমার একটা উপন্যাসে তো ওর ভালো রকম প্রভাব আছে ।
কোনটা গুরুদেব ?
কেন , গোরা ।
ও তাই বুঝি । সত্যি , আগে খেয়াল করি নি। অনেক মিল আছে ।
আর বিবেকানন্দের আরেক অনুষ্ঠানের ত আমিই ছিলাম প্রধান উদ্যোক্তা । তবে তাতে উনি ছিলেন না ।
কবে , গুরুদেব ?
কবে আর । ওনার স্মরণসভায় । যেবার আমার স্ত্রী মৃণালিনী চলে গেল , সেবছরই ত নরেনবাবুও.... । কী লোক । যেমন সাহস , তেমন অপূর্ব চিন্তাধারা , আর তেমনি বক্তৃতা দেবার ক্ষমতা । আমার বাবাও তো ওঁকে খুব ভালবাসতেন । নরেনবাবু ত খুব খেতে পারত । বাবা ওকে সামনে বসিয়ে খাওয়াতেন । আর ওর কথা শুনতেন । বলতেন ছেলেটির কথায় যেন জাদু আছে  । তোমরা ত ওনার কথা বা বক্তৃতা শোনোনি , না ?
কি করে শুনবো , গুরুদেব । ঊনিশশ দুই সালেই আমার বয়স ত মাত্র তিন ।
মাত্র ? ও বাবা । তুমি ত তারমানে আমার ছোটছেলে শমী-র চেয়েও ছোট ।
নজরুল আবারও সলজ্জ হাসলেন ।
শমীও খুব প্রতিভাবান ছিল জান তো । আমাকে সবাই বলত ও নাকি আমার কার্বন কপি । তা সেও ত চলে গেল । মাত্র এগার বছর বয়স ছিল ।
কি হয়েছিল , গুরুদেব । নজরুল জিজ্ঞাসা করলেন ।
কলেরা । মুঙ্গের গেছিল । বন্ধুর বাডি । সেখানেই ।
নজরুল চুপ করে রইলেন ।
যেদিন শমী চলে গেল ...... রবীন্দ্রনাথ বলে চললেন । রাতের বেলা দেখি সারা পৃথিবী যেন চাঁদের আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে । দেখি প্রকৃতি যেমনিভাবে চলে ঠিক তেমনভাবেই চলছে । কোথাও কোনো ব্যতিক্রম নেই । আমার এই শোকেরদিনে যেন কারোর কিছু আসে যায় না । একটা ভারি অদ্ভুত অনুভুতি হল , জানলে !
নজরুল বড় বড় চোখ মেলে রবীন্দ্রনাথের দিকে চাইলেন ।
মনে হল - ব্রম্ভান্ডের সৃষ্টিকর্তার এটাই ইচ্ছা । মৃত্যু আসবেই , হয়ত অকালেই আসবে । শোকতাপ থাকবে । যেমন আনন্দও আছে । কিন্তু কাজ থামালে চলবে না । আমাদের আরব্দ্ধ কাজ আমাদের করে যেতেই হবে । আর এইটেই হল মহাবিশ্বের পরম সত্য ।

( কথোপকথন কাল্পনিক । কিন্তু ঘটনা সবই সত্য ।
 তথ্যসূত্র : কাজী নজরুল - মুজফফরআহমেদ / কবি ও সন্ন্যাসী - অমিতাভ চৌধুরী / রবিজীবনী - প্রশান্তকুমার পাল )

Thursday, August 9, 2018

14>দাদাঠাকুর::-- শরৎ চন্দ্র পণ্ডিত

14>দাদাঠাকুর::--শরচ্চন্দ্র পণ্ডিত
      ( শরৎ চন্দ্র পণ্ডিত )

কৌতুক, বিদ্রুপাত্মক সহিত্য-রচয়িতা,
কবি, সামাজিক সমালোচক, গীতিকার
শরৎ চন্দ্র পণ্ডিত
(AD  27 April 1881 - 1968) //
(BS 13ই বৈশাখ 1288--13বৈশাখ1375)





(জন্মঃ ১২৮৮বঙ্গাব্দ, 
মৃত্যুঃ ১৩৭৫ বঙ্গাব্দ/1880 -–1968)


' দাদাঠাকুর ' (প্রকাশক - মিত্র ও ঘোষ পাব্লিশার্স,
 ১০ শ্যামাচরণ দে স্ট্রীট, কলকাতা ৭০০ ০৭৩) -
  
বিশদভাবে দাদাঠাকুরকে 
জানতে হলে, যিনি মূর্ত্ত হয়ে উঠেছেন 
নলিনীবাবুর কলমে, এই বইটি অবশ্য পাঠ্য৷

যাকে আশ্রয় করে  সামান্য একটু লিখতে  
চেষ্টা করেছি।

বাংলা সাহিত্যের পাঠক সমাজে
দাদাঠাকুরনামেই পরিচিত,
তিনিও ছিলেন একজন বাঙালি কথাশিল্পী
ও সাংবাদিক৷ যিনি মুখে মুখে ছড়া,
হেঁয়ালী ও হাস্য কৌতুক রচনা করতেন।
তাঁর রচিত নানান হাসির গল্প
বাঙলা সাহিত্যের অমর কীর্তি৷
তার প্রকাশিত বিখ্যাত গ্রন্থ বোতল পুরাণ।

