Monday, November 25, 2024

46>নৃসিংহ ভাদুরী::---

 46>নৃসিংহ ভাদুরী::----

নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী একজন ভারতীয় ইতিহাসবিদ,  ভারততত্ত্ববিদ ও লেখক (মহাভারত ও রামায়ণ  বিশ্বকোষ  তৈরিতে অবদান) 

 জন্ম:;--- ২৩ নভেম্বর, ১৯৫০ পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ)

পাবনা জেলার গোপালপুর গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতীয় মহাকাব্য ও পুরাণ বিশেষজ্ঞ। নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ২০১২ সালে প্রধান ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারত ও রামায়ণের একটি বিশ্বকোষ তৈরির বৃহত আকারের প্রকল্প গ্রহণ করেন। কাজের অসুবিধা ও জটিলতার কারণে, প্রকল্পটিকে শেষ করতে তাঁর এক দশক সময় লেগেছিল। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংস্কৃত ভাষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শ্রী ভাদুড়ী প্রাচীন ভারতীয় গল্পগুলির সহজ ব্যাখ্যা ক্ষেত্রে তাঁর পণ্ডিতের জন্য খ্যাতিমান, বিশেষত ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত বিষয়ক।  তিনি সাধারণত বাংলা ভাষায় লেখেন এবং বাল্মিকীর রাম ও রামায়ণ, অর্জুন ও দ্রৌপদী এবং কৃষ্ণা কুন্তি এবং কৌন্তেয় সহ বহু বই লিখেছেন। 

বহু বছর ধরে তিনি নানান পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন।

২০২০: মহাভারতের অষ্টাদশী প্রবন্ধের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।

ওনার বিখ্যাত কিছু  বইসমূহ---

1>বাল্মীকির রাম ও রামায়ণ [ ১৯৮৯] বাংলা আনন্দ পাবলিশার্স

2>মহাভারতের ভারত যুদ্ধ ও কৃষ্ণ[ ১৯৯০] বাংলা আনন্দ পাবলিশার্স

3>মহাভারত (ছোটদের জন্য) [১৯৯৩ ]বাংলা শিশু সাহিত্য সংসদ

4>অর্জুন ও দ্রৌপদী [ ১৯৯৩] বাংলা সাহিত্য সংসদ

5>দেবতার মানবায়ন [ ১৯৯৫] বাংলা আনন্দ পাবলিশার্স

6>কৃষ্ণা কুন্তী ও কৌন্তেয় [১৯৯৮] বাংলা আনন্দ পাবলিশার্স

7>শুকসপ্ততি [২০০১] বাংলা আনন্দ পাবলিশার্স

8>মহাভারতের ছয় প্রবীণ [২০০২ ]বাংলা আনন্দ পাবলিশার্স

9>মহাভারতের অষ্টাদশী [২০১৩ ]বাংলা আনন্দ পাবলিশার্স

10>মহাভারতের প্রতিনায়ক [২০১৫] বাংলা আনন্দ পাবলিশার্স।

            ( সংগৃহীত)

==================================

Friday, November 22, 2024

45>|| অবলা বসু বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর স্ত্রী ||

45> || অবলা বসু বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর স্ত্রী ||

আজ 23 নভেম্বর বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর প্রয়ান দিবসে
আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে::----

বিপুল বিচিত্র কর্তব্যভার
নবজাগরণের বাংলায় দুই উচ্চশিক্ষিত, বিজ্ঞানমনস্ক যুবক-যুবতীর এমন যৌথজীবন হতে পারত আধুনিক দাম্পত্যের সূচনা। যেখানে দু’জনেরই রয়েছে কর্মক্ষেত্র, দু’জনেরই রয়েছে ।

শেষ আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২৪ ০৪:৪২
অগ্রণী: নারীশিক্ষা ও স্বরোজগারের কর্মক্ষেত্র তৈরী করেন অবলা বসু।
অগ্রণী: নারীশিক্ষা ও স্বরোজগারের কর্মক্ষেত্র তৈরী করেন অবলা বসু।

অবলার সঙ্গে বিয়ের পর জগদীশচন্দ্র বসু বাড়ি ভাড়া নিলেন চন্দননগরে। সেখান থেকে নৌকায় নদী পেরিয়ে নৈহাটি এসে ট্রেন ধরতে হত। তাই তাঁরা কিনলেন একটা ‘জলি বোট’। স্বামীকে ও-পারে নামিয়ে দিয়ে অবলা একাই নৌকা বেয়ে ফিরে আসতেন। বিকেলে আবার বোট নিয়ে যেতেন ও-পারে। জগদীশচন্দ্র মশলাপাতি নানা কৌটোয় ভরে লেবেল সেঁটে রাখতেন, ‘হলুদ,’ ‘জিরে’ ইত্যাদি। নববধূ সবে পড়াশোনা সেরে সংসারে ঢুকেছে, হেঁশেল সামলাতে অপটু।

নবজাগরণের বাংলায় দুই উচ্চশিক্ষিত, বিজ্ঞানমনস্ক যুবক-যুবতীর এমন যৌথজীবন হতে পারত আধুনিক দাম্পত্যের সূচনা। যেখানে দু’জনেরই রয়েছে কর্মক্ষেত্র, দু’জনেরই রয়েছে সংসার। ঠিক তেমনটি হল না। বিয়ের বারো বছর পর রবীন্দ্রনাথকে চিঠিতে (২৫ এপ্রিল, ১৮৯৯) অবলা বলছেন, ইংরেজি ‘মিসেস’-এর পরিবর্তে বাংলায় একটা নতুন কথা প্রয়োজন। “আপাততঃ গৃহলক্ষ্মী বলিতে পরেন... সহধর্ম্মিণী একান্ত সেকালের। আধুনিকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিমণ্ডিতা হইলে গৃহসরস্বতী লিখিতে বলিতাম।”

অবলা বেথুন কলেজ থেকে বিএ পাশ করে প্রথম শ্রেণির ছাত্রবৃত্তি নিয়ে ভর্তি হন মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজে (১৮৮২)। একা এক অচেনা শহরে থেকে চার বছর পরে ফার্স্ট এলএমএস পরীক্ষা পাশ করেন, অসুস্থতার জন্য দ্বিতীয় এলএমএস পরীক্ষা না দিয়ে ফিরে আসেন কলকাতায়। তা সত্ত্বেও সামগ্রিক ফলের ভিত্তিতে অবলাকে সাম্মানিক এলএমএস ডিগ্রি দিয়েছিল তাঁর প্রতিষ্ঠান (১৯৮৮)। এমন মেয়েকে কী করে সেকেলে ‘গৃহলক্ষ্মী’-র ছাঁচে ফেলা যায়?

বিয়ের পর আট-ন’বছর এক বৃহৎ যৌথ পরিবারে গৃহিণীপনা করতে করতে অবলারও আত্মবিশ্বাস যেন ক্ষয়ে এসেছিল। “আমি যখন আচার্য্যের সহিত ইংলণ্ডে যাই, তখন জড়পিণ্ডবৎ ছিলাম... একটি কথাও বলিতে পারিতাম না,” লিখছেন অবলা (১৮৯৬)। এর পর থেকে অবশ্য স্বদেশ-বিদেশে যে কোনও সফরে স্বামীর সঙ্গী হতেন অবলা, কারণ আত্মভোলা অধ্যাপক স্ত্রীর উপর নিজের আহার, পোশাক, সব বিষয়ে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিলেন। আর অবলা গৃহিণী, সখা, সচিব হয়ে আগলে রেখেছিলেন জগদীশচন্দ্রের বিজ্ঞানসাধনাকে। বসু বিজ্ঞান মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অবলা কী বিপুল, বিচিত্র কর্তব্যভার কেমন প্রশান্ত ভাবে বহন করতেন, তার সাক্ষ্য মেলে সহকর্মী, ছাত্রছাত্রীদের স্মৃতিকথায়।

পরিণত বয়সে অবলা যখন নারীশিক্ষা ও স্বরোজগারের বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন, তখন কি জগদীশচন্দ্র তাঁর পাশে ছিলেন? অবলা-প্রতিষ্ঠিত ‘নারীশিক্ষা নিকেতন’-এর অধীনে চলত বিধবাশ্রম, হাতের কাজের প্রশিক্ষণ, সমবায়ের মাধ্যমে সে সব পণ্যের বিপণন, গ্রামে মেয়েদের স্কুল স্থাপন। মেয়েদের ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনেও অবলা ছিলেন অগ্রণী। এ সব কাজ অবলাকে করতে হত দুপুরে, স্বামীর বিশ্রামের অবসরে। মনে হয় খানিক অভিমান করেই দময়ন্তী দাশগুপ্ত অবলার জীবনচরিত উৎসর্গ করেছেন দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়কে, যিনি নিজের চিকিৎসক স্ত্রী কাদম্বিনীর সর্বপ্রধান সহায় ছিলেন।

দময়ন্তী দাশগুপ্ত যে নারীবাদের তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে অবলা বসুর জীবন ও কাজকে আলোচনা করেছেন, এমন নয়। তিনি সাংবাদিক, তাঁর এই কাজকে বলা চলে ইতিহাসের এক নিবিড় অনুসন্ধান। তবু প্রচলিত কথাবার্তায় যা আড়ালে থেকে যায়, তার উপর আলো পড়লে ভিন্ন নকশা চোখে পড়ে। চেনা লোক, জানা কথাগুলো নতুন করে ভাবতে হয়। চিন্তায় এমন নাড়াচাড়া ফেলে দেওয়া— এও নারীবাদের বৈশিষ্ট্য।

অবলাকে জানা-বোঝায় একটা ফাঁক রয়েই গিয়েছে— অবলা যে ডায়েরি লিখতেন সে কথা পাওয়া যায়, কিন্তু ডায়েরিগুলি পাওয়া যায়নি। ফলে অবলার মানসলোকের নাগাল পাওয়া যায় না। তাঁর দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ক্ষোভ-উদ্বেগ, মনের উপর জীবনের নানা ঘটনার অভিঘাত, কিছু জানা যায় না। লেখক এই ফাঁক ভরাতে চেয়েছেন প্রধানত দু’ভাবে— অবলার চার পাশের মানুষগুলির প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলে, এবং অবলার সম্পর্কে তাঁর পরিচিতদের পর্যবেক্ষণ, তাঁদের লেখা চিঠিপত্র তুলে ধরে। সেই সব উপাদান দিয়েই অবলার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের, নিবেদিতার সম্পর্ক সূক্ষ্ম আঁচড়ে এঁকেছেন দময়ন্তী।

অবলার পারিবারিক পরিমণ্ডলের বিশদ তথ্য থেকেও নানা সম্ভাবনাপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়ে যায়। যেমন, নারীশিক্ষার প্রচারে দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়, শিবনাথ শাস্ত্রী, দুর্গামোহন দাস প্রমুখ যে অগ্রণী ছিলেন, তা যথেষ্ট প্রচারিত। এই বইটি পড়ে আন্দাজ হয়, দুর্গামোহনের অকালপ্রয়াতা স্ত্রী ব্রহ্মময়ীর প্রভাবও কম ছিল না। এই ব্যক্তিত্বময়ী, স্নেহশীল মহিলা বিধবা এবং অন্যান্য বিপন্ন মেয়েদের নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিতেন, তাদের শিক্ষা ও বিবাহের ব্যবস্থা করতেন। তাঁর বড় মেয়ে সরলা রায় (গোখলে মেমোরিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা) এবং মেজো মেয়ে অবলা, দু’জনেই নিজেদের পরিচালিত স্কুলের সঙ্গে রেখেছিলেন হস্টেল। ছাত্রীদের প্রতি তাঁদের স্নেহসিক্ত ব্যবহারের কথা মেলে প্রাক্তনীদের বয়ানে।

অবলার বিধবাশ্রমে স্থান পেত স্বামী-পরিত্যক্তারাও, নানা প্রশিক্ষণও পেত। ‘সেকেলে গৃহলক্ষ্মী’ অবলা একষট্টি বছর বয়সে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমার মনে হয় সব মেয়েদের আর্থিক স্বাধীনতা থাকা দরকার। তা নইলে আমরা আত্মসম্মান-ভ্রষ্ট হব।”
       ( সংগৃহীত )
=============================

Saturday, October 26, 2024

44>শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের::---'

 

44>শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের::---'
অপরাজেয় কথাশিল্পী;; কথাসাহিত্যিক
জন্ম::-- ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬
দেবানন্দপুর, ব্যান্ডেল, হুগলি জেলা,
মৃত্যু::--জানুয়ারি ১৬, ১৯৩৮ (বয়স ৬১)
কলকাতা,

শরৎচন্দ্রের সন্তানহীন জীবনকে পূর্ণ করেছিল আফিম ভেলু, বেটু, এবং বাঘারা...

