Friday, March 10, 2017

4>মাইকেল মধুসূদন দত্ত-------{ 1 to 3 )

4>>
    1>মধুসূদন দত্তদের মত
     2>জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলী হে মহাকবি
     3>মাইকেল মধুসূদন ও ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর।
         ইংরেজি "E" অক্ষরটি নাই এমন কিছু লাইন।

=======================================
1>মধুসূদন দত্তদের মত

1>সম্ভ্রান্ত বাঙালি পরিবারে জন্মে ষোলআনা বাঙালি শিক্ষাটাই পেয়েছিলেন। বাড়ির অদূরে একটা মসজিদে আরবি, ফার্সিও শিখতে যেতেন বাল্যকালে। বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ- মসজিদটা আজও তেমনই আছে। এবং তার বাড়িঘরও সংরক্ষিত আছে পরম যত্নে! মধুমেলা হয় তার জন্মদিন থেকে! আছে বিরাট 'মধুমঞ্চ'। ছোট একটা সংগ্রহশালা! তবে কপোতাক্ষ মরে গেছে কচুরিপানার দৌরাত্ম্যে! যশোর শহর থেকে সাগরদাঁড়ি যাবার যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও নাকাল হতে হয়! দূরও বটে! তবুও বাংলাদেশ সরকারকে অকুন্ঠচিত্তে ধন্যবাদ জানাই যে পরম যত্নে তারা সব টিকিয়ে রেখেছে আজও! বছর তিনেক আগে গিয়েছিলাম একবার।
সাগরদাঁড়িতে তার জীবন বেশীদিনের নয়। পিতার অঢেল সম্পদ তাঁকে কোলকাতায় রেখে নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর জন্য অপর্যাপ্ত ছিল না! কোলকাতায় ইংরেজী শিক্ষাব্যবস্থা ও ইংরেজসংস্কৃতির প্রভাবে তাঁর মধ্যে অনেক চারিত্রিক বিকাশ ঘটে! যেমন- বাঙালী নেটিভ সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা, আমাদের ধর্ম ও সভ্যতাকে তাচ্ছিল্য, সর্বোপরি অহোরাত্র মদ্যপান! এই সময়ে ডিরোজিওর মত আচার্য্যরা এইসব শিক্ষারই প্রসার ঘটাচ্ছিলেন। মেকলে প্রভৃতি রাজশাসকরাও চাইছিলেন ভারতবর্ষের প্রাচীন শিক্ষাপ্রণালীকে একেবারে মুছে দিয়ে এখানে ইংলিশ স্টাইল চালু করে দেয়া আর সবাইকে বোঝানো 'তোমাদের ভারতীয় সভ্যতা বর্বরদের! আমাদের শিক্ষা নাও! মানুষ হও!' মধুসূদন দত্তদের মত অনেকেই এই শিক্ষাটাই নিয়েছিলেন।
তাঁর বিরাট মেধার কোন তূলনা হয় না! অনেকগুলো ভাষায় পারঙ্গম ছিলেন। একইসাথে দুটো কাব্য লিখতে পারতেন। ইংরেজী ভাষায় তাঁর অত্যাশ্চর্যকীয় দখল সবাইকে চমকে দিত! কিন্তু নেটিভ লেখক হয়ে ইংরেজী লিখলেই তো ইংরেজের জাতে ওঠা যায় না! জানা যায় এই উচ্চাভিলাষ থেকেই তিনি খ্রীষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে যান ও মাইকেল নামটা এ সময়ে যোজিত হয়! তবে এতে লাভ কিছু হয়নি! ধর্মত্যাগী পুত্রকে পিতা পরিত্যাগ করেন! কলেজের অর্থে পড়াশোনা করে মাদ্রাজ চলে যান চাকরীর জন্য! বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি! চরম দারিদ্র্যতায় দিন কাটাতে হয়! এর মধ্যেই প্রথম ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি' রচনা করেন ও প্রথম বিবাহবন্ধনে জড়ান এক ইংরেজ মেয়ের সাথে! তাদের সংসার টিকেছিল আট বছর! দুই সন্তান জন্মেছিল। তারপর ডিভোর্স!