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা::--

তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বীরভূম
জেলায়।
তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুর
মহকুমার দফরপুর গ্রামে
বাস করতেন।
দরিদ্র পরিবারের সন্তান শরৎচন্দ্র
এন্ট্রান্স পাশ করে বর্ধমান
রাজ কলেজে এফ.এ. ক্লাসে ভর্তি হন
কিন্তু আর্থিক কারনে পড়া
সম্পুর্ন করতে পারেননি।
সাংবাদিকতা ও সাহিত্যসম্পাদনা
জঙ্গীপুরে তিনি অত্যন্ত সাধারণ
জীবন যাপন করতেন
কিন্তু অত্যন্ত তেজস্বী
মানুষ ছিলেন।
চারিত্রিক দৃঢ়তায় ছিলেন আধুনিক
কালের বিদ্যাসাগর।



পন্ডিত প্রেস নামে একটি হস্তচালিত
ছাপাখানা স্থাপন করেন তিনি।

কলকাতা থেকে ২৫০কি.মি. দুরের 
রঘুনাথগঞ্জ শহর থেকে প্রকাশ
করেছেন ‘জঙ্গিপুর সংবাদ’ পত্রিকা।
প্রকাশ করেছেন ‘বোতল পুরাণ’,
‘বিদূষক’ নামের পুস্তিকা
বোতলের আকারে পত্রিকাও।
দাদাঠাকুর ছিলেন স্বভাব কবি
এবং তীক্ষ্ণধী, সমাজ সচেতন
লেখক।

এক সাহেবের কাছ থেকে
22 বছর বয়সে মাত্র 46 টাকায়
পুরোনো প্রেস কিনে নিজেই
পত্রিকা ছাপতেন-"বিদূশক"।
সেটা শহরে নিজেই গান গেয়ে ফিরি
করে বেরাতেন।
আর এই ভাবেই তিনি সংসার
চালাতেন এবং সেবা কার্য
চালিয়ে যেতেন।

  বলতেন-“আমার ছাপাখানার
আমি প্রোপ্রাইটার, আমি কম্পোজিটর,
আমি প্রুফ-রিডার, আমিই ইঙ্কম্যান।
কেবল প্রেস-ম্যান আমি নই-সেটা
ম্যান নয়, উওম্যান।
অর্থাৎ আমার অর্ধাঙ্গিনী।
ছাপানোর কাজে ব্রাহ্মণী আমায়
সাহায্য করেন।”
চেক –দাখিলা, নিমন্ত্রণ পত্র, প্রীতি উপহার,
বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ইত্যাদি ছাপিয়ে
যা পান তাতেই সংসার চলে
কোন রকমে।
তারই মধ্যে বিপদে-আপদে
লোকজনকে সাহায্য করেন।

তাঁর  একক প্রচেষ্টায় জঙ্গীপুর সংবাদ
নামে একটি সংবাদপত্র প্রকাশ
করতে ছিলেন।
এমনকি বিক্রেতাও ছিলেন।

এই পত্রিকা বাংলার বলিষ্ঠ মফস্বল
সাংবাদিকতার প্রথম উদাহরণ।
ঘুমাইলে চোখে দেখি না! বলেছেন:
 ব্রিটিশদের শাসনের প্রতিবাদে  ।

 সমস্ত কিছুই একা হাতে কর‍তেন।
এছাড়া তার প্রকাশিত বিদুষক
পত্রিকায় বেরতো তাঁর নিজের
রচিত নানা হাসির গল্প
ও হাস্য কৌতুক।
বিদূষক পত্রিকা রসিকজনের
দৃষ্টি আকর্ষন করে।
দাদাঠাকুর নিজে কলকাতার
রাস্তায় রাস্তায় গিয়ে বিক্রি
করতেন এই পত্রিকা।
প্রাক স্বাধীনতার সময় কলকাতার
রাস্তায় গান গেয়ে বোতল পুরান
পুস্তিকাটি ফেরি করতে গেলে
ব্রিটিশ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার
করতে আসে,
তাঁদের জন্য তৎক্ষণাৎ বানিয়ে
ইংরেজিতে গান ধরলেন তিনি।
শ্বেতাঙ্গ পুলিশ খালি গা ও খালি
পায়ের এমন এক হকারকে
ইংরেজিতে গান গাইতে দেখে
হতবাক হয়ে যায় এবং শুধু উৎসাহ
জোগাতেই আট কপি কিনে নেয়।


তার কাব্যপ্রতিভা, রসবোধ
ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ছিল সহজাত।
সিনেমাতে দেখি নেতাজী
সুভাষচন্দ্র বোস তৎকালিন কলকাতা
পৌরসভার মেয়র পথে তাঁকে অপদস্ত
হতে দেখে গাড়ি থেকে নেমে প্রণাম করে।


দাদাঠাকুরের “জঙ্গীপুর সংবাদ”-এ
নিজের আঁকা ছবি সহ সংবাদ
পরিবেশিত হত।
থাকতো কবিতাও-বুদ্ধিদীপ্ত
ও সরস- কখনও বিদ্রুপাত্বক।

 অন্যায়, অসদাচরণ, নিপীড়ন
দেখলেই যেন ঝলসে উঠতো লেখনী।
সমাজে, রাষ্ট্রে, ধর্মে-যেখানেই কোনরূপ
ব্যাধির লক্ষণ দেখেছেন, সেখানেই
তাঁর যষ্টিমধুর মুষ্টিযোগ ব্যবহার করেছেন।
“জঙ্গীপুর সংবাদ”-এর পর দাদাঠাকুর
বার করলেন সাপ্তাহিক ‘বিদূষক’
আর ‘বোতল পুরাণ’ – বোতলের আকারে
কালো রঙের মোটা কাগজে লাল রঙের
কালিতে লেখা কবিতা-মাতালদের উদ্দেশ্যে।
 নিজেই কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্রী
করতেন, অনেক সময় গান করে।
যেমন,--------
আমার বোতল নিবি কে রে?
এই বোতলে নেশাখোরের
নেশা যাবে ছেড়ে।
বোতল নিবি কে রে?