নেশা ধরেছিলেন অনেক কম বয়সেই। দুরন্তও ছিলেন সেরকম। পিতা মতিলাল চট্টোপাধ্যায়ের মতো বোহেমিয়ানা ছিল রক্তে। চণ্ডীমণ্ডপের বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা স্কুলের পণ্ডিতমশাই রেহাই ছিল না কারোরই। বোঝা যায়, ‘লালু’ বা ‘ইন্দ্রনাথ’-দের অনেক বৈশিষ্ট্য তাঁর নিজের মধ্যেই ছিল। একবার এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফি-র টাকা জমা না করে হাঁটা পথে পাড়ি দিলেন পুরীর উদ্দেশ্যে। মেদিনীপুরের বহু জায়গায় তখন কলেরার মড়ক লেগেছে। রাতে আশ্রয় পেলেন না কোথাও। ক্লান্ত, ক্ষত-বিক্ষত পা দুটিকে কোনোরকমে টেনে পৌঁছে গেলেন পুরীতে। কিন্তু কোনো মন্দিরে ঢুকলেন না। বঙ্গোপসাগরের অসীম জলরাশিকে প্রণাম করে হাঁটা লাগালেন বাড়ির দিকে।

ফিরে এসে পেলেন পিতার মৃত্যুসংবাদ। তিনি পরিবারের বড়ো—সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ল তাঁর কাঁধে। গুরুজনরা দিলেন কাজ খোঁজার সুপরামর্শ। সব শুনে, শেষে একটা যাত্রার দলে নাম লেখালেন। বাউন্ডুলে, নেশাখোর, চরিত্রহীন কত বিশেষণই যে জুটল কপালে। কিছুটা আত্মগ্লানি থেকেই রোজগারের আশায় কদিন কলকাতায় থেকে পাড়ি দিলেন ব্রহ্মদেশে (আজকের মায়ানমার)। জীবনের অভিজ্ঞতার ভাঁড়ারে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করল রেঙ্গুনের একাকী দিনগুলি। দেখলেন মানবচরিত্রের বহু রূপ, নিজের জীবনে না হলেও সাক্ষী থাকলেন প্রেমের মহত্ত্বের। শুরু হল ‘শ্রীকান্তের শরৎচন্দ্র’-এর যাত্রাপথ। চাক্ষুষ সাক্ষাৎ ঘটল ‘পথের দাবী’-র সব্যসাচীর সঙ্গেও।

এসবের মধ্যেই সুস্থির হয়েছে জীবন। সাফল্য পেল ‘বড়দিদি’। প্রকাশিত হতে লাগল ‘পরিণীতা’, ‘পল্লীসমাজ’, ‘শ্রীকান্ত’, ‘দেবদাস’, ‘গৃহদাহ’ ইত্যাদি উপন্যাস। সঙ্গে অসংখ্য ছোটোগল্প। শরৎচন্দ্র হয়ে উঠলেন ‘দরদী কথাসাহিত্যিক’। এ প্রসঙ্গে বোধহয় আরো দুজনের কথা বলে নেওয়া মন্দ হবে না। তার মধ্যে একজন হল ‘ভেলু’ কুকুর, আসলে শরৎচন্দ্রের সন্তান। শ্রীহীন এই নেড়ি কুকুরটির মৃত্যুতে প্রবলভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। আরেকজন হল পোশা টিয়া পাখি ‘বেটু’। যার খ্যাতি ছিল চোর ধরায়। গাছের পেয়ারা আগে সে খাবে, তারপর অধিকার পাবে বাকিরা। অত্যন্ত কাছের মানুষ হয়েও একবার ঠিক সেই ভুলই করে ফেললেন শৈলেশ বিশী। ব্যাস, শরৎচন্দ্র তো রেগে আগুন। তৎক্ষণাৎ আদেশ হল, সমস্ত পেয়ারা বিলিয়ে দিতে হবে পাড়ায়। বহু আদর যত্নে কমানো হল টিয়া পাখির অভিমান।

কিন্তু শরৎচন্দ্রকে শান্ত করা যাচ্ছে না। অগত্যা বসতে হল আফিমের আসরে। গলে জল হয়ে গেল সমস্ত রাগ। অযথা উত্তেজনার জন্য ক্ষমাও চাইলেন। আর তারপরই ঘোষণা করলেন, সাহিত্যিক হতে গেলে আফিম-সেবন অনিবার্য! সে যাত্রায় অবশ্য লেখক হতে পারেননি শৈলেশ বিশী। প্রথম দিন গুরুজনের আশীর্বাদ বলে প্রত্যাখ্যান না করলেও, কদিন পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু ওই পাঁচটা থেকে নটার আড্ডাতেই সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন মানবিক শরৎচন্দ্রের। যাঁর সন্তানহীন জীবনকে পূর্ণ করেছিল ভেলু, বেটু, বাঘারা। যিনি কাশীতে গিয়ে ভোজ খাওয়াতেন কুকুরদের। জাতপাতের ব্যবধানে বিভক্ত সমাজকে সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র একের পর এক প্রশ্নে আহত করতেন। আর হয়তো ব্যক্তিগত জীবনে সুখী হতেন অবলা পশুদের সঙ্গে।

সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন রাজনীতির সঙ্গেও। গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলনে যুক্ত হয়ে চরকা কেটেছেন, আবার পকেটে বেআইনি পিস্তল নিয়েও ঘুরতেন। ভেলু মারা যাওয়ার পর আত্মরক্ষার জন্য নাকি এই ব্যবস্থা। সেই সময়ে বাংলার রাজনীতিতে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশই শেষ কথা। তাঁর স্নেহচ্ছত্রেই নিজেকে গড়ে নিচ্ছেন সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁদের পত্রিকা ‘নারায়ণী’-তে নিয়মিত লেখালেখি করতেন শরৎচন্দ্র। একবার সুভাষচন্দ্র ধরলেন তাঁকে, সবাই জেলে যাচ্ছে, এবার তিনিও চলুন সেখানে। এমনিতে আপত্তি ছিল না। কিন্তু সমস্যা যে মৌতাতে। জেলের ভিতর আফিম কীভাবে পাবেন? সুভাষচন্দ্র জানালেন, তিনি ঠিক ব্যবস্থা করে দেবেন। আর তিনি বেরিয়ে এলে কী হবে? সবসময় তো তাঁর সঙ্গ পাবেন না। অনেক ভেবেচিন্তে একটা বুদ্ধি বেরোল। সুভাষচন্দ্র দাড়ি কাটার জন্য পায়ের তলায় ব্লেড নিয়ে যেতেন জেলে। শরৎচন্দ্রও সেই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। কয়েকদিন পরীক্ষানিরীক্ষা চলার পরে ঠিক মনঃপূত হল না ব্যাপারটা। ফলে স্থগিত রইল জেলযাত্রা।

অবশ্য বাইরে সংগঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন দীর্ঘদিন। হাওড়া কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হয়ে একাধিক কনফারেন্সে গেছেন। সাক্ষাৎ পেয়েছেন বহু মানুষের। শেষে কংগ্রেসের সঙ্গ ছেড়ে হাত দিলেন ‘পথের দাবী’-র কাজে। রেঙ্গুনবাসের অভিজ্ঞতা, সুভাষচন্দ্রের সঙ্গ আর সশস্ত্র আন্দোলনের মিশেল ঘটল উপন্যাসে। যা ভয়ে নিষিদ্ধ করে দিতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু নেভানো যায়নি আগুন। দেশের উত্তর-পূর্ব ধরে আজাদ হিন্দ বাহিনী নিয়ে ফিরে এসেছিলেন সুভাষচন্দ্র। সুমিত্রা-ভারতীদের দেখা পাওয়া গেছে ‘ঝাঁসির রানি’ রেজিমেন্টের বীরাঙ্গনাদের মধ্যে। সমগ্র ভারত দেখতে পেয়েছিল স্বাধীনতার চূড়ান্ত রূপ। তারপর একদিন আবার হারিয়ে গেলেন ‘নেতাজি’, সন্ধান মেলেনি আর। অনেকটা যেন সব্যসাচীর মতোই।

তার অনেক উপন্যাস ভারতবর্ষের প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে। বড়দিদি (১৯১৩), পরিণীতা (১৯১৪), পল্লীসমাজ (১৯১৬), দেবদাস (১৯১৭), চরিত্রহীন (১৯১৭), শ্রীকান্ত (চারখণ্ডে ১৯১৭-১৯৩৩), দত্তা (১৯১৮), গৃহদাহ (১৯২০), পথের দাবী (১৯২৬), শেষ প্রশ্ন (১৯৩১) ইত্যাদি শরৎচন্দ্র রচিত বিখ্যাত উপন্যাস।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে খ্যাত। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক পান৷ এছাড়াও, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ডিলিট' উপাধি পান ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে।

ছদ্মনাম
অনিলা দেবী, অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, পশুরাম

Friday, September 13, 2024

43>|| সাষ্টাঙ্গে প্রণাম, মহিলা ও পুরুষ ||

 43>|| সাষ্টাঙ্গে প্রণাম, মহিলা ও পুরুষ ||


প্রঃ- মহিলারা কি সাষ্টাঙ্গে বা শুয়ে পড়ে, হাত ও পা লম্বা করে প্রণাম করতে পারেন?


উঃ শ্রীরামকৃষ্ণ সুরেন্দ্রকে বলিতেছেন, "আমায় কিছু খাওয়াবে না?" এই বলিয়া গত্রোত্থান করিয়া অন্তঃপুরে গমন করিলেন। মেয়েরা আসিয়া সকলে ভুমিষ্ঠ হইয়া অতি ভক্তিভরে প্রণাম করিলেন।আহারান্তে একটু বিশ্রাম করিয়া দক্ষিণেশ্বরে যাত্রা করলেন। এখানে  দেখছি মহিলারা ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করছেন,বা ভূমিতে মাথা বুক পা ঠেকিয়ে শুয়ে পড়ে প্রণাম করছেন। ঠাকুর কোন নিষেধ করছেন না। শ্রীশ্রীমাকে নিবেদিতা সহ অন্যান্য যেসব মায়েরা বা মহিলারা প্রণাম করতেন তাহাদেরকেও মা নিষেধ করেননি। এ তো রামকৃষ্ণ ভক্তদের পরম্পরা থেকে দেখলাম। আজও এইভাবে মাকে মেয়েরা বা মহিলারা প্রণাম করে চলেছেন। একদিন সিস্টার আমাদের বলিলেন, "মাতাদেবী আজ আমাদের স্কুলে আসবেন। তোমরা সকলে খুব আনন্দ কর।" সকালের পরিবর্তে চারটার সময় মায়ের গাড়ি আসিল। সঙ্গে রাধু, গোলাপ-মা প্রভৃতি। মা গাড়ি হইতে নামিতেই সিস্টার তাহাকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করিয়া ঠাকুর দালানে বসাইলেন। মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেবার জন্য আমাদের হাতে পুষ্প দিলেন। মেয়েরা পুষ্পাঞ্জলি দিয়া উঠানে দাড়াইলে সিস্টার একে একে সকলের পরিচয় দিলেন। মা মেয়েদের একটু গান গাইতে বলিলেন, মেয়েরা গান গাহিল এবং একটি কবিতা পড়িল। শুনিয়া মা বলিলেন, 'বেশ পদ‍্যটি।' তারপর মিষ্টি প্রসাদ করিয়া দিয়া আমাদের দিতে বলিলেন।

 

এবার যুক্তি হ'ল সতীর একান্ন পীঠ,এই পৃথিবীতে এখন রয়েছে। সতীর অঙ্গের যে যে অঙ্গ যেখানে পড়েছে সেখানেই একটি করে তীর্থ হয়েছে। এই রকম  একান্নটি পিঠ রয়েছে। আসামে  মায়ের জননেন্দ্রিয় কামাখ্যাতেই পড়েছিল। কাজেই এ সকল যদি তীর্থে রূপান্তরিত হতে পারে, তবে মায়েদের সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতে অসুবিধা কোথায়? তারা কি মায়ের অংশ নয়! আর মা কখন কি অপবিত্র হয়? যে ধরিত্রী মায়ের উপরে প্রাণীদের জন্ম, সেই প্রাণীদের ধারণ ও বহন করতে মা পারেন না, এ কথা কি বলা ঠিক হয়? জননী যেমন সব সন্তানকে পেটে ধারণ করেন, তেমনি ধরিত্রী সকল সন্তানদের ধারণ ও বহন করছেন,আবার সবকিছু তিনিই ব্যবস্থা করেন।


তাছাড়া ভগবান আমাদের মা-বাবা, তাঁর কাছে প্রণাম করতে সন্তানের কোন পার্থক্য থাকে কি? মহিলারা আসবেনা, পুরুষরা আসবে। পুরুষরা আসবেনা, মহিলারা আসবে। এইরকম কোন নিয়ম শ্রীশ্রীমাসারদাদেবীর ক্ষেত্রে দেখিনি। তবে আমরা এই পার্থক্য তৈরি করছি কেন?স্বামীজি নিজে সষ্টাঙ্গে প্রণাম করে বিজ্ঞান মহারাজ ও নিবেদিতাকে এই সব কিছু শিখিয়েছেন। সে সময় কোন পার্থক্য করা হয়নি, মা জগৎ জননী তাকে সবাই সাষ্টাকে প্রণাম করবার অধিকারী। তাছাড়া  যে মাথা বুক ও পা সর্বাঙ্গ ভূমিতে ঠেকিয়ে ভূমিষ্ঠ প্রণাম করছি, সেও তো আমাদের মাটির মা তিনি তার সন্তানের ভার বহন করতে পারেন না। একথা বলা ঠিক না। কাজেই মহিলা এবং পুরুষ সবাই সাষ্টাঙ্গে প্রণামের অধিকারী বলে মনে করি। তবে মায়েদের পেটে সন্তান এলে এই সময়কালে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করা নিষেধ থাকে। কেননা এতে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। অন্য সময় করা যেতে পারে ।


অনেককেই বলতে শুনি মেয়েদের সাষ্টাঙ্গে প্রণাম  করতে নেই কিন্তু শ্রীশ্রী মায়ের কথা পুস্তকে প্রব্রাজিকা ভারতীপ্রাণা মাতাজী তখন সরলা বালাদেবী স্মৃতিচারণা থেকে একটি অংশ উল্লেখ করছি। একদিন সিস্টার আমাদের বলিলেন  মাতাদেবী আজ আমাদের স্কুলে  আসবেন। তোমরা সকলে খুব আনন্দ কর। সকালের পরিবর্তে চারটার সময় মায়ের গাড়ি আসিল। সঙ্গে রাধু গোলাপ মা প্রভৃতি। মা গাড়ি হইতে নামিতেই সিস্টার তাঁহাকে সাষ্টাঙ্গ  প্রণাম  করিয়া  ঠাকুর দালানে বসাইলেন। আমার কথা সাষ্টাঙ্গ  প্রণাম  করা মেয়ে দের অনুচিত হলে মা তো সিস্টারকে এমন করতে নিষেধ করতেন। মা তো তা করেননি। আর মা যখন বারন করেননি তখন মেয়েদের সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করতে বাধা কিসের?

 "জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্‌গুরুম্।

পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।"

জয়মা  জয়মা জয়মা জয়মা।

=======================€€

Thursday, May 30, 2024

42>|| ঋত্বিক ঘটকের এক সত্য ঘটনা ||

 42>|| ঋত্বিক ঘটকের এক সত্য ঘটনা ||


এলেই যখন, দুটো টাকা দিয়ে যাও’, বলে ঋত্বিক হাত বাড়ালেন। লজ্জায় মাথা নিচু করে সুচিত্রা বললেন ‘ছিঃ দাদা। এমন করে বলছেন কেন ? আমি কি দূরের কেউ ?’। বলেই কড়কড়া কয়েকটা ১০০টাকার নোট দিলেন ঋত্বিকের হাতে ...


সাদা রংয়ের একটা এ্যাম্বাসেডরের পিছের সিটে হেলান দিয়ে বসে আছেন সুচিত্রা। তীব্র দাবদাহ, পুরা কলকাতা পুড়ছে। এ্যাম্বাসেডর পার্ক স্ট্রিটে ঢুকে একটু আগাতেই ফুটপাতে একজনকে দেখে সোজা হয়ে সিটে বসলেন সুচিত্রা। 


ড্রাইভারকে গাড়ি সাইড করতে বলে নিজেই নেমে এগিয়ে গেলেন সেই মানুষটার দিকে। এই কাঠফাটা গরমে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করছেন স্বয়ং ঋত্বিক ঘটক। 


হাত জোর করে প্রণাম করতে করতে সুচিত্রা বললেন

– আমাকে চিনতে পারছেন ঋত্বিক দা ? আমি সুচিত্রা, গত বছর শান্তিনিকেতনে দেখা হলো।


চশমার উপর দিকে তাকিয়ে ভালো করে মুখটা দেখলেন ঋত্বিক, তারপরে বললেনঃ


– ও হ্যা। তুমি সুচিত্রা রায় তো ? টালিগঞ্জ বাড়ি। অন্নদাশঙ্কর রায় তোমার কী রকম জ্যাঠা হন না ? ঠিক বলেছি তো ?


