43>|| সাষ্টাঙ্গে প্রণাম, মহিলা ও পুরুষ ||
প্রঃ- মহিলারা কি সাষ্টাঙ্গে বা শুয়ে পড়ে, হাত ও পা লম্বা করে প্রণাম করতে পারেন?
উঃ শ্রীরামকৃষ্ণ সুরেন্দ্রকে বলিতেছেন, "আমায় কিছু খাওয়াবে না?" এই বলিয়া গত্রোত্থান করিয়া অন্তঃপুরে গমন করিলেন। মেয়েরা আসিয়া সকলে ভুমিষ্ঠ হইয়া অতি ভক্তিভরে প্রণাম করিলেন।আহারান্তে একটু বিশ্রাম করিয়া দক্ষিণেশ্বরে যাত্রা করলেন। এখানে দেখছি মহিলারা ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করছেন,বা ভূমিতে মাথা বুক পা ঠেকিয়ে শুয়ে পড়ে প্রণাম করছেন। ঠাকুর কোন নিষেধ করছেন না। শ্রীশ্রীমাকে নিবেদিতা সহ অন্যান্য যেসব মায়েরা বা মহিলারা প্রণাম করতেন তাহাদেরকেও মা নিষেধ করেননি। এ তো রামকৃষ্ণ ভক্তদের পরম্পরা থেকে দেখলাম। আজও এইভাবে মাকে মেয়েরা বা মহিলারা প্রণাম করে চলেছেন। একদিন সিস্টার আমাদের বলিলেন, "মাতাদেবী আজ আমাদের স্কুলে আসবেন। তোমরা সকলে খুব আনন্দ কর।" সকালের পরিবর্তে চারটার সময় মায়ের গাড়ি আসিল। সঙ্গে রাধু, গোলাপ-মা প্রভৃতি। মা গাড়ি হইতে নামিতেই সিস্টার তাহাকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করিয়া ঠাকুর দালানে বসাইলেন। মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেবার জন্য আমাদের হাতে পুষ্প দিলেন। মেয়েরা পুষ্পাঞ্জলি দিয়া উঠানে দাড়াইলে সিস্টার একে একে সকলের পরিচয় দিলেন। মা মেয়েদের একটু গান গাইতে বলিলেন, মেয়েরা গান গাহিল এবং একটি কবিতা পড়িল। শুনিয়া মা বলিলেন, 'বেশ পদ্যটি।' তারপর মিষ্টি প্রসাদ করিয়া দিয়া আমাদের দিতে বলিলেন।
এবার যুক্তি হ'ল সতীর একান্ন পীঠ,এই পৃথিবীতে এখন রয়েছে। সতীর অঙ্গের যে যে অঙ্গ যেখানে পড়েছে সেখানেই একটি করে তীর্থ হয়েছে। এই রকম একান্নটি পিঠ রয়েছে। আসামে মায়ের জননেন্দ্রিয় কামাখ্যাতেই পড়েছিল। কাজেই এ সকল যদি তীর্থে রূপান্তরিত হতে পারে, তবে মায়েদের সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতে অসুবিধা কোথায়? তারা কি মায়ের অংশ নয়! আর মা কখন কি অপবিত্র হয়? যে ধরিত্রী মায়ের উপরে প্রাণীদের জন্ম, সেই প্রাণীদের ধারণ ও বহন করতে মা পারেন না, এ কথা কি বলা ঠিক হয়? জননী যেমন সব সন্তানকে পেটে ধারণ করেন, তেমনি ধরিত্রী সকল সন্তানদের ধারণ ও বহন করছেন,আবার সবকিছু তিনিই ব্যবস্থা করেন।
তাছাড়া ভগবান আমাদের মা-বাবা, তাঁর কাছে প্রণাম করতে সন্তানের কোন পার্থক্য থাকে কি? মহিলারা আসবেনা, পুরুষরা আসবে। পুরুষরা আসবেনা, মহিলারা আসবে। এইরকম কোন নিয়ম শ্রীশ্রীমাসারদাদেবীর ক্ষেত্রে দেখিনি। তবে আমরা এই পার্থক্য তৈরি করছি কেন?স্বামীজি নিজে সষ্টাঙ্গে প্রণাম করে বিজ্ঞান মহারাজ ও নিবেদিতাকে এই সব কিছু শিখিয়েছেন। সে সময় কোন পার্থক্য করা হয়নি, মা জগৎ জননী তাকে সবাই সাষ্টাকে প্রণাম করবার অধিকারী। তাছাড়া যে মাথা বুক ও পা সর্বাঙ্গ ভূমিতে ঠেকিয়ে ভূমিষ্ঠ প্রণাম করছি, সেও তো আমাদের মাটির মা তিনি তার সন্তানের ভার বহন করতে পারেন না। একথা বলা ঠিক না। কাজেই মহিলা এবং পুরুষ সবাই সাষ্টাঙ্গে প্রণামের অধিকারী বলে মনে করি। তবে মায়েদের পেটে সন্তান এলে এই সময়কালে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করা নিষেধ থাকে। কেননা এতে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। অন্য সময় করা যেতে পারে ।
অনেককেই বলতে শুনি মেয়েদের সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতে নেই কিন্তু শ্রীশ্রী মায়ের কথা পুস্তকে প্রব্রাজিকা ভারতীপ্রাণা মাতাজী তখন সরলা বালাদেবী স্মৃতিচারণা থেকে একটি অংশ উল্লেখ করছি। একদিন সিস্টার আমাদের বলিলেন মাতাদেবী আজ আমাদের স্কুলে আসবেন। তোমরা সকলে খুব আনন্দ কর। সকালের পরিবর্তে চারটার সময় মায়ের গাড়ি আসিল। সঙ্গে রাধু গোলাপ মা প্রভৃতি। মা গাড়ি হইতে নামিতেই সিস্টার তাঁহাকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করিয়া ঠাকুর দালানে বসাইলেন। আমার কথা সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করা মেয়ে দের অনুচিত হলে মা তো সিস্টারকে এমন করতে নিষেধ করতেন। মা তো তা করেননি। আর মা যখন বারন করেননি তখন মেয়েদের সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করতে বাধা কিসের?
"জননীং সারদাং দেবীং রামকৃষ্ণং জগদ্গুরুম্।
পাদপদ্মে তয়ো শ্রিত্বা প্রণমামি মুহুর্মুহুঃ।।"
জয়মা জয়মা জয়মা জয়মা।
=======================€€
No comments:
Post a Comment