দাদাঠাকুরের
আরেকটা 'নাইস্‌ রাইম্‌'
হিউমার স্যাটায়ার উইট্‌
আর ইন মাই পাবলিকেশন।
জেন্টলম্যান টেক দি বটল্‌
ফর ইয়োর রিলাক্‌সেশন।
ইট্‌ ইজ্‌ আ নাইস্‌ রাইম্‌
দেয়ার ইজ্‌ নো ভাইস্‌ ক্রাইম
য়্যাট ইয়োর লিজার টাইম্‌
রীড ইট ফর রিক্রিয়েশন।।

হিন্দি ও ইংরেজিতেও কাব্য
লিখেছেন তিনি।
তার ব্যাঙ্গাত্বক কবিতাগুলি ছিল
সমাজের অত্যাচারী কুপ্রথার বিরুদ্ধে
জলন্ত প্রতিবাদ স্বরূপ।
স্বয়ং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু
তাকে শ্রদ্ধা করতেন।

চলচ্চিত্রসম্পাদনা:::--

তাঁর জীবন নিয়ে ৬০ এর দশকে
একটি ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে
দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্র পন্ডিতের
জীবিতকালে।
নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন
ছবি বিশ্বাস।
এছাড়া অন্যান্য শিল্পীরা হলেন
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জী,
সুলতা চৌধুরী ও তরুণ কুমার।
এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যে
ছবি বিশ্বাস জাতীয় পুরষ্কার লাভ করেন।

সিনেমাতে দেখি নেতাজী সুভাষচন্দ্র   
বোস তৎকালিন কলকাতা পৌরসভার
মেয়র পথে তাঁকে অপদস্ত হতে দেখে
গাড়ি থেকে নেমে প্রণাম করে।

 তিনিই বোধহয়  বাংলার শেষ কবিয়াল।
দাদাঠাকুর ইংরেজ ভক্ত ছিলেন না।
যেখানেই শাসকের অত্যাচার
ও নীতিহীনতা দেখেছেন, সেখানেই
তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক লেখনীর মাধ্যমে
আঘাত হেনেছেন।

নিজেকে জাহির করেননি কোনও দিন।
স্বদেশি আন্দোলন ও স্বদেশিয়ানার
ব্যাপারে দাদাঠাকুরের আবেগ
কোনও অংশেই কারও থেকে
কম ছিল না।
বিপ্লবীদলের লোক
নলিনীকান্ত সরকারকে তাঁর বাড়িতে
যথা সময়ে আশ্রয় দেন
এবং সর্বোতভাবে সাহায্য করেন।
কাজি নজরুল ইসলামের ‘ধূমকেতু’
পত্রিকাতে পাঠান শুভেচ্ছা-“
"ধূমকেতুর প্রতি বিষহীন
ঢোড়ার অযাচিত আশীর্বাদ"।”
দাদাঠাকুর ছিলেন '‘একাই একশো'’-
নলিনীকান্ত সরকার লিখেছেন,
"“দাদাঠাকুর একটি চরিত্র এবং
আমাদের মনেহয় বাংলাদেশের
একমাত্র চরিত্র"।
দাদাঠাকুরই মনেহয় ঈশ্বরচন্দ্র
গুপ্তের সুযোগ্য উত্তরসূরি
এবং শেষ কবিয়াল।

 দাদাঠাকুরের চেষ্টাতেই এক তেলেভাজা
বিক্রেতা পৌরসভার সভাপতি হন।
চরিত্রটি করেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়।
দাদাঠাকুর কথা দিলে যে করে হোক
তা পালন করতেন।
একবার প্রবল বৃষ্টিতে রেললাইন বন্ধ,
তিনি একগলা জলে ডুবে মাথার
উপর প্রশ্নপত্র নিয়ে কোন এক স্কুলের
পরিক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হন। যা দেখে
শিক্ষকরা বিস্মিত হন।

মদ্যপ জমিদারপুত্র প্রেমের জন্য
স্বদেশী হয়ে প্রাণত্যাগ করলে
দাদাঠাকুরের চোখে জল আসে।
যা দেখে নলিনীকান্ত ব্যঙ্গ করে বলেন,
 "“বিদূশকও তাহলে কাঁদে!"”
তাতে দাদাঠাকুর যা বলেন তা অনেকটা
এমন-“ 'সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে
ঈশ্বর নির্বিকার, তাই বিদূশকও নির্বিকার
হয়ে হাসি-ঠাট্টা করে।
কিন্তু প্রকৃত বীরের মৃত্যুতে ঈশ্বরও কষ্ট পান,
কাতর হন, তাই সেই বীরকে বিদূশক
কি করে উপেক্ষা করেন!
যে বীরের জন্য ঈশ্বর কাঁদেন,
তার মৃত্যুতে তাই বিদূশকের চোখেও
জল আসে।'

তার একমাত্র পুত্র খুব অসুস্থ,
শেষে মৃত্যুও হয়- সেদিনও দাদাঠাকুর
কর্মব্যস্ত।
তা দেখে নলিনীকান্ত বিরক্ত ও মর্মাহত।
কিন্তু দাদাঠাকুর বলেন, ‘"তিনি যে বিদূশক!’"