সুচিত্রা আপ্লুত হলেন। কি সৌভাগ্য! এত বড় মানুষটা সব মনে রেখেছে। সুচিত্রা কলকাতার শিল্পপ্রেমী বনেদি পরিবারের মেয়ে, জন্মের পর থেকেই কলকাতার সব মহিরুহদের সামনে দেখে বড় হয়েছেন; ইদানিং প্রায়ই বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় চলচ্চিত্র বিষয়ে প্রবন্ধনিবন্ধ লেখেন। ঋত্বিক ঘটক এর মূল্য সে বোঝে। ঋত্বিক ঘটক কে মনে মনে গুরু মানে সুচিত্রা। 


ঋত্বিকদার পরনে ধুলিমলিন পাজামা-পাঞ্জাবি। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। এক মাথা এলোমেলো চুল। মুখে খোঁচা খোঁচা। সে মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম।এই জবুথবু অবস্থাতেও ঋত্বিকের চোখের আগুন একফোটা কমে নি, ঋত্বিক ঘটক মানেই এক আগুনের নাম। মেঘে ঢাকা তারা, কোমল গান্ধার, সুবর্ণরেখা-এসব ছবিগুলোয় যে আগুনের ছাপ স্পষ্ট।


সুচিত্রা খেয়াল করলেন ঋত্বিকের পিছনে একটা ব্যানারে বড় করে লেখা :


           “বাংলা দেশের শরণার্থীদের জন্য দান করুন।”


ব্যানারের পাশেই একটা বড় বাক্স, সেখানে রাস্তার মানুষ টাকা ফেলে যাচ্ছে। 


বাক্সের পাশেই লম্বা একটি টুল। তার ওপর গিটার হাতে এক বিদেশি তরুণ বসে আছে। গায়ের রং তামাটে, হিপিদের মতো লম্বাচুল, চোখে সানগ্লাস আর মুখ ভর্তি লালচে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। পরনে ঢোলা বেলবটম প্যান্ট আর রঙ্গিন হাওয়াই শার্ট। মাথায় একটি সাদা রঙের সোলার হ্যাট। 


গিটার আর মাউথ অর্গান বাজিয়ে নাকি গলায় তরুণটি গাইছে:


"Come senators, congressmen

Please heed the call

Don’t stand in the doorway

Don’t block up the hall"


গানটা সুচিত্রার পরিচিত, কিংবদন্তি গায়ক বব ডিলানের গান। ঋত্বিক তরুণকে দেখিয়ে বললেন, ও হল স্টিভ টার্নার। গায়ক ও সাংবাদিক। সপ্তাহ খানেক হল আমেরিকা থেকে এসেছে। স্টিভ-এর সঙ্গে কবি অ্যালান গিনসবার্গও কলকাতা এসেছেন।


স্টিভকে হ্যালো বলে কৌতুহলী সুচিত্রা জানতে চাইলেন গিনসবার্গ কোথায়। ঋত্বিক বললেন,অ্যালান আজ সকালে শক্তির সঙ্গে বারাসাত শরনার্থী শিবিরে গিয়েছে।


– শক্তি ? মানে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ?

– হ্যা। গতকাল অবধি টাকাপয়সা যা জমেছিল তা দিয়ে ওরা ওষুধ আর খাবার কিনে নিয়ে গেল ।


ঋত্বিক সুচিত্রাকে বললেন ‘এলেই যখন, দুটো টাকা দিয়ে যাও’, বলে ঋত্বিক হাত বাড়ালেন। লজ্জায় মাথা নিচু করে সুচিত্রা বললেন ‘ছিঃ দাদা। এমন করে বলছেন কেন ? আমি কি দূরের কেউ ?’। বলেই কড়কড়া কয়েকটা ১০০টাকার নোট দিলেন ঋত্বিকের হাতে। হঠাৎ করে ঋত্বিক সুচিত্রাকে প্রশ্ন করলেনঃ


– সুচিত্রা তুমি একসঙ্গে কত লাশ দেখেছ ? ১০০? ২০০? ৩০০? ৪০০? ৫০০? ৬০০? ৭০০? ৮০০? ৯০০?

এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই অদ্ভুত এক ঘোরলাগা নিয়ে সুচিত্রা আবার এ্যাম্বাসেডরে চড়ে বসলেন। 


যে ভূখন্ডের অসহায় মানুষের জন্য এই পাগলাটে মানুষটা  তীব্র তাপদাহে পুড়েছেন, কেঁদেছেন,চিৎকার করেছেন সেই ভূখন্ডে তো ঋত্বিকদা আর কখনোই ফিরে যাবেন না জেনেও। ঋত্বিকদারা পরিবারসহ ’৪৭ সালেই এ পাড়ে চলে এসেছেন । 


তবুও … এত বড় ফিল্ম ডিরেক্টর, ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়, যে ঋত্বিক ঘটককে জগদ্বিখ্যাত চলচ্চিত্রকারদের সঙ্গে তুলনা করা হয় সে মানুষটি কেমন নাওয়াখাওয়া ভুলে জ্বলন্ত ফুটপাতে দাঁড়িয়ে তৎকালীন পূর্ব বাংলার শরণার্থীদের জন্য ভিক্ষে করছেন।


(ছবিতে: ঋত্বিক ঘটক ও রমেশ জোশী।)

(ফেইসবুক ওয়াল থেকে প্রাপ্ত)


অপূর্ব সংগ্রহ ।এত সুন্দর একটা মুহূর্ত কে তুলে ধরার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।


Thursday, March 14, 2024

41>|| নচিকেতা ||


      41>|| নচিকেতা ||


উপনিষদে নচিকেতার গল্প কথার  মূল তন্ত্ব ও ভারতীয় দর্শন।


ঋষি বজস্রাবসের পুত্র নচিকেতা।  

যম রাজের সাথে নচিকেতার কথপোকথনে মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে উপনিষদের কিছু তত্ত্ব ও ভারতীয় দর্শন।

নচিকেতা শিশু কাল থেকেই ছিলেন স্বমহিমায় উজ্জ্বল, দৃঢ়চেতা, কৌতূহলী, বুদ্ধিদীপ্ত বালক। তার প্রবল জিজ্ঞাসু মন সদা সর্বদা পিতার কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে চায়।

নচিকেতা তার পিতার একমাত্র সন্তান।


নচিকেতার যখন অল্প বয়স ছিল, তখন তাঁর বাবা তাঁর সমস্ত বৈষয়িক  জিনিসপত্র একটি আচার যজ্ঞে দান করেছিলেন। নচিকেতা লক্ষ্য করেছিল যে তার পিতার উদারতা আন্তরিক ছিল না। তিনি আচার যজ্ঞের সম্মানের জন্য তাঁর বৃদ্ধ গরুগুলি, যেগুলি বন্ধ্যা, অন্ধ বা খোঁড়া ছিল সেইগুলি সহ সব অব্যাবহার যোগ্য জিনিষপত্র দান করছিলেন। 

নচিকেতা তাঁর পুত্র। কিন্তু তার পিতা তাকে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করেননি। নচিকেতা তার পিতামাতাকে দেবতা জ্ঞানে ভক্তি ও পূজা করতেন। 


সেইকারনে  যথোপযুক্ত সম্মানের সাথে, বালক নচিকেতা তার বাবার কাছে 

জানতে চাইলেন;;----

"পিতা, আপনি আমাকে কারনিকট দান করবেন? আপনার আত্মত্যাগের জন্য আপনার সম্মানে সবকিছু দেওয়া দরকার। 


এ-হেন প্রশ্নে ঋষি বজস্রাবস বেশ

ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “তোমাকে আমি দান করবো?" 

কোন  পিতা কি তার সন্তানকে পরিত্যাগ করেন? কিন্তু পিতার উত্তরে বালক খুশী হয়নি। সেই কারনে নচিকেতা আরও বার বার দুবার জিজ্ঞাসা করার পরে, তার রাগান্বিত পিতা উত্তর দিলেন, "তোমাকে মৃত্যুরাজ যম এর কাছে দেওয়া হয়েছে!" যেই কথা সেই কাজ। বালক এমন কথা শোনা মাত্রই যমের দুয়ারে গিয়ে উপস্থিত হন। 

কিন্তু বিশেষ কিছু কারণে যমরাজ নিজের ভবনে ছিলেন না। সেইহেতু নচিকেতাকে তিন দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর যমরাজ ফিরে আসেন। 

যমরাজ যুবক ঋষি নচিকেতাকে অভিবাদন জানিয়ে বললেন, "হে জ্ঞানী, আপনি এখানে তিন দিন ধরে অনাহারে

 অবস্থান করছেন, এবং আপনি এখানে আমার  অতিথি। আমি আপনাকে অভিবাদন জানাই, ব্রাহ্মণ যুবক। আমি আমার অনুপস্থিতি জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। ফলে, তিনি নচিকেতাকে তিনটি বর দেন, প্রতিটি দিনের জন্য একটি করে। নচিকেতা সাদরে সেই তিনট বর গ্রহন করেন এং একের পর এক যমরাজের কাছে তিনটি বর নিবেদন করেন এবং বলেন,::----

=============

★★প্রথম বর: নচিকেতা অনুনয় করে মৃত্যুরাজ যমকে বললেন, "দয়া করে আমার প্রথম ইচ্ছাটি পূর্ন করুন, আমার বাবা যেন আমাকে নিয়ে তার উদ্বেগ থেকে মুক্তি পান। এখান থেকে ফিরে যাবার পর  আমাকে যেন তিনি আবারো চিনতে পারেন এবং আমার সাথে কথা বলেন। তিনি যেন আর কখনো উদ্বিগ্ন কিংবা রাগান্বিত না হন।" যমরাজ বালক নচিকেতার প্রথম অনুরোধটি মঞ্জুর করেন।


★★দ্বিতীয় বর: নচিকেতার দ্বিতীয় ইচ্ছা ছিল স্বর্গে জীবন এবং অমরত্ব অর্জনের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া।

 যম এবং নচিকেতা ঐশ্বরিক জীবন অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় বলিদান এবং প্রাথমিক যজ্ঞগুলি ব্যবহার করার পদ্ধতিগুলি নিয়ে আলোচনা করেন।


 যম তাকে ব্যাখ্যা করেন যে একজন আলোকিত ব্যক্তির  ধীর প্রাজ্ঞতা এবং দীপ্ত বুদ্ধি স্বর্গে প্রবেশের যোগ্যতা দেয় এবং এটি স্বর্গে প্রবেশের পূর্বশর্ত।


 ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং দুঃখ কাটিয়ে উঠার পরেই কেউ স্বর্গীয় অবস্থার অনুভব উপলব্ধি করতে পারে। স্বর্গে, ভয়, যেমন বার্ধক্য বা মৃত্যুর ভয়, বিদ্যমান নেই।

 


★★তৃতীয় বর: এখানেই উপনিষদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয়। 

যা আমাদের মন ও ধর্য দিয়ে বুঝতে হবে।


এবার নচিকতা যমরাজকে জিজ্ঞাসা করে

 বললেন-"কোনো কোনো লোক দাবী করেন যে একজন মানুষের মৃত্যুর পরে আত্মা বিদ্যমান আবার অনেকেই মনে করেন আত্মার কোন অস্তিত্ব নেই" 

"আমি সত্যটাকে জানার জন্য আপনার নির্দেশ ও মতামত জানতে চাই, হে মৃত্যুরাজ যম।" 


তৃতীয় প্রশ্নটির মাধ্যমে নচিকেতা জীবনের সবচেয়ে অজানা বিষয় মৃত্যু সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। মৃত্যু আসলে কী এবং আমরা যখন মারা যাই তখন কী ঘটে? সত্য কি, এবং কি বাস্তবতা তৈরি করে?


যম নচিকেতাকে এই ধরনের গভীর দার্শনিক বিষয়গুলি বিবেচনা করার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেন কারণ 

যমরাজের অনুমান যে নচিকেতা এ-হেন জটিলতা পূর্ন তত্ত্ব গুলি বোঝার জন্য এখনো বালক। 


এবং সেই কারণেই  যমরাজও অনিশ্চিত ছিলেন যে নচিকেতা এই বিরল এবং মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি পাওয়ার যোগ্য কিনা। 


যমরাজ বালকটির সাথে কথা বলেন এবং প্রস্তাব দেন, "হে নচিকেতা, তুমি তোমার স্বাস্থ্য, জীবন, সম্পদ এবং সুখ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর। তোমার তৃতীয় বর হিসাবে, আমি তোমাকে একটি চিরস্থায়ী রাজ্য এবং সেনাবাহিনী বা পৃথিবীতে বা স্বর্গে তোমার ইচ্ছামত বা অন্য কোন স্থানে দেব। তুমি স্বাচ্ছন্দে সেই অসীম সুখ ভোগ করতে পারবে। এবং যতক্ষণ না তুমি আমাকে জীবন ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে বাধ্য না কর। মৃত্যু সম্পর্কে চূড়ান্ত বোঝার চেষ্টা করো না।" 


কিন্তু জ্ঞান পিপাসু নচিকেতা যুক্তি দেন যে সমস্ত স্বর্গীয় এবং পার্থিব সুখআনন্দ সকলই ক্ষনিকের, এসকল সর্বদা শেষ হয়ে যায়। এগুলো উপভোগের দীর্ঘস্থায়ী উৎস নয়। নচিকেতা একান্ত অনুরোধ করে  বলেন " হে মৃত্যুরাজ, আপনি আমাকে তৃতীয় বর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই কারণে আপনি মৃ্ত্যুর রহস্য সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে আমাকে ধন্য করুন ," 

যমরাজ  নচিকেতাকে তার দৃঢ়সংকল্প, বিশ্বাস, সততা এবং অধ্যবসায়ের জন্য আদর্শ শিষ্য হিসাবে দেখতে পেয়ে খুব খুশী হন।

    ★★★★★★★★★★

 ==================


এতক্ষনে যমরাজ নচিকেতার শেষ প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হলেন কিন্তু কিছু নচিকেতার সামনে শর্ত রাখলেন প্রথমে নচিকেতাকে যজ্ঞ করতে অনুরোধ করলেন।


 নচিকেতা তা সাদরে গ্রহন করলেন। প্রথমে ভগবান তাকে তার নিজের শরীর উৎসর্গ করার নির্দেশ দেন। 


নচিকেতা নিজের শরীর নিবেদনের ভাবনায় উদ্বিগ্ন এবং বিচলিত হয়ে পড়েন। সুতরাং, তিনি এটি করতে অস্বীকার করেন। যমরাজ তখন নচিকেতাকে একটি দ্বিতীয় বিকল্পের প্রস্তাব করেন। 

এবার নচিকেতাকে অন্য ব্যক্তির দেহ উৎসর্গ করার আদেশ দেন। 

নচিকেতা আবার প্রত্যাখ্যান করলেন। কারন অন্য ব্যক্তির দেহ নিবেদন করা অনৈতিক হবে। 

যমরাজ নচিকেতার অন্তর্দৃষ্টিতে খুবই সন্তুষ্ট হন এবং তাকে একটি তৃতীয় বিকল্প দিয়েছিলেন: বালক নচিকেতা যে কোনো বস্তুগত সম্পদ পছন্দ করতে পারেন। কিন্তু নচিকেতা সবকিছুকে প্রত্যাক্ষান করে মৃত্যুর সত্য বোঝার ক্ষমতার অনুরোধ করলেন। 

যমরাজ তার অনুরোধ মঞ্জুর করলেন। নচিকেতা সরাসরি যমরাজের কাছ থেকে মৃত্যুর সত্য আবিষ্কার করেছিলেন।



নচিকেতা যমকে জিজ্ঞেস করলেন, "মানুষের সবচেয়ে বড় উপহার কী?


