Thursday, July 20, 2023

39>বনফুল | বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।

 39>বনফুল | বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।

আনন্দবাজারের সাংবাদিক এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করছিলেন - ' অনেক পুরস্কার তো পেয়েছেন, কোনটিকে জীবনের সেরা পুরস্কার বলে মনে করেন ? 

তিনি কিঞ্চিৎ ভেবে বললেন --- ' সে অর্থে আমার জীবনের সেরা পুরস্কার কিন্তু অন্যরকম !! ' 

---- ' একটু খুলে যদি বলেন ........! '

----' দেখুন ....ভাগলপুর রেল স্টেশনের দিকে একপ্রকার দৌড়েই যাচ্ছি , সাথে কুলি আছে --- কলকাতা যাবার বিশেষ তাগিদে ....রেল স্টেশনে পৌঁছনোর আগেই দেখি -- ট্রেন ছেড়ে দিল --- !!!!  

এবারে ট্রেন পরদিন । কি করব ভেবে পাচ্ছি না ! এদিকে না গেলেই নয় ! এই রকম অবস্থায় হাঁপাতে হাঁপাতে কোনরকমে স্টেশনের ভিতরে একটা বেঞ্চে বসে পড়লাম।ভাবছি ----  কি  করা যায় ! 

কিছুক্ষণ পরেই দেখি ---  যে প্লাটফর্ম থেকে ট্রেনটি ( কলকাতা যাবার ) ছেড়ে চলে গেল এইমাত্র ...       ওই প্লাটফর্মেই পিছন দিক থেকে একটা ট্রেন ব্যাক করে আসছে ! ট্রেন দাঁড়ালো ----  !!

অনেকেই হৈ চৈ করছেন । এক ভদ্রলোক আমার সামনে এসে বললেন ---- " স্যার আমি আপনাকে চিনি ডাক্তার হিসেবে তো বটেই , কিন্তু তার থেকেও বেশী করে চিনি কারণ আপনার সব কটি লেখাই আমার পড়া । " 

-----  " আপনাকে দৌড়াতে দেখেই বুঝতে পেরেছি .....কলকাতা যাবার গাড়ী ধরতে আসছেন । আমিই  স্যার এই ট্রেনের ড্রাইভার । তাই আপনার জন্যই গাড়ী ব্যাক করে নিয়ে এলাম । চলুন --- স্যার তাড়াতাড়ি চড়ুন !!! "  

 ----  "" একজন ট্রেন চালক রেল গাড়ী ব্যাক করে আমাকে  ট্রেনে তুলে , তারপর আবার সামনের দিকে চলতে শুরু করে ।"

এর চাইতে বড় পুরস্কার কি হতে পারে।

তিনি বনফুল | বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় | তখন তিনি বিহারের সাহেবগঞ্জ রেলওয়ে হাইস্কুলের ছাত্র | লেখালিখির শুরু তখন থেকেই | সেই সময়ে ‘বিকাশ’ নামে হাতে লেখা পত্রিকায় কবিতা লেখালিখি চলত। পরে ‘মালঞ্চ’ পত্রিকায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্র বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা ছাপা হল | অসন্তুষ্ট হলেন হেডপণ্ডিত রামচন্দ্র ঝা | তার মনে হল লেখালিখির কারণেই সংস্কৃতে কম নম্বর পাচ্ছেন বলাই | তিনি কবিতা লেখা বন্ধ করার নির্দেশ দিলেন বলাইকে | ফাঁপরে পড়ল কিশোর বলাই | অগত্যা উপায় ? ছদ্মনাম নিলেন বনফুল | বনফুল ছদ্মনামেই চলতে লাগল লেখালিখি | কিন্তু শেষরক্ষা হল না | হেডপণ্ডিত রামচন্দ্র ঝা-র কাছে ধরা পড়ে গেলেন | নির্দেশ অমান্য কেন? জানতে চাইলেন পণ্ডিতমশাই। বলাইয়ের জবাব, ‘না লিখে পারি না যে’! পণ্ডিতমশাই আর বাধা দিলেন না | পরবর্তীতে ১৯১৮ সালে তিনি স্কুলের মধ্যে প্রথম হয়ে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন | 

পরবর্তীতে একদিন জিজ্ঞেস করা হল, "এত কিছু নাম থাকতে আপনার ছদ্মনাম বনফুল কেন?"

বনফুল বললেন - "বন তাঁর বরাবরই খুব পছন্দের, বন তাঁর কাছে সবসময় রহস্য নিকেতন।" তাই বনফুল নামটা তাঁর ভারী পছন্দের।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি | বনফুলের গল্পে বারবার উঠে এসেছে আর্ত ,পীড়িতের কথা। নিরন্ন,খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষের কথা | বনফুল হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর উপন্যাস গুলি নিয়ে বিখ্যাত সিনেমাও হয়েছে - যেমন মৃণাল সেনের পরিচালনায় ভুবন সোম, ডা: অগ্নীশ্বর প্রভৃতি | সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন। এছাড়াও পেয়েছেন শরৎস্মৃতি পুরস্কার (১৯৫১), রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৬২), বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯৬৭)। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট উপাধি প্রদান করে ১৯৭৩ সালে | 

তাঁর লেখনীর মুন্সিয়ানায় , তার নিষ্ঠাবান চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা ও বাঙালিকে | জন্মদিবসে জানাই প্রণাম |

তথ্য : আনন্দবাজার.

           ( সংগ্রহীত)

====================


No comments:

Post a Comment