আজকের বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান প্রাচীন কালেই আর্য ঋষিগণ বেদ, বেদান্ত, গীতায় লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচি-
ন্নায়ং ভূত্বা ভবিতা বা ন ভূয়ঃ৷
অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণো
ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে৷৷dS
— শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ২/২০
অর্থাৎ আত্মার কখনো জন্ম হয় না বা মৃত্যু হয় না। অথবা পুণঃ পুণঃ তার উৎপত্তি বা বৃদ্ধি হয় না, তিনি জন্ম রহিত শাশ্বত, নিত্য এবং নবীন। শরীর নষ্ট হলেও আত্মা কখনো বিনষ্ট হয় না।
সবাই বলে মৃত্যু বড়ো ভয়ংকর,বিভীষিকাময়,বিধাতার নিষ্ঠুর অভিশাপ।
কিন্তু কই আমার তো তা মনে হয় না।আমার কাছে মৃত্যু হল আনন্দস্বরূপ,অমৃতস্বরূপ, সচ্চিদানন্দঘন ব্রহ্মস্বরূপ।মৃত্যুতে কীসের ভয়? কীসের শোক? কীসের দু:খ? কীসের কষ্ট? কীসের পরিতাপ? কীসের অনুশোচনা?
মা যেমন তার প্রিয় সন্তানকে আদর করে কপালে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়,মৃত্যুও তো ঠিক সেইরকমই আদর করে তার শীতল হাতের ছোঁয়ায় আমাদেরও জগৎসংসার থেকে চিরনিদ্রায় পাঠিয়ে দেয় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবার জন্য।
মৃত্যুতে শুধুমাত্র দেহের বিনাশ ঘটে,আত্মার নয়।আত্মা অনন্ত,অবিনাশী,অচিন্তনীয় সত্ত্বা বিশেষ।।
"কত মহামানবের দেহত্যাগ হইয়াছে; কত দুর্বলচিত্ত মানুষ মৃত্যু-কবলিত হইয়াছে; কত দেবতারও মৃত্যু ঘটিয়াছে। মৃত্যু, মৃত্যু—সর্বত্র মৃত্যুই বিরাজ করিতেছে। এই পৃথিবী অনাদি অতীতের একটি শ্মশানক্ষেত্র; তথাপি আমরা এই দেহকেই আঁকড়াইয়া থাকি আর বলি, ‘আমি কখনও মরিব না।’ জানি ঠিকই যে, দেহের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী; অথচ উহাকেই আঁকড়াইয়া থাকি। ঠিক অমর বলিতে আত্মাকে বুঝায়, আর আমরা ধরিয়া থাকি এই শরীরকে—ভুল হইল এখানেই।"
স্বামী বিবেকানন্দ ।।
=====================
No comments:
Post a Comment