যম উত্তর দিলেন, "মানুষের সবচেয়ে বড় উপহার নিজেকে উৎসর্গ করা।" 


নচিকেতা বুঝতে পেরেছিলেন যে সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার বস্তুগত নয় বরং আত্মত্যাগ।


নচিকেতা যমকে জিজ্ঞাসা করলেন,

 "কি সম্পর্কে জানা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ?"


যম উত্তর দিলেন, "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আত্মপ্রকৃতি।"


নচিকেতা জিজ্ঞাসা করলেন- স্বয়ং কি?


যম বললেন: স্বয়ং জ্ঞানী অর্থাৎ যিনি জানতে চান।


নচিকেতা: "মানুষের কষ্টের চূড়ান্ত কারণ কী?"


যমরাজ উত্তর দেন যে দুঃখের মূল কারণ হচ্ছে আসক্তি।


নচিকেতা তখন প্রশ্ন করেন: "সুখের চূড়ান্ত কারণ কী?" যমরাজ উত্তর দেন যে সুখের চূড়ান্ত কারণ বিচ্ছিন্নতা।


নচিকেতা অনুরোধ করলেন যম যেন তাকে নরক সম্পর্কে জ্ঞান দান করেন এবং যম বাধ্য হন। 

নচিকেতা দেখলেন, পরকালের নরক এক নিঃসঙ্গ ও অন্ধকারময় জায়গা। অনেকগুলো খড়ের গাঁটের মতো লাশগুলো স্তূপ হয়ে আছে। যম নচিকেতাকে জানালেন যে এরা পাপী ব্যক্তি। তারা বর্তমানে তাদের অতীতের সীমা লঙ্ঘনের খেসারত দিচ্ছে। নচিকেতা দেখলেন যে মৃতদের মধ্যে কিছু কুকুর এবং অন্যদের শকুন খেয়ে ফেলছে। যম বললেন, যে সকল ব্যক্তিরা খারাপ কাজ করেছে তাদের এই অত্যাচার সহ্য করতে হবে। তবে নচিকেতা ভয় পাননি। তিনি পরকাল সম্পর্কে সত্য জানতে চেয়েছিলেন। 

যম নচিকেতাকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি সবচেয়ে বেশি কী জানতে চান। নচিকেতা বলেছিলেন যে তিনি ব্রহ্মার প্রকৃতি বুঝতে চান যিনি চিরস্থায়ী এবং সীমাহীন দেবতা। যিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং শাসন করছেন।


 

নচিকেতা যমপুরী থেকে জীবিত জগতে ফিরে আসার পর এই অভিজ্ঞতাগুলি তার পরমপূজনীয় ভগবানতুল্য বাবার সাথে শেয়ার করেন। 

==========================


নচিকেতার এই গল্পটি থেকে আমরা জানতে পারি যে জ্ঞান অন্বেষণ অন্তর্দৃষ্টিকে প্রসার করে এবং ব্যাক্তিকে স্থিত-প্রাজ্ঞতার দিকে নিয়ে যায়। উপনিষদ অনুসারে, অস্তিত্বের উদ্দেশ্য হল মোক্ষ, বা পুনর্জন্মের চক্র থেকে অব্যাহতি। এটি সম্ভব হয়েছিল কারণ নচিকেতার নানা অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও জ্ঞান অর্জনের প্রবল ইচ্ছা ছিল। তিনি ঋষিদের শিক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং বোঝার সন্ধান করতে আগ্রহী ছিলেন বরাবর। 


এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় শিক্ষা কারণ আমরা কেবল অনুসন্ধান এবং তদন্তের মাধ্যমেই আমাদের চারপাশের বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান পেতে পারি। 


নচিকেতার আখ্যানের কেন্দ্রীয় দর্শন হল বেঁচে থাকা অবস্থায়ই মুক্তি পাওয়া যায়। 

মুক্তি কেবল মৃত্যুর পরেই সম্ভব এ ধারনাটি ভ্রান্ত। 


নচিকেতা মুক্তি পেতে সক্ষম হয়েছিলেন কারণ জীবদ্দশায়ই, তিনি বিশ্ব-প্রকৃতি সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি করেছিলেন । পরিবর্তন এই জীবনে একমাত্র ধ্রুবক; যম নচিকেতাকে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠের মাধ্যেমে এ সত্যকেই উপদ্ধি করতে শিখিয়েছিলেন। মানুষ, সম্পর্ক, বস্তুগত জিনিসপত্র এবং এমনকি আমাদের দেহ সহ অন্য সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী। এই ধারণাটি নচিকেতাকে প্রভাবিত করেছিল, যে এই জগৎ সংসারে কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়, সবই ক্ষনস্থায়ি। এই নীতির উপর ভিত্তি করেই নচিকেতা তার জীবন কাটানোর সংকল্প করেছিলেন। যম তাকে উপদেশ দিয়েছিলেন যে অনন্ত জীবনের রহস্য হল পৃথিবী এবং এর সমস্ত বৈষয়িক চাওয়া-পাওয়া ত্যাগ করা। মৃত্যুরাজ যম নচিকেতাকে অনন্ত জীবনের রহস্য শিখিয়েছিলেন। ঋষি বলেছিলেন যে শাশ্বত জীবনের রহস্য হল জগৎ এবং এর সমস্ত সংযুক্তি ত্যাগ করা। 


যম নচিকেতাকে জ্ঞান দিয়ছিলেন যে একজন মহান ব্যক্তি হতে হলে তাকে তার যা কিছু আছে তা ত্যাগ করতে হবে।


নচিকেতার গল্পের মূল বার্তা হল যে শিখতে এবং জীবন বিকাশে সব সময়ই উপযুক্ত। দেরী বলে কিছু নেই। 


এমনকি যখন নানাবিধ বাধার সম্মুখীন হয় জীবন, তখনও  এটা বুঝতে হবে যে সবসময় বেড়ে ওঠার এবং শেখার একটা উপায় থাকে যদি আগ্রহটা প্রবল হয়। তরুণদের শিখতে এবং জীবনকে বিকাশ করতে আগ্রহী হতে হবে। 


আমরা আমাদের চারপাশের বিশ্ব অনুসন্ধান করতে এবং যতটা সম্ভব শিখতে চাওয়ার দৃঢ়চেতা মনোভাব জাগিয়ে তুলতে হবে। যদিও আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই মনোভাব প্রায়ই কমে যায় এবং অনেকেই ভাবতে শুরু করেন যে আমরা ইতিমধ্যে যা জেনেছি বেঁচে থাকার জন্য তা যথেষ্ট এবং নতুন তথ্য খোঁজা বন্ধ করে দেই। 


নচিকেতা খুবই বুদ্ধিদ্বীপ্ত, জ্ঞানপিপাসু, সত্য সন্ধানী বালক ছিলেন। তিনি বিশ্বপ্রকৃতির অন্তর্নিহিত প্রকৃতি বুঝতেন। নচিকেতার গল্প আমাদেরকে বিশ্বের অনুসন্ধানে সাহসী হওয়া এবং বিশ্বকে যেমন আছে তেমনটি উপলব্ধি করতে শেখায়। জীবনকে প্রাজ্ঞতায় পরিপূর্ন করতে সব অজানকে জানতে হলে প্রশ্ন করা অপরিহার্য এবং এই প্রশ্ন করার মাধ্যমই আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। 


নচিকেতা কখনো মনে করেন না

যে তিনি সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী। তিনি ক্রমাগত নতুন তথ্যের সন্ধানে আগ্রহী ছিলেন এবং তাই যে কোন বিষয়কে চ্যালেঞ্জ করতে দ্বিধাবোধ করতেন না। 


পরস্পরবিরোধী তথ্যের মুখোমুখি হলে তিনি তার বিশ্বাসকে সামঞ্জস্য করতেও প্রস্তুত থাকতেন। এটি তাকে মুক্ত মনের একজন ব্যক্তি করে তোলে যিনি সর্বদা বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিকভাবে জীবন বিকাশে আগ্রহী ছিলেন । 


এছাড়াও নচিকেতা তার উদ্বেগের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন সবসময়ই। 


নচিকেতার দর্শনের প্রাথমিক নীতি হলো কখনোই হাল ছেড়ে দেওয়া নয়, এমনকি পরিস্থিতি কঠিন হলেও। কৌতূহলী থাকা এবং যতটা সম্ভব জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। মৃত্যু শেষ নয় বরং একটি নতুন অস্তিত্বের সূচনা। যখন আমরা জীবনের অস্থিরতাকে চিনতে পারি, তখন আমরা এটিকে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উপলব্ধি করতে পারি।

=========================


 


Thursday, March 7, 2024

40>রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষগণ প্রেসিডেন্ট মহারাজ বেলুড় মঠ

 

40>রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষগণ
প্রেসিডেন্ট মহারাজ বেলুড় মঠ

★★স্বামী বিবেকানন্দ  (1863--1902)
  জন্ম 12 জানুয়ারি1863------
   তিরোধান 4 জুলাই 1902)
【সাধারণ অধ্যক্ষ::--(1897--1902)
======================


রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের 16জন প্রেসিডেন্ট মহারাজদের নামের সুন্দর তালিকা শ্লোক।


ব্রহ্ম শিব অখণ্ডায়

বিজ্ঞান শুদ্ধ বিরজায়

শঙ্কর বিশুদ্ধ মাধবে

বীরে গম্ভীরে ভূতে

রঙ্গনা গহনা আত্মস্থ 

ষোলোয় স্মরনা প্রকৃতিস্থ।

 " জয়তু শ্রী রামকৃষ্ণ"


★1>স্বামী ব্রহ্মানন্দ (1863--1922)
(was 1st President (1901--1922)】

★2>স্বামী শিবানন্দ  (1854--1934)
মহাপুরুষ মহারাজভ
(was  2nd President  (1922--1934)

★3>স্বামী অখণ্ডানন্দ (1864--1937)
Swami Akhadananda::-
জন্ম: 30 সেপ্টেম্বর  1864 -
তিরোধান :-7 ফেব্রুয়ারি, 1937
【তৃতীয় অধ্যক্ষ::(1934--1937)】

★4>স্বামী বিজ্ঞানানন্দ (1868--1938)
Swami Bijnananada:--
জন্ম::--30 অক্টোবর 1868--
তিরোধান:--25 এপ্রিল 1938
【চতুর্থ অধ্যক্ষ::------রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের----------1937--1938】

★5>স্বামী শুদ্ধানন্দ মহারাজ(1872---1938

জন্ম::--8 অক্টোবর 1872কলকাতা , বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি , ব্রিটিশ ভারত

তিরোধান::--23 অক্টোবর 1938 

(66 বছর বয়সী) বেলুড় মাঠে , 

【পঞ্চম প্রেসিডেন্ট রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের

5th প্রেসিডেন্ট (1938---1938)】


★6>স্বামী বিরজানন্দ ((1873--1951) --
জন্ম::--10 জুন 1873 -
তিরোধান::--30 মে 1951,
【ষষ্ঠ সভাপতি=1938--1951)】

★7>স্বামী শঙ্করানন্দ (1880-1962)
জন্ম::--10 মার্চ 1880-
তিরোধান:--13 জানুয়ারী 1962 শনিবার
【সপ্তম প্রেসিডেন্ট (1951-1962)】

★8>স্বামী বিশুদ্ধানন্দ:;-(1882 - 1962)
জন্ম ::--1882 সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
তিরোধান::--16 জুন 1962 তারিখে,

【রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অষ্টম সভাপতি 

6th March 1962 to 16th June 1962

  (1962--1962)】

★9>স্বামী মাধবানন্দ (1888--1965  )
জন্ম::-- 15 ডিসেম্বর1888 সালের
তিরোধান::--6 অক্টোবর 1965
【নবম  প্রেসিডেন্ট (1962--1965)】

★10>স্বামী বীরেশ্বরানন্দ (1892--1985)
আমার বাবা,মা,দাদা,দিদির গুরুদেব।
জন্ম::--31 অক্টোবর 1892
তিরোধান::--13মার্চ  1985 (বয়স 92)
【10th প্রেসিডেন্ট (1966-1985)】

★11>স্বামী গম্ভীরানন্দ::(1899-- 1988)
      আমার ও সবিতার গুরুদেব।
জন্ম:  1899 -
তিরোধান: :--27-ডিসেম্বর 1988 বেলুড়মঠ
【Was Presidence (1985–1988)】

★12>স্বামী ভূতেশানন্দ:-(1901--1998)
জন্ম::--8 সেপ্টেম্বর 1901 সালে জন্মগ্রহণ করেন।
তিরোধান::--তিনি 10 আগস্ট 1998 সালে 97 বছর বয়সে।
【দ্বাদশ প্রেসিডেন্ট:--(1989--1998 )】

★13>স্বামী রঙ্গনাথানন্দ (1908--2005)
Swami Ranganathananda;
জন্ম::--15 ডিসেম্বর 1908
তিরোধান::--25 এপ্রিল 2005 (বয়স 96)
【ত্রয়োদশ অধ্যক্ষ বরামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের । ( 1998- 2005)】

★14>স্বামী গহনানন্দ::-- (1916--2007)
(অক্টোবর 1916 --- 4 নভেম্বর  2007=91 বৎসর।)
【রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের চতুর্দশ অধ্যক্ষ।(2005--2007),】