তার অবস্থা দেখে কোন এক রাজা
তাকে সাহায্য করতে চান।
সুরসিক দাদাঠাকুর তাকে বলেন,
“"ছোটবেলা থেকে আপনার
দান-ধ্যানের গল্প শুনেছি, মু্গ্ধ হয়েছি,
মনে মনে ঠিক করেছি এমন রাজাই হব।
কিন্তু তারই অনুগ্রহে হতে পারব না"।”
তার কথা শুনে রাজামশাইও তার
মনের কথা বুঝে জান।

দাদাঠাকুরকে তাঁর পরিচিত একজন
জিঞ্জাসা করলেন,
" আপনি রবিঠাকুরকে দেখেছেন ?"
দাদাঠাকুর উত্তরে বল্লেন,
"না দেখিনি, তবে দেখা হলে বলতুম
আপনি যেমন ঠাকুর, আমিও
তেমন পন্ডিত ।"

শরত্চন্দ্র পন্ডিত ওরফে দাদাঠাকুরকে
এক কৌতুহলী ব্যক্তি মজা করে জিঞ্জাসা
করলেন, " দাদাঠাকুর আপনার উপাধিটা
পন্ডিত হল কি করে?"
উত্তরে দাদাঠাকুর বল্লেন,
"হবে নাই বা কেন? বস্তু যখন খন্ড খন্ড হয়
তখন তাকে বলি খন্ডিত।
আমি যেখানেই যাই সব কাজ করি পন্ড,
তাই আমি পন্ডিত। "

একবার নলিনী সরকারের বাড়িতে এসে
দাদাঠাকুর বল্লেন," বুঝলে হে নলিনী
তোমাদের এই শহর কলকাতা
বড় অদ্ভুত।"
নলিনীকান্ত বল্লেন,
"কেন এই শহরের হলটা কি?"
দাদাঠাকুর বল্লেন,"হবে আবার কি?
রোজ যা হচ্ছে! পাঁজিতে লেখা বছরে
একদিন রাস, একদিন ঝুলন।
কিন্তু এই শহর কলকাতায় নিত্য রাস,
নিত্য ঝুলন। "
নলিনীকান্ত -
" কোথায় দেখলেন নিত্য রাস
আর নিত্য ঝুলন?"
দাদাঠাকুর - " কেন তোমাদের
ট্রামে বাসে যেমন রাস তেমন ঝুলন।"

হাতিবাগানের মোড়ে দাদাঠাকুর
বিদূষক কাগজ বিক্রি করতেন।
একদিন তাঁর পরিচিত একজন
তাঁকে নিয়ে এল আর্ট থিয়েটারের
ম্যানেজার অপরেশ মুখোপাধ্যায়ের
ঘরে।
সে ঘরে আড্ডা দিতেন অপরেশ বাবু,
জীবন বাবু, তিনকড়ি চক্রবর্তী,
প্রবোধ গুহ, দানী বাবু প্রভৃতি ।
দাদাঠাকুরকে দেখে দানী বাবু
হাত তুলে নমস্কার করে বল্লেন,
"আজকাল আর চোখে ভাল দেখি না।
আমার প্রনাম নেবেন। "
দাদাঠাকুর দানী বাবুর পাশে বসে
গল্প জুড়ে দিলেন।
তাই দেখে তিনকড়ি বাবু বল্লেন,
" পন্ডিত মশাই, আমাদের দিকেও
একটু কৃপাদৃষ্টি নিক্ষেপ করুন।"
দাদাঠাকুর হাসতে হাসতে উত্তর
দিলেন,"গরীব ব্রাহ্মণে দানী দেখলেই
তাঁর কাছে যাই।
আপনার ও তিনটি মাত্র কড়ি
একমাত্র বামুনের হুঁকায় লাগানো
ছাড়া আর কোনো কাজে লাগে না।"

একবার নলিনীকান্ত সরকারের
বাড়ি দাদাঠাকুর এসেছেন, তাঁর মেয়ের
জন্মদিনে। ছানার ডালনা
পরিবেশন করা হচ্ছে।
নলিনীকান্ত একটু রসিকতা করলেন -
" দাদা একটু গরুর ছানার ডালনা দিই?"
সঙ্গে সঙ্গে দাদাঠাকুর বল্লেন,
" দে ভাই , গরুর ছানার `অকেশনেই`
তো এসেছি।"

দাদাঠাকুর আর নলিনীকান্ত সরকার
একদিন পাশাপাশি ঘুমোচ্ছেন।
হঠাত্ গভীর রাতে নলিনীকান্তকে
দাদাঠাকুর বল্লেন," ওরে নলিনী,
একটা বড় জিনিষ আবিষ্কার করেছি।
নলিনী পন্ডিতের (সাহিত্যিক ও সাহিত্য
পরিষদের চির সদস্য) সব সম্পত্তি
তোর আর আমার।"
ঘুম ভাঙ্গা চোখে নলিনীকান্ত-
 "কি করে হবে?"
দাদাঠাকুর -" কেন তুই নলিনী আর
আমি পন্ডিত| দুজনে মিলে
নলিনী পন্ডিত।"