আইন পড়ার জন্য একবার লন্ডন গিয়েছিলেন- সেখানে বর্ণবাদী আচরণের স্বীকার হয়ে ফ্রান্সে চলে যান। শুধু খ্রীষ্টান হলেই তো হয় না! এমেলিয়া এঁরিয়েটার সাথে তাঁর বিয়ে ফ্রান্সে হয়েছিল কিনা এই মূহুর্তে মনে করতে পারছি না! সম্ভবত এটাও মাদ্রাজেই ঘটে। তবে মহাকবির চরম দূঃখপূর্ণ জীবনে নিজের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত পাশে ছিলেন এই ফরাসী রমণী! ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মাসে মাসে টাকা পাঠাতেন পড়াশোনার জন্য! বিদ্যাসাগরের বদান্যতায় আইন পড়া শেষ করে দেশে ফিরতে পেরেছিলেন। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি তাঁর পড়াশোনাকে জীবিকার প্রয়োজনে লাগাননি! তাই আমৃত্যু চরম দারিদ্র্যতার ভেতরে যেতে হয়েছে তাঁকে! মৃত্যুও ঘটেছিল মাত্র ৪৯ বছর বয়সে বলতে গেলে প্রায় কপর্দকহীন অবস্থায়!
'দ্যা ক্যাপটিভ লেডি' কবির বন্ধু গৌরদাস বসাকের মাধ্যমে বেথুন সাহেবের হাতে গিয়ে পড়ে! তিনি এই কাব্যগ্রন্থের প্রশংসা করলেও গৌরদাসকে বলেন- 'আপনার বন্ধুকে বাংলায় লিখতে বলুন।' মহাকবি এতে খুশী হননি! তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলা ভাষায় কখনো কোন উচ্চমানের সাহিত্য রচনা সম্ভব নয়! এটা একটা লোকজ কথ্য ভাষা মাত্র! ইংরেজীর মত গভীরতা এতে নেই! অবশ্য তিনি সে সময়েও তুড়ি বাজিয়ে বাংলা কবিতা লিখে দিতে পারতেন। এই ভুল ভাঙতে কবির দেরী হয় কিছুটা! ভুল ভাঙা কিনা সঠিক বলতে পারছি না- কারণ তাঁর হাত ধরেই বাংলা কাব্য এমন একটা উচ্চতায় গেছে যা তাঁর আগে কেউ করে দেখাতে পারেননি! মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির প্রেম তাঁকে বদলে ফেলেছিল আগাগোড়া! সংস্কৃত ভাষায় পান্ডিত্য থাকার দরুণ সংস্কৃত সাহিত্যের ভাব ও রচনাশৈলীকে দারুণ নান্দনিকতায় ফলিয়েছেন বাংলা লেখায়! 'মেঘনাদবধ' অন্যতম উদাহরণ! বাংলা সনেট প্রবর্তন করেছিলেন সংস্কৃতের 'অমিত্রাক্ষর', বাংলার লোককবিদের 'পয়ার' আর পেত্রার্কের ১৪ লাইনের আইন কানুন মেনে! তারপর তাতে দেন নিজের স্বকীয়তা! এটা এক অদ্ভুত সৃষ্টি! তবে তখন হয়ত অনেক দেরী হয়ে গেছে! টাকার জন্য লেখালেখি করতে হত অমন জমিদারপুত্রকে!
গ্লানিপূর্ণ জীবনে হয়ত একটু শান্তির হাওয়া পাবার জন্য গিয়েছিলেন দক্ষিণনেশ্বরে রামকৃষ্ণ পরমহংসের কাছে! তিনি এসেছিলেন কিন্তু একটা কথাও বললেন না! যশোলোভে স্বধর্মত্যাগী মধুসূদনের প্রতি অনুকম্পা হল না তাঁর! ব্যথিত মধুসূদন ফিরে এলেন! তাঁর সারাজীবন কেটেছে চরম আত্মগ্লানির ভেতর। শেষ দিকে আইন ব্যবসায় নামলেও নিজের অমিতব্যায়ী স্বভাব তাঁকে কখনো শান্তিতে রাখেনি। বরং ঋণগ্রস্থ হয়ে ভুগেছেন প্রচুর! তাঁর ব্যাক্তিজীবন যেভাবেই কাটুক না কেন তার বিরাটাকার প্রতিভা ও কীর্তি বাঙালীকে মুগ্ধ করে রেখেছে যুগের পর যুগ! কাব্য প্রসঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ এববার তাঁর প্রিয় বাঙাল শিষ্য শরচ্চন্দ্র চক্রবর্তীকে বলেছিলেন- "ঐ একটা অদ্ভুত genius(প্রতিভা) তোদের দেশে জন্মেছিল। ‘মেঘনাদবধে’র মতো দ্বিতীয় কাব্য বাঙলা ভাষাতে তো নেই-ই, সমগ্র ইওরোপেও অমন একখানা কাব্য ইদানীং পাওয়া দুর্লভ।" 'মেঘনাদবধ' এর বীররসাত্মক শৈলী স্বামীজিকে খুব আকৃষ্ট করত! বাঙালী নবজাগরণের এই পুরোধাপুরুষ জন্মেছিলেন ১৮২৪ খ্রীষ্টাব্দের আজকের এই দিনে! অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারী! যে বাঙলা সংস্কৃতি ও স্বধর্মে অবজ্ঞা তিনি দেখিয়েছিলেন, জীবনের যন্ত্রণাময় দিনগুলোতে তিনি বারবার শান্তি চেয়েছিলেন সেখানেই। তাই তাঁর সমাধিস্মারকে দেখি লেখা-

