28>স্বামী ভূতেশানন্দ মহারাজের জীবন _দর্শন" ।।
মহারাজের জীবনের শেষ দিকের একটি ঘটনা । সন্ধ্যায় বাগানের ভিতরের রাস্তাটিতে হাঁটছেন । ....
একটু পরে আমি গেলাম ।
আমাকে দেখেই বাগান দেখিয়ে বললেন : * বুঝেছ স___ সব সূর্যমুখী ফুল গাছ গুলো কেটে বাগান সাফ করে ফেলেছে । কেন ? না , গাছগুলো আর ফুল দেবে না, বুড়ো হয়ে গেছে , ঢ্যাঙা গাছগুলো রেখে আর কি হবে ?*
আমরা চুপ করে আছি ।
সঙ্গে হাঁটছি ।
মহারাজ বলে চলেছেন :
*সেবার আমেরিকায় গিয়েছি । একদিন দেখি কি আমাদের গাড়ির সামনে সামনে রাস্তায় পাল পাল গরু মোষ চলেছে ।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম , ওগুলো কোথায় চলেছে ?
ওরা বললো , ওগুলো বুড়ো হয়ে গেছে , ওগুলো আর দুধ দেবে না , ওগুলোকে slaughter house অর্থাৎ কসাই খানায় নিয়ে যাচ্ছে ।"
আমরা চুপ করে আছি ।
একটু পরে মহারাজই নীরবতা ভঙ্গ করে বলে চললেন : * তাইতো গরুগুলো বুড়ো হয়ে গেছে আর দুধ দেবে না ।
...... গাছগুলো বুড়ো হয়ে গেছে আর ফুল দেবে না, বুড়ো_বুড়িরা এসে আমার কাছে ঠিকই বলে __ ওদের বাড়িতে জায়গা হয় না __ বৃদ্ধাশ্রমে চলে যাচ্ছে । ....
আমিও তো বুড়ো হয়ে গেছি , আমি কি করছি ?*
আমরা স্তব্ধ নির্বাক ।
এরপরে আরও কিছু সময় হেঁটেছি , মনে আছে , বেশ কিছুক্ষণ তিনি কথা বলেন নি ।
তিনি মৌন নিস্তব্ধ ।
বুঝলাম , গাছগুলো কে উপলক্ষ করে মহারাজের মন কত গভীর চিন্তায় নিবিষ্ট ।
প্রত্যেকের যা দেবার তার ফুরালে __ সে জগতে অবাঞ্ছিত ।
বেঁচে থাকার বা জগতের এককোণে পড়ে থাকার অধিকারটুকুও তার নেই ।
___এ কেমন জগৎ ?
স্বামী ভূমানন্দ।
প্রনাম জানাই গুরুমহারাজের শ্রীপাদপদ্মে
( সংগ্রহীত)
আদ্যনাথ রায় চৌধুরী
===========================
==================
*স্বামী গহনানন্দজী স্বামী ভূতেশানন্দজীর রসবোধের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন*
🕉🔱🕉🔱🕉🔱🕉
স্বামী ভুতেশানন্দজীর মতন নিরাসক্ত নিরহঙ্কারী রসিক আর আমি দুটো দেখিনি! এনাদের ধৈর্য কোন লেভেলের এটা বোঝা আমাদের সাধ্য নয়। তখন মহারাজ সবে অধ্যক্ষ হয়ে কাঁকুরগাছি থেকে বেলুড়ে এসেছেন। একদিনে সন্ধ্যার মুখে মহারাজ তাঁর সেবক ও অন্যান্য কয়েকজন মহারাজদের নিয়ে চলেছেন ঠাকুরকে প্রণাম করতে। তিনি সবে সিঁড়ি দিয়ে মন্দিরে উঠতে যাবেন আমরা সবাই সসম্ভ্রমে পাশে সরে দাঁড়িয়ে পড়েছি ইতোমধ্যে সেখানে আচমকা হাজির *এক ছিটগ্রস্থ পাগল*। সে অনেক মহারাজ দেখে হঠাৎ তাঁর ছেঁড়া হাওয়াই চপ্পল জোড়া রেখে তাঁদের উদ্দেশ্যে *বললেন-"মহারাজ আমার জুতোটা একটু নজর রাখবেন তো। ভীষণ চুরি হয়*।" বলেই হনহন করে মন্দিরে উঠে গেল। সবাই স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। ছি: ছি: একি নির্বোধের কথা! অন্যান্য সবাই যখন রাগে ফুঁসছে। পুজ্যপাদ স্বামী ভুতেশানন্দজী তখন তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় মিটিমিটি হাসছেন। হাত তুলে ঠিক ছবিটির মতই সকলকে চুপ করিয়ে দিলেন। এবং *পাগলের জুতোর পাহারায় ঠাঁয়* দাঁড়িয়ে রইলেন। *বললেন-"দেখ, ও নিশ্চয়ই ঠাকুরের খুব নিকটজন। কত বিশ্বাস আর ভরসা নিয়ে সর্বত্যাগী সাধুদের জুতো পাহারায় রেখে গেল। তোমরা ওকে ভুল বুঝোনা। ঠাকুর কখন কিভাবে লীলা করেন কে জানে?" আমরা কিন্তু এই লেভেলে ভাবতেই পারিনা!* মহারাজ যেন একটি কথাতেই আমাদের সকলের ভাবের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। মিনিট খানেক পর সেই পাগলটি সোজা এসে শুধুমাত্র *বড় মহারাজকেই "জয় ঠাকুর" বলে প্রণাম করেই বলল- থ্যাঙ্ক ইউ! বলেই চটিজোড়া পায়ে গলিয়ে নিমেষে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল। মহারাজ বলতে লাগলেন- "দেখলে সভ্যতা কাকে বলে! আবার থাঙ্কুও দিয়ে গেল*।" বলেই তিনিও মন্দিরে উঠে গেলেন। ভগবানের লীলা বোঝা ভার! *তবে মহাপুরুষদের সান্নিধ্য পেলে একটু তো আঁচ পাওয়াই যায়* ।
🌱🌿🌱🌿🌱🌿🌱
( সংগ্রহ)
=======================
শ্রীরামকৃষ্ণ সাধনার সার কথা কি ?
পূজনীয় শ্রীমৎ স্বামী ভূতেশানন্দ জী বললেন::----
"আমরা ভগবানের নাম করব। কত হাজার জপ করব, কতক্ষণ ধ্যান করব – এটি বড় কথা নয়।"
"কেউ হয়তো নিরামিষ খায়, কেউ হয়তো এক বস্ত্রে থেকে ভগবানের জন্য তপস্যা করে। সেসব কিন্তু কিছুই কিছু নয়, যদি না সেগুলিতে আন্তরিকতা থাকে।"
"আসল কথা হচ্ছে, আমাদের সমস্ত অন্তর দিয়ে ভগবানকে ভালবাসতে পারছি কি না তা দেখতে হবে......যে ভালবাসায় সংসারের অন্য সমস্ত আকর্ষণ তুচ্ছ হয়ে যাবে। এই কথাটি মনে রাখতে হবে।"
"ভাগবতে বলেছে, তাঁর প্রতি যে অনুরাগ তা জগতের অন্য সব অনুরাগকে ভুলিয়ে দেয়। সুতরাং তাঁর প্রতি আমাদের ভালবাসা কতখানি হলো – এই বিচার করে আমাদের সাধনপথে হাটতে হবে। "
"আমরা তাঁর নামে মুহুর্মূহু মূর্ছা গেলেও কিছু হবে না বা আমাদের সমস্ত জীবনটা বসে বসে ধ্যান করলেও হবে না, বছরের পর বছর লক্ষ লক্ষ জপ করলেও হবে না। তীর্থে তীর্থে ঘুরে বেড়ালেও হবে না।"
"হবে তখন, যখন দেখব তিনি আমাদের অন্তরকে সর্বদা পরিপূর্ণ করে রয়েছেন। তিনি ভিন্ন আর কোনো চিন্তা বা বস্তু বা ব্যক্তির সেখানে স্থান নেই।আমাদের অন্তরের পূর্ণ অনুরাগ তাঁকে দিতে হবে। তাঁর চরণে নিজেদের পরিপূর্ণভাবে সমর্পণ করতে হবে। "
এটিই শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনার সারকথা।
পরম পূজনীয় গুরু মহারাজের শ্রীপাদপদ্মে শতকোটি প্রনাম জানাই🌷🙏🌷🙏🌷🙏🌷🙏🌷🙏
No comments:
Post a Comment