বহরমপুর পৌরসভায় ভোট হবে ।
লড়াই দুজন সদস্যের মাঝে ।
একজন রমনীমোহন,
অন্যজন নীলমণি ভট্টাচার্য্য ।
দুজনেই দাদাঠাকুরের সুপরিচিত ।
ভোটের আগে দাদাঠাকুর বল্লেন,
" রমনীর জয় হবে আর নীলমণি
হেরে যাবে ।"
ভোটের ফল বের হলে দেখা গেল
দাদাঠাকুরের কথাই মিলে গেছে ।
সবাই তখন তাকে বল্লে,
"এমনটা যে হবে সেকথা আপনি
আগে থেকে জানলেন কিভাবে ?"
দাদাঠাকুর বল্লেন,
"এ তো খুব সহজ,
রমনীর (Raw Money-র) সাথে
নীলমণি (Nil Money) পারবে কেমন করে ?"

*একদিন এক ধনীর বাড়ি নিমন্ত্রণ খেয়ে
পরদিন ছাপাখানায় এসে একটা ঢেঁকুর
তুলে নলিনীকান্ত সরকারকে বল্লেন,
"একটু তামাক সাজ, শরীরটা
আজ ভালো নেই"।
নলিনীকান্ত জিঞ্জাসা করলেন,
" কেন আবার কি হল?"
দাদাঠাকুর বল্লেন," কালকের ঐ ব্রাহ্মণ
ভোজনের জের, সারা রাত্রি
পেট্রিয়ট হয়ে বিছানায় ছটফট করেছি । "
নলিনীকান্ত - "পেট্রিয়ট হয়ে ,
সে আবার কি ?"
দাদাঠাকুর -"পেটের মধ্যে রায়ট বাধলে
লোকে পেট্রিয়ট হয় ।
আর বলিস কেন, পোলাও, লুচি ,মাছ, মাংস ,
মন্ডা-মিঠাই সব পেটের মধ্যে ঢুকে পড়ায়,
সেই সব অপরিচিতদের দেখে ,
যারা স্থায়ী বাসিন্দা, ডাল-ভাত, শাক-চচ্চড়ি
একত্রে উচৈঃস্বরে who are you,who are you?
করে রায়ট বাধিয়ে দিল ।
সারা রাত্রি পেটের মধ্যে ভারি অশান্তি ।
তোর কাছে যখন এলুম তখনও
who are you?(ঢেঁকুর) বলে একবার হাঁক ছাড়লে ।"


 "দাদাঠকুর" সম্পর্কে
রবীন্দ্রনাথের একটি  কবিতা--------

এই একলা মোদের হাজার মানুষ দাদাঠাকুর
এই একলা মোদের হাজার মানুষ দাদাঠাকুর,
এই আমাদের মজার মানুষ দাদাঠাকুর ।।
এই তো নানা কাজে, এই তো নানা সাজে,
এই আমাদের খেলার মানুষ দাদাঠাকুর ।
সব মিলনে মেলার মানুষ দাদাঠাকুর ।।
এই তো হাসির দলে, এই তো চোখের জলে,
এই তো সকল ক্ষণের মানুষ দাদাঠকুর ।
এই তো ঘরে ঘরে, এই তো বাহির করে
এই আমাদের কোণের মানুষ দাদাঠাকুর ।
এই আমাদের মনের মানুষ দাদাঠকুর ।।

 =======


 দাদাঠাকুর গেয়েছেন ------

দে মা আমায় রাজা করি
আর কাঙ্গাল হয়ে থাকতে না পারি
রাজাই যদি করিস মা গো
দিসনা যেন জমিদারী
ও খাজনা আদায় ভীষম লেঠা
কেমনে করব কালেক্তারি
পাওনাদারে পাওনাদারে আছে
যে আমার জীবন ভরি
আমায় রাজা করার আগে
পাঠাস তাদের যমের বাড়ি
দন্ত লন্ত হলো গো মা
কেমনে চিবই কলাই মুড়ি
এখন হালুয়া ভিন্ন দিন চলেনা
বরং রাবড়ি হলে খেতে পারি
বুঝিনা মা তোর জারিজুরি
টাকা দিতে আ-কার ভুলে
টাক দিলি মা কপাল জুরি
দে মা আমায় রাজা করি.....
দাদা ঠাকুর শরত পন্ডিত

দাদা ঠাকুর মতন ব্যক্তিত্ত্ব পৃথিবীতে
বিরল।
এক স্বাধীন, কর্ত্তব্য-পরায়ণ,
সংবেদনশীল মন৷ এ যুগে যা হারিয়ে
যাচ্ছে৷ এই রকম একজনের কথা
ভবিষ্যত্‍ প্রজন্মকে না জানানোটা অপরাধ৷
এই বিশাল মাপের মানুষটির
জীবন-আলেখ্য উপহার
দিয়েছিলেন ১৩৬৯ বঙ্গাব্দে স্বনামধন্য
বিপ্লবী-স্বনামধন্য ব্যক্তি নলিনীকান্ত সরকার৷
নলিনীবাবুর বইটির নাম হলো
"  দাদাঠাকুর"

 দাদা ঠাকুর নিজেকে 'বিদূশক' বলতেন 
তাই মজার চরিত্র ছিলেন, তবে তার হাসির
পিছনে যে অনেক কষ্ট, অনেক
যন্ত্রণা ছিল তা বুঝতে অসুবিধা হয় না
....মানুষটি ৮৭বছর বেঁচে ছিলেন।

..."১টাক দিলি মা কপাল জুরি
দে মা আমায় রাজা করি।"

দাদাঠাকুরের জীবনদর্শন ছিল অপূর্ব।
 দাদাঠাকুর স্ত্রীকে এমন শিক্ষা দিয়েছেন
যাতে কারো কাছে কিছু না চাইতে হয়-
এমন কি ভগবানের কাছেও নয়।
বলেছেন- "“না চাইতে যিনি এত দিয়েছেন,
কি করে খেতে হবে তাও শিখিয়েছেন,
এরপরে আর চেয়ে কি পাব?”"