"'দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব
বঙ্গে! তিষ্ঠ ক্ষণকাল! এ সমাধি স্থলে
(জননীর কোলে শিশু লভয়ে যেমতি
বিরাম)মহীর পদে মহা নিদ্রাবৃত
দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন!
যশোরে সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ-তীরে
জন্মভূমি, জন্মদাতা দত্ত মহামতি
রাজনারায়ণ নামে, জননী জাহ্নবী''

2>জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলী হে মহাকবি

========================
"পরে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কথা তুলিয়া বলিলেনঃ
ঐ একটা অদ্ভুত genius(প্রতিভা) তোদের দেশে জন্মেছিল। ‘মেঘনাদবধে’র মতো দ্বিতীয় কাব্য বাঙলা ভাষাতে তো নেই-ই, সমগ্র ইওরোপেও অমন একখানা কাব্য ইদানীং পাওয়া দুর্লভ।
শিষ্য। কিন্তু মহাশয়, মাইকেল বড়ই শব্দাড়ম্বরপ্রিয় ছিলেন বলিয়া বোধ হয়।
স্বামীজী। তোদের দেশে কেউ একটা কিছু নূতন করলেই তোরা তাকে তাড়া করিস। আগে ভাল করে দেখ্-লোকটা কি বলছে, তা না, যাই কিছু আগেকার মতো না হল, অমনি দেশের লোকে তার পিছু লাগলো। এই ‘মেঘনাদবধকাব্য’—যা তোদের বাঙলা ভাষার মুকুটমণি-তাকে অপদস্থ করতে কিনা ‘ছুঁচোবধকাব্য’ লেখা হল! তা যত পারিস লেখ্ না, তাতে কি?সেই 'মেঘনাদবধকাব্য' এখনও হিমাচলের মতো অটলভাবে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তার খুঁত ধরতেই যাঁরা ব্যস্ত ছিলেন, সে-সব critic (সমালোচক)দের মত ও লেখাগুলো কোথায় ভেসে গেছে!মাইকেল নূতন ছন্দে, ওজস্বিনী ভাষায় যে কাব্য লিখে গেছেন, তা সাধারণে কি বুঝবে?"- (স্বামী-শিষ্য সংবাদ)

======================



3>মাইকেল মধুসূদন ও ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর।
ইংরেজি "E" অক্ষরটি নাই এমন কিছু লাইন।


Interesting read for English lovers

Once Ishwarchandra Vidyasagar jokingly asked Michael Madhusudhan Dutt, "As you are a master in English, can you make a sentence without using 'E'?"


He (  Michael Madhusudhan Dutt )  wrote this...

"I doubt I can. It’s a major part of many many words. Omitting it is as hard as making muffins without flour. It’s as hard as spitting without saliva, napping without a pillow, driving a train without tracks, sailing to Russia without a boat, washing your hands without soap. And, anyway, what would I gain? An award? A cash bonus? Bragging rights? Why should I strain my brain? It’s not worth doing."

==============================

No comments:

Post a Comment