★15>স্বামী আত্মস্থানন্দ (1919 - 2017)
জন্ম::--তিনি 1919 সালের মে মাসে।
মহাসমাধি::-- 18 জুন 2017 তারিখে
【রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের 15 তম সভাপতি (2007--2017)】

★16>ষোড়শ অধ্যক্ষ স্বামী স্মরণানন্দ::----
           (1929---2024)
জন্ম:;--1929 সালে------
ভারতের তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর জেলার আন্দামি গ্রামে  তামিল হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ।

【স্বামী স্মরণানন্দ 17 জুলাই 2017-রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের 16 তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন  -2017---to--26/03/2024 】

★17>সপ্তদশ অধ্যক্ষ:---স্বামী গৌতমানন্দ মহারাজ।

=========================
★★★★★★★★★★★★★★★★
=========================

★★স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৯৭–১৯০২)
  জন্ম 12 জানুয়ারি1863------

   তিরধান 4 জুলাই 1902)
【সাধারণ অধ্যক্ষ::--(1897–1902)】
১৯০১ সালের পর ‘সাধারণ অধ্যক্ষ’ শব্দবন্ধটি পরিত্যক্ত হয় এবং ‘অধ্যক্ষ’ শব্দটি গৃহীত হয়।
★★★★★★★★★★★★★★★★
=========================

★1>স্বামী ব্রহ্মানন্দ (1863----1922)

জন্ম 21January1863---
তিরধান 10th April 1922)
【was 1st President (1901-1922)】

★★★★★★★★★★★★★★★★ =============================      

★2>স্বামী শিবানন্দ (1854---1934)
জন্ম 16 ডিসেম্বর 1854 ------
তিরোধান 20 ফেব্রুয়ারি 1934)
মহাপুরুষ মহারাজ
【was  2nd President(1822-1934)】

বেলুড় মাঠের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনাকরেন।
★★★★★★★★★★★★★★★★
==========================
★3>স্বামী অখণ্ডানন্দ (1864-1937)
Swami Akhadananda::-
জন্ম: 30 সেপ্টেম্বর  1864 -
তিরোধান :-7 ফেব্রুয়ারি, 1937
【তৃতীয় অধ্যক্ষ::--রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন-এর তৃতীয় অধ্যক্ষ ও মিশনের সেবা কার্যের প্রধান উদ্যোক্তা। (1934---1937)】
★★★★★★★★★★★★★★★★
================≈=========

★4>স্বামী বিজ্ঞানানন্দ (1868-1938)
Swami Bijnananada:--
জন্ম::--৩০ অক্টোবর 1868--
তিরোধান:--25 এপ্রিল 1938
【চতুর্থ অধ্যক্ষ::--রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের (1937-1938)】

পিতৃদত্ত নাম হরিপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়। পিতার কর্মস্থল উত্তর প্রদেশের এটোয়া শহরে জন্ম। স্নাতক হয়ে পুণে থেকে পূর্তবিদ্যা শিক্ষা লাভ করেন।
★★★★★★★★★★★★★★★★
=========================

★5>স্বামী শুদ্ধানন্দ (1872----1938)
জন্ম:-1872--- তিরধান:-1938
【পঞ্চম প্রেসিডেন্ট রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের পঞ্চম সভাপতি
5th প্রেসিডেন্ট (1943---1938)】

স্বামী শুদ্ধানন্দ মহারাজ (1872---1938)

জন্ম::--8 অক্টোবর 1872

কলকাতা , বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি , ব্রিটিশ ভারত

তিরোধান::--23 অক্টোবর 1938  

             (66 বছর বয়সী)

বেলুড় মাঠে , 


【পঞ্চম প্রেসিডেন্ট

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের

5th প্রেসিডেন্ট (1938---1938)】

তিনি 1938 সালের মে থেকে 1938 সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

তিনি 1938 সালে, সভাপতি হন।তাঁর কার্যকাল সংক্ষিপ্ত ছিল, কারণ তিনি 1938 সালে মারা যান।

স্বামী শুদ্ধানন্দ মহারাজ যিনি রামকৃষ্ণ আদেশের পঞ্চম সভাপতি ছিলেন , তিনি ছিলেন বিবেকানন্দের সরাসরি সন্ন্যাসী শিষ্য । 

 তিনি বিবেকানন্দের বেশিরভাগ মৌলিক রচনা ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করার জন্য সাহিত্যিক মহলে বিখ্যাত।  

 প্রাক সন্ন্যাসীর নাম ছিল::--সুধীর চন্দ্র চক্রবর্তী

জন্ম;;--8 অক্টোবর 1872

কলকাতা , বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি , ব্রিটিশ ভারত

তিরোধান::--23 অক্টোবর 1938  

             (66 বছর বয়সী)

বেলুড় মাঠে , 

গুরু::--বিবেকানন্দ


শুদ্ধানন্দের প্রাক সন্ন্যাসীর নাম ছিল সুধীর চন্দ্র চক্রবর্তী।

পিতা:--আশুতোষ চক্রবর্তী।

সুধীর চন্দ্র  1872 সালে কলকাতার সার্পেন্টাইন লেনে আশুতোষ চক্রবর্তীর পুত্র হিসাবে জন্মগ্রহণ করেন। 

1897 সালে রামকৃষ্ণ মিশনের আলমবাজার মঠে যোগদানের আগে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটি কলেজে অধ্যয়ন করেন । 

সেই সময় আর যারা বিবেকানন্দের শিষ্য ছিলেন। তারা হলেন খগেন বা বিমলানন্দ , কালীকৃষ্ণ বা বীরজানন্দ , হরিপদ বা স্বামী বোধনন্দ পুরী এবং গোবিন্দ (শুকুল) বা স্বামী আত্মানন্দ পুরী । 

সুধীর চন্দ্র তিনি তার বেশিরভাগ সময় আধ্যাত্মিক সাধনায় এবং তার বন্ধুদের সাথে ধর্মীয় বই পড়া ও আলোচনা করতেন। তারা একটি বিতর্ক ক্লাবও গঠন করে।   এই পর্যায়ে সুধীর যোগ অনুশীলনে আগ্রহী ছিলেন এবং শ্যামাচরণ লাহিড়ী বা লাহিড়ী মহাশয়ের শিষ্য পঞ্চানন ভট্টাচার্য বা আর্য মিশনের কাছ থেকে তা শিখেছিলেন ।

1890 সালে, তিনি বরানগর মঠ এবং কাঁকুড়গাছি যোগদানে রামকৃষ্ণের ভক্তদের সংস্পর্শে আসেন । যোগানন্দ ছিলেন দলের আধ্যাত্মিক পরামর্শদাতা।   অদ্বৈতানন্দ তাকে শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষার একটি অনুলিপি প্রদান করেন , একটি ছোট বই সুরেশচন্দ্র দত্ত দ্বারা সংকলিত , যা রামকৃষ্ণের একজন গৃহস্থ ভক্ত।

সুধীর, ভারতে তার সময়ের অন্যান্য যুবকদের মতো, বিশ্ব ধর্ম পার্লামেন্ট , 1893 এবং পশ্চিমের অন্য কোথাও বিবেকানন্দের আলোড়নকারী বক্তৃতা দ্বারা ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় মিরর পত্রিকায় প্রকাশিত বক্তৃতাগুলি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেন এবং বিবেকানন্দের আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হন। 

 সুধীরও ​​শিয়ালদহ স্টেশনে গিয়েছিলেন বিবেকানন্দের সাথে দেখা করতে যেদিন তিনি কলকাতায় পা রাখেন এবং পশুপতি বসুর বাড়িতে তাঁর সাথে দেখা করতে যান, তাঁর বন্ধু খগেন (পরে বিমলানন্দ ) সাথে ছিলেন। তিনি প্রায়শই গোপাল লাল সিলের বাড়িতে যেতেন যেখানে স্বামীজিকে রাখা হয়েছিল, তাঁর কথোপকথন শোনার জন্য।  বাগানবাড়ির একটি কক্ষে তিনি প্রথমবার বিবেকানন্দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। একবার একটি সভায়, সুধীর কথোপনিষদ থেকে পাঠ করলেন এবং বিবেকানন্দ সমবেত জনতার কাছে শ্লোকগুলির ব্যাখ্যা করলেন।  

1897 সালের এপ্রিল মাসে সুধীর আলমবাজার মঠে যোগ দেন। বিবেকানন্দ সুধীরকে আদর করে খোকা (ছোট ছেলে) বলে ডাকতেন। 1897 সালের মে মাসে সুধীরকে বিবেকানন্দ সন্ন্যাস ব্রত (সন্ন্যাস) দ্বারা দীক্ষিত করেছিলেন এবং তাকে শুদ্ধানন্দ (শুদ্ধ: বিশুদ্ধ) নামে নামকরণ করা হয়েছিল। তাঁর ভাই ছিলেন প্রকাশানন্দ (যাকে সুশীল মহারাজ বলা হয়), যিনি একজন সন্ন্যাসী হিসেবে রামকৃষ্ণ আদেশেরও সেবা করেছিলেন এবং তিনি বিবেকানন্দের সরাসরি শিষ্যও ছিলেন।   1897 সালের এপ্রিল মাসে বিবেকানন্দ যখন ভবিষ্যত সন্ন্যাসীর আদেশের জন্য নির্দেশিকা তৈরি করছিলেন তখন শুধুমাত্র শুদ্ধানন্দ স্বেচ্ছায় তাঁর আদেশ গ্রহণ করেছিলেন। তাকে সব নিয়ম ইতিবাচক আকারে রাখতে বলা হয়েছিল।  এক অনুষ্ঠানে তাকে সমবেত জনতার সামনে ইংরেজিতে Atman এর উপর একটি বক্তৃতা দিতে বলা হয়েছিল ।  স্বামী বিবেকানন্দ নিজেই স্বামী শুদ্ধানন্দকে তাঁর রাজ যোগ বাংলায় অনুবাদ করতে বলেছিলেন। পরে তিনি কর্ম যোগ , জ্ঞান যোগ এবং ভক্তি যোগ সহ স্বামী বিবেকানন্দের আরও অনেক কাজ অনুবাদ করেন ।   তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে গীতার উপর বিবেকানন্দের বক্তৃতাও ধারণ করেন এবং বাংলায় গীতাতত্ত্ব রচনা করেন। বিবেকানন্দের নির্দেশ অনুসরণ করে, তিনি ব্রহ্ম সূত্রের উপর একটি স্বাধীন ভাষ্য লিখেছেন বলে জানা যায় ।   বিবেকানন্দ শুদ্ধানন্দকে গণিতের একটি ডায়েরি বজায় রাখতে এবং এর কার্যক্রমের সাপ্তাহিক প্রতিবেদন তৈরি করতে বলেছিলেন। তাঁর ডায়েরিটি রামকৃষ্ণ আদেশের স্থির বিকাশের একটি ঐতিহাসিক বিবরণ। তিনি তার প্রভুর অনেক ব্যক্তিগত চিঠিও লিখেছেন। 

এটি থেকে মঠে বিবেকানন্দের জীবন সম্পর্কিত অনেক ঘটনাও জানা যায়। 1897 সালের 6 মে, শুদ্ধানন্দ উত্তর ও পশ্চিম ভারতে তাঁর বক্তৃতা সফরে বিবেকানন্দের সাথে যান। এই সফরে তিনি ছয় মাস তাঁর প্রভুর সাথে ছিলেন। এই ঘনিষ্ঠ সংঘটি শুদ্ধানন্দকে রামকৃষ্ণ আদেশের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ, ধর্মগ্রন্থের সারমর্ম এবং সমাজের মুখোমুখি হওয়া সমস্যাগুলি সম্পর্কে তাঁর ধারণাগুলির সাথে পরিচিত করেছিল। 

সন্ন্যাসী ব্রত নেওয়ার আগে শুদ্ধানন্দ আলমোড়ায় রামকৃষ্ণের সরাসরি সন্ন্যাসী শিষ্য স্বামী নিরঞ্জনানন্দ পুরীর অধীনে আধ্যাত্মিক অনুশাসন অনুশীলন করতে বহু দিন কাটিয়েছিলেন । 1898 সালের সেপ্টেম্বরে তারা বারাণসীতে আসেন এবং বংশী দত্তের বাগানবাড়িতে থাকেন। 

  শুদ্ধানন্দ একাধিকবার উল্লেখ করেছেন যে নিরঞ্জনানন্দের প্রভাব তাঁর আধ্যাত্মিক উন্নতিতে ব্যাপক অবদান রেখেছিল। 

  রামকৃষ্ণানন্দের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল । পরে, বিবেকানন্দের নির্দেশে, শুদ্ধানন্দ ত্রিগুণাতিতানন্দের সহকারী হিসেবে কাজ করেন , যিনি রামকৃষ্ণ অর্ডারের বাংলা পত্রিকা উদ্বোধনের সম্পাদক ছিলেন। 

বারাণসীতে থাকার সময়, শুদ্ধানন্দ ভাস্করানন্দের সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন , যিনি বারাণসীর একজন সাধু হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন। ভাস্করানন্দ তাকে বিবেকানন্দের সাথে দেখা করতে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। 

আধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং নিঃস্বার্থ সেবা তার সন্ন্যাস জীবনের মেরুদণ্ড তৈরি করেছিল। 

তিনি তার ব্যস্ত সময়সূচী সত্ত্বেও সন্ন্যাসীদের জন্য শাস্ত্রীয় ক্লাস পরিচালনা করতেন। তিনি বেলুড় মঠে একটি স্টাডি সার্কেল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যাতে ভাই সন্ন্যাসীরা ধর্মগ্রন্থের সারমর্ম শিখতে সক্ষম হয়। তিনি সর্বদা কনিষ্ঠ সন্ন্যাসীদের সাথে অবাধে মিশতেন এবং তাদের ভাই বলে সম্বোধন করতেন সিনিয়র ভিক্ষুরা তাকে ধর্মগ্রন্থের "রেফারেন্স বই" হিসাবে ডাকতেন। 

 তিনি তার জন্য কোন বিশেষ ব্যবস্থা করা পছন্দ করেননি এবং কর্তৃপক্ষকে তার জীবনের শেষ দিকে এটি করা থেকে বিরত রাখেন।

★★"মিশনের প্রতিটি কাজের পিছনে উদ্দেশ্য হল শ্রী রামকৃষ্ণের মহিমা প্রকাশ করা। আমাদের কাজ দেখে লোকেদের আমাদের প্রতি নয় বরং শ্রী রামকৃষ্ণ ও স্বামীজির প্রতি আকৃষ্ট হওয়া উচিত। তাদের মহিমা প্রকাশ করাই আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য, রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্দেশ্য।"