'‘দেহি'’ শব্দটি বলতে হবে বলে
সরস্বতী পূজা করতেন না।

 প্রত্যুপন্নমতিত্ব আর রঙ্গরসিকতা
ছিল সহজাত-যা তাঁকে আজ ও অমর
এবং অপ্রতিদ্বন্দী করে রেখেছে।

অর্থ-সম্পদে তিনি ছিলেন দরিদ্র,
অন্তরের বিপুল ঐশ্বর্য্যে ছিলেন বিত্তশালী।
ধনী ব্যক্তিদের কাছে মাথা নোয়াননি
কখনও।
বরং ধনী ও উচ্চপদাসীন ব্যক্তিরা
তাঁর সঙ্গ কামনা করতেন।

মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর
মহকুমার দফরপুর গ্রাম।
মহামারী রূপে দেখা দিয়েছে
ওলাউঠা রোগ। ভগবানের
কৃপালাভের উদ্দেশ্যে
গ্রামবাসীরা বেড়িয়েছেন
সংকীর্তন দল নিয়েঃ------

‘ভাই, হরি বল্‌, দুই বাহু তুলে
শমন –দমন যাতে হবে রে!
রাজার যে রাজ্যপাট
যেন নাটুয়ার নাট, ভাই রে,
দেখিতে খিতে কছু নাই রে!
ভাই, হরি বল্‌, দুই বাহু তুল।...’

পিছন থেকে ধ্বনিত হলো,
“একটা বমি, দুটো দাস্ত
করতে নারবে বরদাস্ত, ভাই রে!
দেখিতে দেখিতে নাড়ি নাই রে!
ভাই, হরি বল্‌, দুই বাহু তুলে...”

দলের নজর পিছনে পড়তেই
 সেই নবীন কবি-গায়কের
ঊর্ধশ্বাসে পলায়ন!

এই কবি-গায়ক হলেন –‘দাদাঠাকুর’
- শ্রী শরৎচন্দ্র পন্ডিত,
যাঁর বিধিদত্ত সম্পদ হাস্যরস-
-প্রকাশ পেয়েছে কবিতা
ও গানের মধ্য দিয়ে।
সঙ্গে ছিল প্রচন্ড তীক্ষ্ণবুদ্ধি।
কৈশোর থেকেই প্রতিভার স্ফুরণ।
পড়াশুনো এফ.এ পর্যন্ত।
প্রবেশিকা করেছিলেন জঙ্গীপুর
হাইস্কুল থেকে, বর্ধমান রাজ কলেজ
থেকে এফ.এ।
রঘুনাথগঞ্জে সস্ত্রীক থাকতেন,
চালাতেন জঞ্জীপুর প্রেস।
: এই একলা মোদের হাজার
মানুষ দাদাঠাকুর ...


 শোনাযায় ------
একবার মেয়েদের উপর অত্যাচার শুরু
হলে তিনি নিজের খরচে কামারকে
দিয়ে ছোড়া বানান ও বাড়ি বাড়ি
মেয়েদের বিতরণ করেন।

দাদাঠাকুরের অসাধারণ কবি 
প্রতিভা ছিল।
রসনাগ্রে সরস্বতী যেন সর্বক্ষণ
বিরাজ করতেন।
যে কোনও বিষয়ে তিনি
বাংলা, হিন্দী ও ইংরাজী ভাষায়
কবিতা বা গান মুখে মুখে
বলে যেতেন,
সাথী শ্রী নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়
 লিখে নিতেন।
দাদাঠাকুরের কাব্যপ্রতিভায় বিস্মিত
হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, প্রশস্তি জ্ঞাপন
করেছেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, মুগ্ধ হয়েছেন
রসরাজ অমৃতলাল বসু,
চমৎকৃত হয়েছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।


রামকুমার চট্টোপাধ্যায় তখন সবে
নাম-টাম করতে আরম্ভ করেছেন।
রেডিওয় প্রোগ্রাম ছিল গানের।
গান করে বেরিয়েই, দেখেন
শরৎ চন্দ্র পন্ডিত (দাদাঠাকুর)
রেডিও স্টেশনে ঢুকছেন।
দাদাঠাকুর রামকুমারকে দেখে
জিজ্ঞেস করলেন,
"তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না!"
রামকুমার জবাব দিলেন, '
আজ্ঞে, আমি গাই'।
দাদাঠাকুরের প্রশ্ন,
"অ, তা কত সের দুধ দাও?'
দাদাঠাকুরের রেডিওর প্রোগ্রাম
শেষ হবার মুখে , পরের প্রোগ্রাম
বাংলা খবর।
দাদাঠাকুর আজকের মতন
এই বলাতেই কাঁচের ওদিক থেকে
প্রোগ্রাম শিডিউলার গোছের কেউ হাত
নাড়িয়ে দাদাঠাকুরকে জানালেন নিউজ
রিডারের তৈরী হতে আরো মিনিট
খানেক দেরী আছে।
দাদাঠাকুর এক ঝলকে সেটা বুঝে
নিয়েই বলতে থাকলেন -
এর পরে হবেই সংবাদ।
তোমরা সবাই জানো কি সংবাদকে
ইংরিজিতে NEWS কেন বলা হয় ?
কারণ North , East, West আর South
প্রতিটি দিক থেকে লোকজনের আর
দেশদশের খবর পরিবেশন করা
হয় সংবাদে !