"তিনি (সারদা দেবী) প্রকৃতপক্ষে শব্দের প্রতিটি অর্থেই একজন মা, মহাবিশ্বের মা। এমন সহনশীলতা, এমন মহত্ত্ব এবং এমন আধ্যাত্মিক শক্তি শুধুমাত্র বিশ্বজননীর মধ্যেই একত্রিত হতে পারে। তাঁর মমতার শেষ ছিল না। এবং তার ভালবাসা কোন বৈষম্য জানত না।" 

"একজন মানুষের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তার পরিবেশের মধ্যকার লড়াইকে আধ্যাত্মিক অনুশীলন দ্বারা বোঝানো হয়। তাই আধ্যাত্মিক জীবনে অগ্রগতির জন্য দুটি স্বতন্ত্র কোর্স রয়েছে। একটি হল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে নিজেকে ছিঁড়ে ফেলা এবং একটি আরও সহনশীল একটি সন্ধান করা, যখন দ্বিতীয়টি একই পরিবেশে থাকা এবং তাদের বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ চালিয়ে নিজের সহজাত প্রবণতাগুলিকে অতিক্রম করার চেষ্টা করা এবং এর ফলে আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী হওয়া"। 

স্বামী শুদ্ধানন্দ বেলুড় মঠের প্রথম ছাত্রদের বোর্ডিং হাউসের দায়িত্বে ছিলেন

1902 সালে ত্রিগুণাতিতা আমেরিকায় চলে গেলে, সারদানন্দ এবং ব্রহ্মানন্দ দ্বারা শুদ্ধানন্দকে উদ্বোধনের সম্পাদনা নিতে বলা হয়েছিল । পরবর্তী দশ বছর শুদ্ধানন্দ উদ্বোধনের কাজ পরিচালনা করেন। তিনি বাংলায় বিবেকানন্দের বক্তৃতা ও লেখা অনুবাদ ও প্রকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন। তাঁর নতুন ভূমিকার অধীনে উদ্বোধন পত্রিকাটি সারদানন্দের শ্রী রামকৃষ্ণ, দ্য গ্রেট মাস্টার বা শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ লীলা প্রসঙ্গ এবং মহেন্দ্রনাথ গুপ্তের শ্রী রামকৃষ্ণের গসপেল বা শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃতের বাংলা সংস্করণের মতো অনেক অগ্রগামী লেখা পেয়েছে । 

1903 সালে শুদ্ধানন্দ বেলুড় মঠের অন্যতম ট্রাস্টি নিযুক্ত হন। তার স্বাভাবিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি, তিনি যুবকদের মধ্যে তার গুরুর আদর্শ সঞ্চারিত ও প্রসারিত করতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি ধারণা ও আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কলকাতায় একটি বিবেকানন্দ সোসাইটি স্থাপনের প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং এই কাজে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখবেন।   তিনি স্টাডি সার্কেল সংগঠিত করেন এবং যুবকদের মধ্যে বেদান্ত নিয়ে আলোচনায় যোগ দেন। তিনি তার ভাই শিষ্য স্বামী বিরজানন্দকে স্বামী বিবেকানন্দের সম্পূর্ণ রচনা প্রকাশ করতে উৎসাহিত করেছিলেন । বেলুড় মঠে রামকৃষ্ণ ভাব ধারায় মঠ ও মিশনের ঐতিহাসিক প্রথম সন্ন্যাসী সম্মেলনের পরিকল্পনা ও আয়োজনের জন্যও শুদ্ধানন্দ দায়ী ছিলেন । সম্মেলনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বামী শুদ্ধানন্দের সীমাহীন উদ্দীপনা ও নিরন্তর শ্রমের মাধ্যমেই এই সম্মেলন বাস্তবায়িত হয়েছিল।

1936 সালে রামকৃষ্ণের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন হয় ।

 শুদ্ধানন্দকে উদযাপন কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়েছিল। 

শতবার্ষিকী উদযাপনে কলকাতার একটি ধর্ম সংসদ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সভাপতিত্ব করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । 

1937 সালের ফেব্রুয়ারিতে শুদ্ধানন্দ রামকৃষ্ণ ভাবধারায় মঠ ও মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। 

1938 সালের মে মাসে, তিনি বিজ্ঞানানন্দের তিরোধনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন । 

তিনি ছিলেন মঠ ও মিশনের পঞ্চম সভাপতি। তিনি 1938 সালের অক্টোবরে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

 তিনি অরূপানন্দকে সারদা দেবী  "পবিত্র মা"  সম্পর্কে তাঁর স্মৃতিকথা লিখতে উত্সাহিত করেছিলেন এবং বইটি সংকলন ও সম্পাদনায় তাঁর সাথে কাজ করেছিলেন। 

★★★★★★★★★★★★★★★★
=========================

★6>স্বামী বিরজানন্দ (1873--1951)
জন্ম::--10 জুন 1873 -
তিরোধান::--30 মে 1951,
ছিলেন সারদা দেবীর একজন দীক্ষিত শিষ্য এবং রামকৃষ্ণ আদেশের

【ষষ্ঠ সভাপতি( 1938--1951)】

পিতা::--ত্রৈলোক্যনাথ বসু এবং মাতা::--নিষাদকালীদেবী

বীরজানন্দই প্রথম ব্যক্তি যিনি রামকৃষ্ণের প্রত্যক্ষ শিষ্যদের পরে রামকৃষ্ণ আদেশে যোগদান করেন । 1897 সালে, তিনি বিবেকানন্দের দ্বারা সন্ন্যাসে দীক্ষিত হন । 1899 সাল থেকে তিনি মায়াবতীর অদ্বৈত আশ্রমে কাজ করেন এবং 1906 সালে এর সভাপতি হন। তিনি বিবেকানন্দের সন্ন্যাসী শিষ্য হিসাবে স্বীকৃত।
★★★★★★★★★★★★★★★★
=========================

★7>স্বামী শঙ্করানন্দ (1880-1962)
জন্ম::--10 মার্চ 1880-
তিরোধান:--13 জানুয়ারী 1962 শনিবার
【সপ্তম প্রেসিডেন্ট রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের 7 তম সভাপতি(1951-1962)】
1880 সালের 10 মার্চ শিবরাত্রির পবিত্র দিনে হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল চব্বিশ পরগনার বামুনমুড়ায়।

স্বামী শঙ্করানন্দ তার প্রাক-মৈত্রিক জীবনে  নাম ছিল অমূল্য তথা অমৃতা লাল সেনগুপ্ত ।

【সপ্তম প্রেসিডেন্ট রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের 7 তম সভাপতি(1951-1962)】

তিনি সংগঠনের বহুবিধ কর্মকাণ্ডের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং অনেক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন

তিনি বিল্ডিং নির্মাণ সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রাখেন এবং ব্যক্তিগতভাবে বেলুড়ে ভুবনেশ্বর মঠ এবং স্বামী ব্রহ্মানন্দ মন্দির নির্মাণের তত্ত্বাবধান করেন। তিনি স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্রী রামকৃষ্ণের অন্যান্য শিষ্যদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিঠি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে সকলের কৃতজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। তিনি পুরাণ সাহিত্যে পারদর্শী ছিলেন এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলনের নির্দিষ্ট পয়েন্টে শ্লোক উদ্ধৃত করতে পারতেন।

মহাসমাধি::---

স্বামী শঙ্করানন্দ প্রায় 82 বছর বয়সে 13 জানুয়ারী 1962 শনিবার ভোরবেলা (3.10 am) বেলুড় মঠে মহাসমাধিতে পাড়ি জমান।

তার কোনো নির্দিষ্ট অসুখ না থাকলেও বার্ধক্যজনিত কারণে গত দুই-তিন বছর ধরে তিনি সাধারণ দুর্বলতায় ভুগছিলেন।
★★★★★★★★★★★★★★★★
=========================
★8>স্বামী বিশুদ্ধানন্দ:;-(1882 - 1962)
জন্ম ::--স্বামী বিশুদ্ধানন্দ  1882 সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
তিরোধান::--16 জুন 1962 তারিখে,

【রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অষ্টম সভাপতি

6 মার্চ 1962 থেকে 16 জুন 1962 

  (1962--1962)】

তিনি রাঁচির রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের প্রধানও ছিলেন।
মহাসমাধি::--
স্বামী বিশুদ্ধানন্দ 16 জুন 1962 তারিখে, 9:07 টায়, 13 জুন প্রোস্টেটের অপারেশনের পর মহাসমাধি লাভ করেন।
★★★★★★★★★★★★★★★★
==========================
★9>স্বামী মাধবানন্দ (1888--1965  )
জন্ম::-- 15 ডিসেম্বর1888 সালের
তিরোধান::--6 অক্টোবর 1965

【নবম  প্রেসিডেন্ট ::-স্বামী মাধবানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের নবম প্রেসিডেন্ট। (1962--1965)】

জন্ম::--তিনি  1888 সালের 15 ডিসেম্বর শনিবার পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বাগানচড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার সন্ন্যাসী হওয়ার পূর্বে নাম ছিল নির্মল চন্দ্র বসু। তার পিতা হরিপ্রসাদ বসু। 

তিরোধান::--
1965 সালের 6 অক্টোবর বুধবার 76বছর 10 মাস বয়সে মহাসমাধি লাভ করেন।

1909 সালের মার্চ মাসে জয়রামবাটিতে পবিত্র মার কাছে তার দীক্ষা নেন।
1910 সালের জানুয়ারিতে তিনি চেন্নাইয়ের মঠে যোগ দেন।
1916 সালের জানুয়ারিতে তিনি ব্রহ্মানন্দের কাছে সন্ন্যাসে দীক্ষা নেন।

==========================
★10>স্বামী বীরেশ্বরানন্দ (1892--1985)
আমার বাবা,মা,দাদা,দিদির গুরুদেব।
জন্ম::--31 অক্টোবর 1892
গুরুপুরা, ম্যাঙ্গালোর, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে কর্ণাটক),ভারত।
তিরোধান::--13মার্চ  1985 (বয়স 92)
বেলুড় মঠ, পশ্চিমবঙ্গ ভারত

【10th প্রেসিডেন্ট (1966-1985)
রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের দশম সভাপতি】
পিতৃদত্ত নাম ছিল পান্ডুরং প্রভু। পরে তিনি প্রভু মহারাজ নামে পরিচিত হন।
গুরু::--- মা সারদা দেবী দীক্ষা দিয়েছিলেন

পাঁচ বছর বয়সে তাকে স্বামী বিবেকানন্দ আশীর্বাদ করেছিলেন। 

পান্ডুরং প্রভু মাদ্রাজের (বর্তমানে চেন্নাইয়ের) প্রেসিডেন্সি কলেজে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং আইনের স্নাতক হন।

  1916 খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে জয়রামবাটিতে সারদা মায়ের কাছে দীক্ষা নেন এবং  1920 খ্রিস্টাব্দের 12জানুয়ারি স্বামী ব্রহ্মানন্দের কাছে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। সন্ন্যাস নেওয়ার পর তিনি স্বামী বীরেশ্বরানন্দ নামে পরিচিত হন।
1966 খ্রিস্টাব্দের 22 ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষের পদে আসীন হন। স্বামী ব্রহ্মানন্দেরপর তিনিই দীর্ঘ ঊনিশ বৎসর সংঘাধ্যক্ষ ছিলেন।
শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবধারায়, অধ্যক্ষ হিসাবে স্বামী বীরেশ্বরানন্দ ভারতজুড়ে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।
===========================
★11>স্বামী গম্ভীরানন্দ::(1899-- 1988)
      আমার ও সবিতার গুরুদেব।
      গুরু মহারাজ :---BELURMATH:--
       Swami Gambhirananda
       Was Presidence (1985–1988)

         TIRODHAN:--27/12/1988
          At 7:20pm Belur math
    Last Darhana on dt 28/Dec1988
আমাদের দীক্ষা:--10 th October 1984
       At Cossipur Uddanbati
       On dt 10th October 1984
       Our Disha No;--
       Cossipur::-GG 99981000
       Belurmoth:--093892

Swami Gambhirananda::-(1899--1988)
( জন্ম:  1899 - জন্ম স্থান::--সাধুহাটি, শ্রীহট্ট, বাংলাদেশ
তিরোধান: :--27-ডিসেম্বর 1988 বেলুড়মঠ।   
            (বয়স 88–89)
【11th প্রেসিডেন্ট রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের একাদশ অধ্যক্ষ। 】
গুরু স্বামী শিবানন্দ।

স্বামী গম্ভীরানন্দের জন্ম বর্তমানের বাংলাদেশের শ্রীহট্টের সাধুহাটিতে। কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়ার সময় তার সমসাময়িক ছিলেন সজনীকান্ত দাস ও গোপাল হালদার। 1923 খ্রিস্টাব্দে তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ সংঘে যোগ দেন। তার দীক্ষা, ব্রহ্মচর্য ও সন্ন্যাস সবই মহারাজ স্বামী শিবানন্দের কাছে।  1929--31 খ্রিস্টাব্দে তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে "উদ্বোধন" এ পাঠানো হয়। 1935  খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি প্রধানত দেওঘর বিদ্যাপীঠে ছিলেন।  1953 খ্রিস্টাব্দ হতে  1963 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ছিলেন অদ্বৈত আশ্রমের অধ্যক্ষ। ইংরাজী মাসিক পত্রিকা 'প্রবুদ্ধ ভারত' এর সম্পাদক হিসাবেও কাজ করেছেন। পরে 1966 খ্রিস্টাব্দে তিনি মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক,  1979 খ্রিস্টাব্দে সহকারী অধ্যক্ষ ও এপ্রিল 1985 খ্রিস্টাব্দে অধ্যক্ষপদে বৃত হন। তার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ গুলি হল-
'স্তব কুসুমাঞ্জলি'
'উপনিষদ গ্রন্থাবলী (৩ ভাগ)
'সিদ্ধান্তলেশ সংগ্রহ'
'শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তিমালিকা'
'কঃ পন্থা'
'এইট উপনিষদস্ : উইথ শঙ্করস্ কমেন্টরি'
'আপস্টলস্ অফ শ্রীরামকৃষ্ণ '
'হোলি মাদার শ্রীসারদা দেবী'
'হিস্ট্রি অফ দি রামকৃষ্ণ মঠ অ্যান্ড মিশন' ইত্যাদি ।
1988 খ্রিস্টাব্দে 27 শে ডিসেম্বর অধ্যক্ষপদে থাকাকালে প্রয়াত হন।
========================
★12>স্বামী ভূতেশানন্দ:-(1901--1998)
জন্ম::--পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার সোমসারে 8 সেপ্টেম্বর 1901 সালে জন্মগ্রহণ করেন।
তিরোধান::--তিনি 97 বছর বয়সে 10 আগস্ট 1998 সালে তাঁর স্বর্গীয় নিবাসের জন্য তাঁর নশ্বর দেহ ত্যাগ করেন।