দাদাঠাকুর বড়লোক সম্বন্ধে বলেছিলেন
-"ওরা তো কর্ত্তা নয়, কারকও নয়,
ওদের ডেফিনেশন হচ্ছে – বড়লোক
ইজ য়্যান অব্‌জেক্টিভ কেস,
গভর্নড বাই দি প্রিপোজিশন ড্রাইভার।"
ড্রাইভার 'প্রিপোজিশন' কি করে হলো–
এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন,-
"বড়লোকরা তো গাড়ীর পিছনের সীটে
বসে থাকে,
ড্রাইভারের পোজিশনই তো আগে।
তাই ড্রাইভার হলেন 'প্রিপোজিশন'।"


দাদাঠাকুর ভোট প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে লেখেন-
ভোট দিয়ে যা-
আয় ভোটার আয়।
মাছ কুটলে মুড়ো দিব,
গাই বিয়োলে দুধ দিব,
দুধ খেতে বাটি দিব,
সুদ দিলে টাকা দিব,
চাল দিলে ভাত দিব,
মিটিং-এ যাব না, অবসর পাব না,
কোনো কাজে লাগবো না,
যাদুর কপালে আমার ভোট দিয়ে যা।।

দাদাঠাকুরের বিখ্যাত কীর্ত্তনের প্যারডি-
প্রভাত হইল ভূবন গাহিল
টাকা টাকা টাকা বলে
ঝাঁকে ঝাঁকে ঝাঁকে থাকে থাকে থাকে
চলেছে কেরাণী কুলি।
এ জগতে ভাই টাকাই শ্রেষ্ঠ
টাকাই পেতে সবে সচেষ্ট
ধনিরা খুলেছে আয়রণ চেষ্ট
ভিখারী খুলেছে ঝুলি।
রৌপ্যচক্রাকার তুমি ভগবান
গোলকে ভূলোকে তব জয়গান
টাকায় টাকা বাড়ে সুদ চক্রহারে
আনে দু আনি সিকি আধুলী।।


.দাদাঠাকুর---------
“আমার নাম শ্রী শরৎচন্দ্র পণ্ডিত।
 ১২৫ ঘর নিরক্ষর চাষী অব্রাহ্মণ;
আমাকে কেহ বাবাঠাকুর কেহ
কাকাঠাকুর–অর্থাৎ যার যা সম্পর্ক
মানায় তাই বলে ডাকত, তবে
“দাদাঠাকুর” বলে ডাকার লোক
সংখ্যা খুব বেশী–তাই আমাদের পল্লীতে
দাদাঠাকুর বলতে আমাকেই বুঝায়।
এমন কি কলকাতার মত শহরেও
আমার এই নাম জারী হয়েছে।”
— শ্রী শরৎচন্দ্র পণ্ডিত।


সমাজপতিদের অনাচারের বিরুদ্ধে
কলম ধরে তিনি লিখেছিলেন:-
সমাজ সমাজ শুনে শুনে কানটা হলো ভোঁতা
খুঁজে কিন্তু পাই না দেশে সমাজ আছে কোথা!
এই লেখাটার শিরোনাম ছিল:-
সমাজনেতার ভ্যালু= জিরো
ইংরেজী, সংস্কৃত, বাংলা আর হিন্দিতে তাঁর 
অগাধ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনচেতা
দাদাঠাকুর কোনোদিন চাকরীর
দিকে পা বাড়াতে চান নি।

“পণ্ডিত প্রেস” থেকে বেরুত
“জঙ্গীপুর সংবাদ”।
এই পত্রিকার প্রধান আয়ের উৎস ছিল-
মুন্সেফ আদালতের বিজ্ঞাপন।
 কিন্তু তিনি সরকারকে আক্রমণ করতে
 ছাড়েন নি!
মহুকুমা হাকিমের এক অন্যায়ের
বিরুদ্ধে লিখেছিলেন:-
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই
হাকিমে মুনসেফে কেসতুতো ভাই.|


একবার তাঁর প্রতিবেশী কার্ত্তিক
চানাচুরওয়ালার ত্রৈমাসিক পুরকর বেড়ে
দ্বিগুণ হয়ে গেল।
দাদাঠাকুর কার্তিকের হয়ে দরখাস্ত দিলেন।
কোনো কাজই হলো না।
বরং ছয় আনা(।৵০) থেকে বেড়ে দেড়
টাকা (১।।০) হয়ে গেল।
সুযোগ ধরা দিল যেচে এসে ।
পুরসভার চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে
একটি পদ খালি হলে, পৌরসভাতে
উপনির্বাচনের ঘোষণা হল।
দাদা ঠাকুর কার্তিককে সেই নির্বাচনে
দাঁড় করিয়ে দিলেন।
ছড়া ছাপা হল “জঙ্গীপুর সংবাদ”এ:-