【দ্বাদশ প্রেসিডেন্ট:--তিনি 24 জানুয়ারী 1989-এ রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ( 1989--1998 )】

স্বামী ভূতেশানন্দ মহারাজ ,::--

তাঁর প্রাক সন্ন্যাসীর নাম ছিল বিজয় চন্দ্র রায়।
তার পিতামাতা ছিলেন পূর্ণ চন্দ্র রায় এবং চারুবালা দেবী।
কলকাতায় ছাত্র থাকাকালীন, তিনি স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্য ব্রহ্মচারী জ্ঞান মহারাজের সাথে দেখা করেছিলেন। তাঁর নির্দেশনায়, তিনি অন্যান্য অল্পবয়সী ছেলেদের একটি দল নিয়ে ঘন ঘন বেলুড় মঠে যেতে শুরু করেন এবং শ্রীরামকৃষ্ণের অনেক প্রত্যক্ষ শিষ্যের সাথে দেখা করেন।
1921 সালে, স্বামী সারদানন্দ মন্ত্রদীক্ষা দিয়ে বিজয়ের দীক্ষা নেন। 1923 সালের 30 ডিসেম্বর স্বামী শিবানন্দ তাকে ব্রহ্মচর্যের ব্রত দিয়ে ভূষিত করেছিলেন এবং তাকে 'প্রিয়চৈতন্য' নাম দেওয়া হয়েছিল।
23 ফেব্রুয়ারি 1928 সালে, স্বামী শিবানন্দ তাকে সন্ন্যাসে দীক্ষা দেন।
যদিও স্বামী ভূতেশানন্দ একজন অসাধারণ পণ্ডিত ছিলেন এবং শাস্ত্রীয় বিষয়ে অক্লান্ত কথা বলতে পারতেন, তবুও তিনি একটি বই রচনা করেননি। যাইহোক, তার ক্লাসের বক্তৃতাগুলি প্রতিলিপি করা হয়েছিল এবং বই হিসাবে প্রকাশিত হয়েছিল যা গভীর চিন্তার স্পষ্ট প্রকাশের জন্য খুব জনপ্রিয়।
দীর্ঘ তেইশ বছর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অর্ডারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সিঙ্গাপুর, ফিজি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাসহ বহু দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ আন্দোলনের আদর্শ ও ধারণা অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
স্বামী ভূতেশানন্দ ছিলেন কঠোর অথচ হাসিখুশি প্রকৃতির। তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্য, সরলতা ও মানবতা তাঁকে অসাধারণ সন্ন্যাসীতে পরিণত করেছিল।
=========================

★13>স্বামী রঙ্গনাথানন্দ (1908--2005)
Swami Ranganathananda;
জন্ম::--15 ডিসেম্বর 1908 পিতৃদত্ত নাম
শঙ্করণ কুট্টি।
জন্ম স্থান::--ত্রিচুর, কেরালা, ব্রিটিশ ভারত।
তিরোধান::--25 এপ্রিল 2005 (বয়স 96)
বেলুড় মঠ।
গুরু::--স্বামী শিবানন্দ
【রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ত্রয়োদশ অধ্যক্ষ। ( 1998- 2005)】
শ্রী রামকৃষ্ণ, শ্রী সারদা দেবী এবং স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মানবতার সংহতিকারী হিসাবে যে অবদান তিনি ও  রামকৃষ্ণ মিশনের মাধ্যমে রেখেছেন, সেজন্য 1985 খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার জাতীয় সংহতির জন্য তাকে ও রামকৃষ্ণ মিশন উভয়কেই প্রথম ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে  ভূষিত  করে।
2008 খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় ডাক বিভাগ কর্তৃক ডাকটিকিট জারি করেন।

স্বামী রঙ্গনাথনন্দের পিতৃদত্ত নাম ছিল শঙ্করণকুট্টি। শঙ্করণ কুট্টির জন্ম কেরালার ত্রিচুর নিকটস্থ গ্রাম ত্রিক্কুরে। পিতার নাম নীলকান্ত শাস্ত্রী এবং মায়ের নাম ছিল লক্ষ্মীকুট্টি আম্মা।কিশোর বয়সে শঙ্করণ স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণের জীবনাদর্শে অনুপ্রাণিত হন ।

1939 খ্রিস্টাব্দ হতে  2942 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি রামকৃষ্ণ মিশনের রেঙ্গুন শাখাকেন্দ্রের সম্পাদক ও গ্রন্থাগারিক ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মায় জাপানের বোমা বর্ষণের কারণে রেঙ্গুন শাখা বন্ধ করে হাজার হাজার শরণার্থীদের সঙ্গে তিনি স্থলপথে ঢাকায় আসেন।
এরপর  1942 খ্রিস্টাব্দ হতে ভারত বিভাগের সময় পর্যন্ত তিনি করাচি শাখাকেন্দ্রের সভাপতি পদে ছিলেন।

তাঁর করাচিতে অবস্থান কালে লালকৃষ্ণ আডবাণী তাঁর মুখে ভাগবত গীতার ব্যাখ্যা শোনেন। আডবাণী উল্লেখ করেছেন - তাঁর শিক্ষালাভে আদর্শ প্রভাব তিনি রঙ্গনাথনন্দজীর কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। আডবাণী আরো বলেছেন যে, একসময় করাচিতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ইসলাম ও নবী মোহাম্মদ সম্পর্কে রঙ্গনাথনন্দজীর বক্তৃতা শোনেন এবং মন্তব্য করেন - "এখন আমি বুঝতে পারলাম প্রকৃত মুসলমান কেমন হবেন"।
রঙ্গনাথানন্দজী ভারতীয় আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির একজন জনপ্রিয় শিক্ষক ও প্রভাষক ছিলেন।  1950 এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ভারতে ব্যবহারিক বেদান্তের একমাত্র পণ্ডিত ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত হন।
স্বামী রঙ্গনাথানন্দ এক মহান সুপণ্ডিত ও শিক্ষক ছিলেন।
তিনি পঞ্চাশটিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তন্মধ্যে ভারতীয় বিদ্যা ভবন প্রায় ঊনত্রিশটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।

তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলিতে রয়েছে পরিবর্তনশীল সমাজের জন্য চিরন্তন মূল্যবোধের সন্ধান এবং ভগবদ্গীতা ও উপনিষদের মূল্যবান ভাষ্য ।

তিনি একজন ভালো বাগ্মীও ছিলেন। তার সাপ্তাহিক ক্লাস এবং ভক্তদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা  অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।

দ্য হিন্দু পত্রিকার সাংবাদিক গণপতি তার প্রতিবেদনে একবার উল্লেখ করেছেন যে- "স্বামী রঙ্গনাথানন্দ তাঁর সমস্ত বক্তৃতায় সবসময় ব্যবহারিক বেদান্ত তথা শাশ্বত ধর্মের দর্শনের উপর জোর দিতেন কেননা এটিই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা শেখায়"।

দিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে ক্যাডেটদের  নিয়মিত ভাষণ দিতেন।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভারতীয় মূল্যবোধ কীভাবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আগামী প্রজন্ম প্রয়োগ করবেন, কীভাবে নেতৃত্ব দেবেন তার বিস্তৃত রূপরেখা উপস্থাপন করতেন। দিল্লিতে, স্বামী রঙ্গনাথানন্দ হাসপাতালে সামাজিক পরিষেবার আয়োজন করেছিলেন এবং কুষ্ঠরোগীদের ত্রাণের জন্য কাজ করেছিলেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মনমোহন সিং স্বামী রঙ্গনাথানন্দ এবং বিবেকানন্দকে "আধুনিক মন এবং বৈজ্ঞানিক মেজাজের নেতা" হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

তার জীবন ও কাজ অনেক জীবনীতে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি মালয়ালম ভাষায় রয়েছে ডি. বিজয়মোহন ।

2000 খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মবিভূষণ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করলে তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন, কেননা এটি মিশনকে দেওয়া হয়নি, এটি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু এর আগে  1987 খ্রিস্টাব্দে 'ইন্দিরা গান্ধী অ্যাওয়ার্ড ফর ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন' তথা জাতীয় সংহতির জন্য ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার ও  1999 খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিক গান্ধী শান্তি পুরস্কার তিনি গ্রহণ করেছিলেন। দুটি পুরস্কারই তাকে ও রামকৃষ্ণ মিশন উভয়কেই দেওয়া হয়েছিল।

জীবনাবসান
স্বামী রঙ্গনাথানন্দ তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলি পশ্চিমবঙ্গের বেলুড়ে রামকৃষ্ণ মিশনের সদর দফতরে কাটিয়েছেন।
তিনি  2005 খ্রিস্টাব্দের  25 এপ্রিল সোমবার বিকাল 3 টা 51 মিনিটে কলকাতার উডল্যান্ডস মেডিকেল সেন্টারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ছিয়ানব্বই (96) বৎসর। সেদিন তাঁর দেহ বেলুড় মঠে ভক্তদের দর্শনের জন্য শায়িত রাখা হয় এবং পরেরদিন শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

=========================

★14>স্বামী গহনানন্দ::-- (1916--2007)
(অক্টোবর 1916 --- 4 নভেম্বর  2007=91 বৎসর।)
【রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের চতুর্দশ অধ্যক্ষ।(2005--2007),】

জন্ম::--অক্টোবর 1916
পিতা::--নরেশরঞ্জন রায়চৌধুরী
স্থান::--পাহাড়পুর, আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ, শ্রীহট্ট, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে বাংলাদেশ)

তিরোধান::--4 নভেম্বর  2007 (91 বৎসর)
গুরু:--স্বামী বিরজানন্দ

স্বামী গহনানন্দের পিতৃদত্ত নাম ছিল নরেশরঞ্জন রায়চৌধুরী। নরেশরঞ্জনের জন্ম হয় ব্রিটিশ ভারতের শ্রীহট্টের অধুনা বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জের পাহাড়পুরে। পিতা রাজকৃষ্ণ রায়চৌধুরী এবং মাতা সুখময়ী দেবী। প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীহট্ট আধ্যাত্মভাবনার ঐতিহ্যে চিরবন্দিত ছিল। নরেশরঞ্জনের খুড়তুতো দাদা কেতকীরঞ্জন ও প্রমোদরঞ্জন রামকৃষ্ণ ভাবধারায় উদ্দীপ্ত ছিলেন। তারা পরবর্তী জীবনে যথাক্রমে স্বামী প্রভানন্দ ও ব্রহ্মচারী প্রমোদ নামে পরিচিত হন এবং স্বাভাবিক ভাবেই এই ধারা নরেশরঞ্জনকে প্রভাবিত করে।

নরেশরঞ্জন বেশ মেধাবী ছাত্র ছিলেন। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কুমিল্লার এক স্কুলে পড়ার পর নারায়ণগঞ্জের এক স্কুলে দুবছর পড়েন, কিন্তু তিনি পরীক্ষা পাশের জন্য পড়তেন না। সবসময়ই তার মনজুড়ে থাকত শ্রীরামকৃষ্ণ-সারদা।

1948 খ্রিস্টাব্দের 2 মার্চ রামকৃষ্ণের জন্মতিথিতে দীক্ষাগুরু স্বামী বিরজানন্দ মহারাজের কাছে সন্ন্যাসদীক্ষা লাভ করে হন স্বামী গহনানন্দ।

স্বামী গহনানন্দের উদ্যোগে "শিশুমঙ্গল" হয়ে ওঠে কলকাতার অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান - রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান।
তিনি মোবাইল ভ্যান ইত্যাদির ব্যবস্থা যোগে গ্রামীণ এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন।  1971 খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন লক্ষ লক্ষ হিন্দু উদ্বাস্তু ভারতে প্রবেশ করছিল, তখন ব্যাপক ত্রাণকাজের আয়োজন করেছিলেন।

   1993 খ্রিস্টাব্দে স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার শতবর্ষে শিকাগোতে স্বামী গহনানন্দ বক্তৃতা দেওয়ার জন্য রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিনিধিত্ব করেন।

2005 খ্রিস্টাব্দের 25 এপ্রিল তিনি চতুর্দশ সংঘাধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আমৃত্যু আধ্যাত্মিক পরিচর্যাকে নতুন উদ্যমে চালিয়ে যান।

মহাপ্রস্থানের পথে::--

শেষের দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে স্বামী গহনানন্দের শরীর ভেঙ্গে পড়ে।
2007 খ্রিস্টাব্দের 7নভেম্বর সকালে সে অনুষ্ঠান শেষ হলে, সেদিনই বিকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

========================

★15>স্বামী আত্মস্থানন্দ (1919 - 2017)
জন্ম::--তিনি 1919 সালের মে মাসে।
মহাসমাধি::-- 18 জুন 2017 তারিখে

জন্ম::--তিনি 1919 সালের মে মাসে ঢাকার অদূরে, তার মাতৃ বাড়ি সবাজপুরে পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন
তার প্রাক সন্ন্যাসীর নাম ছিল সত্যকৃষ্ণ ।

【রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের 15 তম সভাপতি (2007--2017)

দীক্ষা::--
সত্যকৃষ্ণ মন্ত্র দীক্ষা গ্রহণ করেন ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের শিষ্য স্বামী বিজ্ঞানন্দ মহারাজের কাছে 1938 সালে বেলুড় মাঠে।

মহাসমাধি::--
স্বামী আত্মস্থানন্দ 18 জুন 2017 তারিখে বিকাল 5.30 টায় কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্টান হাসপাতালে মহাসমাধিতে প্রবেশ করেন। তার বয়স ছিল 98।

স্বামী আত্মস্থানন্দ জির সামনে যখনই কেউ তাঁকে প্রনাম করার জন্য উপস্থিত হতেন, মহারাজের চোখ দুটি সামনের মসনুষ টিকে যেন এক্সরে করে তার মনের গভীর দেখে নিতেন।
মহারাজ সামনের মানুষটির ভূত ভবিষ্যৎ
ইহকাল পরকাল সব দেখে নিতেন।
তার পরেই একটি চকোলেট ছুড়ে দিতেন।
সামনের মানুষ টি  যেই মুহূর্তে সেই চকোলেট টি লুফে নিতেন,ততক্ষনে মহারাজ সামনের মানুষটির ভিতরের চিন্তাগুলি থেকে তাকে মুক্ত করে দিতেন।
আর একটু শান্ত দৃষ্টিতে সব ক্ষমা করে দিতেন।
তিনি আনন্দের সাথে আপনার মনের উপস্থিতি পরীক্ষা করেছিলেন। সেই টফিগুলোর মাধ্যমে তিনি কেবল আশীর্বাদই করেছিলেন। স্বামী আত্মস্থানন্দ জির ব্যক্তিত্ব এমনই ছিল যিনি তাঁর উপস্থিতিতে আপনার মনকে নিয়ন্ত্রণ করতেন।
অসীম ক্ষমতা সম্পন্য মহারাজের আশীর্বাদ যেন ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিতেন।
==========================