ভোট দিয়ে যা---আয় ভোটার আয়
সুদ দিলে টাকা দিবো ফি দিলে উকিল হব
চাল দিলে ভাত দেব মিটিংএ যাব না
অবসর পাব না কোনো কাজে লাগবো না
যাদুর কপালে আমার  ভোট দিয়ে যা!
কার্ত্তিক জিতল।
কিন্তু অভিজাত পুরপিতাদের
আর জাত- কুল- মান বলে কিছুই
থাকল না!
ছ্যা ছ্যা! একটা চানাচুরওয়ালার কাছে হার!!!
তারা প্রেসিডেন্সী কমিশনারের কাছে
গিয়ে একযোগে পদত্যাগ করবেন
বলে হুমকি দিলেন।
আবার দাদাঠাকুর নামলেন আসরে।
প্রেসিডেন্সী কমিশনারকে কোলকাতায়
গিয়ে বুঝিয়ে বলাতে, আসল ব্যাপারটা
বুঝে কমিশনার সাহেব, ক্যালকাটা
গেজেটে কার্ত্তিকের নাম বের
করে দিলেন।
মহুকুমা হাকিম পরে একদিন গেজেটের
কপি নিয়ে স্বয়ং কার্তিকের হাতে দিয়ে
অভিনন্দন জানালেন আর মহুকুমা
আদালতের স্থানীয় ছোটখাটো মামলার
তদন্তের ভার কার্ত্তিকের ওপর সঁপে দিলেন।
অভিজাত পুরপিতাদের
জাত- কুল- মান, সব চুপসে গেল।


  PALINDROME---------
ইংরেজি ভাষাতে যে প্যালিনড্রোম
বা উভমুখী শব্দ আছে সেরকম
বাংলায় শব্দ সৃষ্টি করেছেন,দাদাঠাকুর |

"দাদাঠাকুর (শরৎচন্দ্র পণ্ডিত)
প্যালিনড্রোমের প্রতি বিশেষ
আকৃষ্ট ছিলেন।
তাঁর ‘বিদুষক’ পত্রিকায় তিনি বহু
প্যালিনড্রোম সৃষ্টি করে বাংলাভাষায়
প্যালিনড্রোমকে সমৃদ্ধ করেছেন।
কাক কাঁদে কাঁক কা,
চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে,
তাল বনে নেব লতা -এইসব দাদাঠাকুর
সৃষ্ট অমর প্যালিনড্রোম।
তাঁর সৃষ্ট ‘কীর্তন মঞ্চ পরে পঞ্চম নর্তকী’
সম্ভবত বাংলাভাষায় সর্বাধিক জটিল
ও সর্বাধিক শব্দ সমন্বিত প্যালিনড্রোম। "

 ইংরেজীতে  “ প্যালিনড্রোম” বা বাংলায়
উভমুখী শব্দ  বলে একটা কথা আছে।
সোজা বা উল্টো, যে দিক থেকেই
পড়া যাক না কেন, ব্যাপারটা
একই থাকবে।
নবীন, কনক, নন্দন, দেবী দে এবং মহিম—
এই পাঁচটি উল্লেখ করা নামের মধ্যে
বৈশিষ্ট্য কী?
প্রত্যেকটি তিন অক্ষরের ঠিকই, কিন্তু!
প্রত্যেকটি নামই উভমুখী অর্থাৎ
সামনে ও পিছন থেকে উচ্চারণ হবে
একই।
এই ধরনের উভমুখী শব্দ বা বাক্যকে
বলা হয়ে থাকে প্যালিনড্রোম
(Palindrome)। গ্রিক শব্দ ‘
প্যালিনড্রোমাস’ নামক শব্দ থেকে
প্যালিনড্রোম কথাটা এসেছে।
‘প্যালিনড্রোমাস’ নামক শব্দের
অর্থ হল উভমুখী বা বিপরীতমুখী।
পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক ভাষাতেই
এই ধরনের শব্দ বা বাক্য পাওয়া যাবে।


"বাংলায় নামের ক্ষেত্রেও
প্যালিনড্রোম শব্দের দেখা পাওয়া যায়
যেগুলো কিছুটা লম্বা।
সুবললাল বসু, রমাকান্ত কামার,
সদানন দাস, রায়মণি ময়রা,
নিধুরাম রাধুনি, হারান রাহা
প্রভৃতি।
এ ছাড়াও বিভিন্ন অর্থবহ প্যালিনড্রোম
শব্দ বা বাক্য রয়েছে, যেমন—
মরম, মলম, দরদ, জলজ, বনমানব,
নবজীবন, সহিস, কালিকা, সরেস,
তফাত, বাহবা, সন্ন্যাস, সন্ত্রাস, নরুন,
বই চাইব, নাম লেখালেম না,
বিকল্প কবি, তুমি কি মিতু, ঘুরবে রঘু,
মার কথা থাক রমা!"


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন:-
কোনদিন এত বুড়ো হবো নাকো আমি ।
হাসি তামাশারে যবে কবো ছ্যাবলামি ।।

দাদাঠাকুর কোনদিন ছ্যাবলামি করেন নি,
হাসি তামাশার মধ্যে দিয়ে  সমাজের
উপকার করেছেন !
আজ দাদা ঠাকুরকে  জানাই আমার
 সশ্রদ্ধ প্রণাম !
আর ঈশ্বরকে জানাই আমার আর্জি
এমন দাদাঠাকুরের মতন সন্তান
আরকি জন্মাবেনা  বাংলায়।



========================================================