★16>স্বামী স্মরণানন্দ(1929--2024)


【স্বামী স্মরণানন্দ 17 জুলাই 2017-রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের 16 তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন--------17/07/2017 --26/03/2024 】

স্বামী স্মরণানন্দ (জন্ম 1929) হলেন রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের একজন প্রবীণ সন্ন্যাসী , এবং এর 16 তম সভাপতি।  তিনি 1952 সালে সংগঠনে যোগদান করেন এবং 17 জুলাই 2017-এ সভাপতি নির্বাচিত হন ।

জন্ম::-জয়রাম 1929 (বয়স 94-95)
স্মরণানন্দ 1929 সালে ভারতের তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর জেলার আন্দামি গ্রামে  তামিল হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ।

গুরু::--স্বামী শঙ্করানন্দ

1976 সালে, তিনি রামকৃষ্ণ মিশন সারদাপীঠের সচিব হন, বেলুড় মঠের পাশে অবস্থিত একটি বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , যেখানে তিনি প্রায় 15 বছর দায়িত্ব পালন করেন। 1991 সালে, তিনি চেন্নাইয়ের শ্রী রামকৃষ্ণ মঠের প্রধান হন ।

1983 সালে, তিনি রামকৃষ্ণ মঠের ট্রাস্টি এবং রামকৃষ্ণ মিশনের গভর্নিং বডির সদস্য নিযুক্ত হন।
1997 সালে, তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হন এবং 2007 সালে সহ-সভাপতি হন ।

15 তম রাষ্ট্রপতি, স্বামী আত্মস্থানন্দ , 18 জুন 2017-এ সমাধি গ্রহণ করেন। স্বামী স্মরণানন্দ, যিনি সবচেয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন, 17 জুলাই 2017-এ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন।

সভাপতি হিসাবে, তার প্রাথমিক কাজ হল সংগঠনের আধ্যাত্মিক প্রধান হিসাবে। সেই সূত্রে তিনি আধ্যাত্মিক সাধকদের আধ্যাত্মিক দীক্ষা দেন।

2017 সালের এপ্রিলে, স্বামী স্মরণানন্দ বেলুড় মঠের একটি অনুষ্ঠানে একটি খেলনা ট্রেনের উদ্বোধন করেন। টয় ট্রেনটি গণিত ক্যাম্পাসের চারপাশে লোকজনকে তুলে নিয়ে যাবে।

2017 সালের ডিসেম্বরে, তিনি বেলুড় মঠে রামকৃষ্ণ মিশনের নতুন নামকরণ করা সদর দফতরের ভবনটি খুলেছিলেন, এখন এটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক স্বামী সারদানন্দের নামে নামকরণ করা হয়েছে

   আজ 27/03/2024 

বেলুড় মঠের সাস্কৃতিক ভবনে 

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ দেব, শ্রী মা সারদা দেবী, স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতির সামনে 

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ষোড়শ অধ্যক্ষ

স্বামী স্মরনানন্দের পার্থিব শরীর শায়িত আছে  ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী স্মরনানন্দজী

৯৫ বৎসর ছিলেন এই ধরা ধামে।

শেষ ৫৭ দিন হাসপাতালে ছিলেন।

বোধহয় আজই তাঁর অন্তিম সংস্কার হবে।

অবশ্য সেটা আছি পরিষদের বৈঠকে সিদ্বান্ত হবে, তার পরেই জানাজাবে অন্তিম সংস্কারের নির্দিষ্ট ক্ষণ।

আমরা এক মহান ব্যক্তিত্ব এক মহান শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিত মহারাজ কে হারালাম।

==============================

আজ 26/03/2024 রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের ষোড়শ (16) অধ্যক্ষ মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী স্মরনানন্দজী ৯৫ বৎসরে চলেগেল 

রামকৃষ্ণলোকে।

26/03/2024 সন্ধ্যা 8টা (আটটা)14মি মিনিটে । 

আজ 27/03/2024বেলুড় মঠের সাস্কৃতিক ভবনে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ দেব, শ্রী মা সারদা দেবী, স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতির সামনে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ষোড়শ অধ্যক্ষ স্বামী স্মরনানন্দের পার্থিব শরীর শায়িত আছে  ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী স্মরনানন্দজী

৯৫ বৎসর ছিলেন এই ধরা ধামে।

শেষ ৫৭ দিন হাসপাতালে ছিলেন।

বোধহয় আজই তাঁর অন্তিম সংস্কার হবে।

অবশ্য সেটা আছি পরিষদের বৈঠকে সিদ্বান্ত হবে, তার পরেই জানাজাবে অন্তিম সংস্কারের নির্দিষ্ট ক্ষণ।

আমরা এক মহান ব্যক্তিত্ব এক মহান শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিত মহারাজ কে হারালাম। তিনি চলেগেলেন রামকৃষনলোকে।

এর পরে সম্ভবত শ্রীমৎ স্বামী গৌতমানন্দ মহারাজ হবেন 17 তম( সপ্তদশ)অধ্যক্ষ।

============================

 ★★【রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের ষোড়শ সভাপতি  শ্রীমৎ স্বামী স্মরণানন্দ জি মহারাজ চলে গেলেন রামকৃষ্ণলোকে।

গভীর দুঃখের সাথে আমরা রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সভাপতি স্বামী স্মরণানন্দজির মৃত্যু ঘোষণা করছি, মঙ্গলবার, 26 মার্চ 2024, কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্টান হাসপাতালে রাত 8:14 টায়। তার বয়স ছিল 94।

জ্বর এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে 18 জানুয়ারী 2024 তারিখে তাকে কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে, 29 জানুয়ারি তাকে সেবা প্রতিষ্টানে স্থানান্তরিত করা হয়। সর্বোত্তম উপলব্ধ চিকিৎসা সত্ত্বেও, ধীরে ধীরে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং অবশেষে তিনি 

তরোধানের পথে রামকৃষ্ণলোকে চলে যান।

27 মার্চ 2024 বুধবার রাত 9.00 টায় বেলুড় মঠে তাঁর পার্থিব দেহ দাহ করা হবে। শেষকৃত্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বেলুড় মঠের দরজা খোলা 

থাকবে।】★★

সাধারণভাবে রাষ্ট্রপতি হিসাবে পরিচিত হলেও, তিনি প্রকৃতপক্ষে সমগ্র রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের রাষ্ট্রপতি জেনারেল এবং সন্ন্যাসী ও ভক্তরা সম্মানের সাথে রাষ্ট্রপতি মহারাজ হিসাবে উল্লেখ করেন। তিনি প্রধানত অর্ডারের আধ্যাত্মিক প্রধান হিসাবে কাজ করেন।

রামকৃষ্ণ মঠ নামে পরিচিত রামকৃষ্ণ অর্ডারের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে একটি হল এটি বর্তমান যুগের অবতার শ্রী রামকৃষ্ণের কাছে এর উত্স এবং উত্স সনাক্ত করে। প্রকৃতপক্ষে, এই সন্ন্যাসীর আদেশ  মানবতার কল্যাণে অবতারের শক্তি  এবং  কৃপা , শক্তি এবং অনুগ্রহের প্রচারের প্রধান চ্যানেল হিসাবে কাজ করে। ঐশ্বরিক শক্তি এবং অনুগ্রহের প্রবাহ গুরুদের একটি অবিচ্ছিন্ন বংশ,  গুরু-পরম্পরা দ্বারা বজায় থাকে । রামকৃষ্ণ সংঘের সভাপতিদের উত্তরাধিকারের পিছনে এই অবিচ্ছিন্ন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য।

রাষ্ট্রপতি মহারাজ মন্ত্র-দীক্ষা  বা দীক্ষা  প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য বজায় রাখেন  । দীক্ষার মাধ্যমে অবতারের মূল আধ্যাত্মিক শক্তি এবং অনুগ্রহ উচ্চাকাঙ্ক্ষীদের হৃদয়ে প্রবাহিত হয় এবং তাদের মধ্যে সুপ্ত আধ্যাত্মিক সম্ভাবনাকে জাগ্রত করে। বর্তমানে সহ-রাষ্ট্রপতিরাও ভারতে এবং ভারতের বাইরে আধ্যাত্মিক দীক্ষা দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত। ভারতের বাইরের দেশগুলিতে সেসব দেশের কিছু কেন্দ্রের প্রধানকে আধ্যাত্মিক দীক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

রামকৃষ্ণ মঠের সমস্ত কর্তৃত্ব একটি বোর্ড অফ ট্রাস্টির হাতে ন্যস্ত। এই ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি হওয়ার কারণেই রাষ্ট্রপতি মহারাজ সমগ্র রামকৃষ্ণ মঠের প্রধান হয়ে ওঠেন। যেহেতু ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরাও রামকৃষ্ণ মিশনের গভর্নিং বডি গঠন করে, তাই রাষ্ট্রপতি মহারাজও রামকৃষ্ণ মিশনের সভাপতি। এইভাবে রাষ্ট্রপতি মহারাজ রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশন উভয়েরই প্রধান এবং তাদের সমস্ত শাখা কেন্দ্র এবং তাদের সদর দফতর বেলুড় মঠে।

শ্রীমৎ স্বামী স্মরণানন্দ জি মহারাজ

Swami Smarananandaji was born at village Andami in the district of Thanjavur, Tamil Nadu, in 1929.  He came in contact with the Mumbai branch of the Ramakrishna Order when he was about 20 years old.  Inspired by the ideals of Sri Ramakrishna and Swami Vivekananda, he joined Mumbai Ashrama in 1952 at the age of 22 and embraced monastic life.  Swami Shankaranandaji Maharaj, the seventh President of the Ramakrishna Order, gave him mantra diksha (spiritual initiation) in the same year.  He also received from Swami Shankaranandaji Maharaj, brahmacharya vows in 1956 and sannyasa vows and the name ‘Swami Smaranananda’ in 1960.

From the Mumbai centre, he was transferred in 1958 to the Kolkata branch of Advaita Ashrama, the well-known publication centre of the Ramakrishna Math.  He served at both Mayavati and Kolkata centres of the Advaita Ashrama for 18 long years.  For a few years he was the Assistant Editor of Prabuddha Bharata, the English journal of the Ramakrishna Order started by Swami Vivekananda.  He also enthusiastically worked to improve the standard of publications of the Advaita Ashrama.

He was posted to Ramakrishna Mission Saradapitha, an educational complex near Belur Math, as its Secretary in 1976.  During his long tenure of about 15 years there, the educational and rural welfare work of Saradapitha saw tremendous development.  He, along with his monastic assistants, took up extensive relief operations during the devastating flood in West Bengal in 1978. From Saradapitha he was posted to Ramakrishna Math, Chennai, as its Head in December 1991.

He was appointed a Trustee of the Ramakrishna Math and Member of the Governing Body of the Ramakrishna Mission in 1983.  In April 1995, he joined the Headquarters as an Assistant Secretary, and after two years, he took charge as the General Secretary of the twin organisations.  As the General Secretary, he steered the worldwide Ramakrishna Movement for ten long years until May 2007 when he was elected a Vice-President of the Order.  He became the President of Ramakrishna Math and Ramakrishna Mission in July 2017.

He travelled extensively in India and different parts of the world, visiting many branches of the Math and Mission and also unaffiliated centres, spreading the message of Sri Ramakrishna, Holy Mother Sri Sarada Devi, Swami Vivekananda and Vedanta among a vast number of people.  He also gave mantra diksha to thousands of spiritual seekers.

Revered (সম্মানিত) Maharaj was a voracious reader and a deep thinker.  He has contributed a number of articles to various journals of the Ramakrishna Order.  Collating his articles and talks, a few books have been brought out, of which Smriti-Smaran-Anudhyan and Chintan-Manan-Anushilan are in Bengali, and Musings of a Monk in English.

Swami Smarananandaji was loved and respected by all for his spiritual wisdom, simplicity, unassuming nature, sense of humour and spiritual fervour.  His mahasamadhi has left a huge void that is difficult to fill.

========================

অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যক্ষ হলেন

স্বামী গৌতমানন্দ মহারাজ।

30/03/2024 রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের

অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যক্ষ হলেন সহ অধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দ।

সপ্তদশ অধ্যক্ষ নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্বামী গৌতমানন্দ  দায়িত্ব সামলাবেন।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মূল আছি পরিষদ ও পরিচালান সমিতি একটি প্যানেল তৈরি কিরবেন। তার মধ্য থেকেই একজনকে পরবর্তী অধ্যক্ষ হিসাবে নির্বাচিত করা হবে। সেই নির্বাচনে অংশ নেবেন অন্তত 20--30 বছর ধরে থাকা সন্ন্যাসীরা। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে প্রায় এক মাস।

আর সেই সময়কালে প্রেসিডেন্ট পদ খালি না রাখার জন্য অন্তর্বর্তী কালীন অধ্যক্ষ  স্বামী গৌতমানন্দ কে স্থির করা হল।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সপ্তদশ অধ্যক্ষ হলেন স্বামী গৌতমানন্দজি মহারাজ।

Swami Goutamananda: রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সপ্তদশ অধ্যক্ষ হলেন স্বামী গৌতমানন্দজি মহারাজ গত ৭ এপ্রিল প্রয়াত ষোড়শ অধ্যক্ষের ভাণ্ডারা অনুষ্ঠানের পর এক মাস ধরে মঠের বরিষ্ঠ সন্ন্যাসীদের মত বিনিময় করে নতুন অধ্যক্ষ মনোনীত করেছেন। ততদিন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী অধ্যক্ষ হিসাবে অধ্যক্ষের কাজ সামলেছেন গৌতমানন্দজি। এদিন বেলুড় মঠের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকেই স্থায়ী অধ্যক্ষ হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

বেলুড় মঠের তরফে জানানো হয়েছে, মঠের অছি পরিষদের সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য সহ-অধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দজি মহারাজ। তাঁকেই অধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

১৯৫১ সালে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের যোগ দেন স্বামী গৌতমানন্দ। তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা করে স্বামী রঙ্গনাথানন্দজির অধীনে। ১৯৬৬ সালে মঠের দশম অধ্যক্ষ স্বামী বীরেশরানন্দজির কাছে সন্ন্যাস দীক্ষা নেন।

==============================